ব্রেকিং নিউজ

২০ বছরে উন্নয়ন ২৫’শ কোটি টাকা, আমার ৪ বছরে উন্নয়ন ৬ হাজার কোটি টাকা: সিটি মেয়র

১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে উন্নয়ন কাজ হয়েছে প্রায় ২৫’শ কোটি টাকা। আর নিজের দায়িত্ব গ্রহণ পরবর্তী ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম নগর উন্নয়নে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

আজ ৩ ডিসেম্বর বিকালে চসিক কেবি আবদুচ ছাত্তার মিলনায়তনে মেয়রের নেতৃত্বে পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের গৃহীত ও বাস্তবায়িত কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন তার নেতৃত্বাধীন পরিষদের উন্নয়নযজ্ঞ প্রসঙ্গে একথা বলেন।
তিনি বলেন, আমার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নগরে পূর্বের ৫৬০ কিমি সড়ক বাড়িয়ে ৮১৬ কিমি সড়ক কার্পেটিং, ২২২ কিমি কংক্রিট সড়ক বাড়িয়ে ৩২৮ কিমি সড়ক কংক্রিট, ৬৮৩ কিমি পাকা নালা এখন করা হয়েছে প্রায় ৯৪৬ কিমি নালা পাকাকরন, ১৪৬ কিমি ফুটপাত বাড়িয়ে ২৭৮ কিমি ফুটপাত নির্মাণকরণ, ৯৯ কিমি গাইড ওয়াল নির্মান করা হয়েছে। তাছাড়া আগে ব্রিজ ছিল ১৮৮টি এখন ২১৯টি ব্রিজ, ৯৩২টি কালভার্টের স্থলে এখন হয়েছে ১০৪৮টি।
এছাড়াও বণ্যা জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের উন্নয়ন,নালা,গাইড ওয়াল নির্মাণে ৭১৬ কোটি টাকা, বিভিন্ন এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে ১২০ কোটি টাকা, ব্রিজ,সড়ক, সড়ক আলোকায়ন,যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৪২০ কোটি টাকা,বহদ্দার হাট থেকে বারই পাড়া পর্যন্ত খাল খননে ১২৫৬ কোটি টাকা, সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, বাস ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ বাবদ ১২৩০ কোটি টাকা, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ৭টি নিবাস নির্মাণে ২৩১ কোটি টাকা ও ভারত সরকারের অর্থ সহযোগিতায় নগরে এলইডি আলোকায়নে ২৬০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে।
ডোর টু ডোর ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করার লক্ষ্যে ৯ লক্ষ ছোট বিন ও ৩৪৩০ টি বড় বিন বিভিন্ন বাসা বাড়ি, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দেয়া হয়েছে। রাস্তার পাশের ডাস্টবিন অপসারণের আওতায় ১৩৭৫ টি ডাস্টবিন থেকে ৮২৫টি অপসারণ করা হয়েছে। নগরের আকাশ ঢেকে রাখা ৪ হাজার বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে।
নগরের সৌন্দর্য বর্ধন করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও নানামুখী সৌন্দর্য বর্ধন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মেয়র বলেন, শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রমে গতিচাঞ্চল্য আনার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা নীতিমালা প্রনয়ণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ, সহশিক্ষা চালুকরণ করা হয়েছে। পরিবেশ উন্নত করণ, শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে যুগোপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে প্রতি ওয়ার্ড মেয়র হেলথ কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সিটি মেয়র কর প্রদানে নগর বাসীর অনিচ্ছা অসচেতনতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, সিটি করপোরেশনের একমাত্র আয়ের উৎস গৃহকর ও রেইট আাদায়। কিন্ত কর প্রদানে জনগনের গড়িমসি নিতান্ত হতাশাজনক। বিগত আমলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের গৃহকর আয়ের হার ছিল ২৮%। নানা প্রচেষ্টার পর আমি এই হার ৩৮% এ উন্নীত করতে পেরেছি। সরকারের পক্ষ থেকে ১৭% গৃহকরের বাইরেও নগরবাসীর কাছ থেকে ৮% স্বাস্থ্য কর আদায়ের নির্দেশনা আছে। আমরা এই স্বাস্থ্য কর আদায় করি না। তবুও আমাদের গৃহকর আদায় আশাব্যঞ্জক শতাংশে উন্নীত করতে পারছি না।
অথচ উন্নয়ন প্রকল্প বাবদ সরকারের কাছে আমাদের ৭৮১ কোটি টাকা ম্যাচিং ফান্ড ও প্রায় ২০ কোটি টাকা রিফান্ড মানি বাবদ দেনা পড়ে আছে। আগামী ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এই দেনা পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে। দেনা পরিশোধ করতে না পারলে উন্নয়ন খাতে সরকারি সহযোগিতাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে একমাত্র আশা কর আদায়। কর আদায় বৃদ্ধি করতে না পারলে আমাদের সামনের সময় অনেক কঠিন হয়ে যাবে।
এর মধ্যেও বিমান বন্দর সড়কের চার লেনে উন্নীতকরণ, আধুনিক কসাই খানা নির্মাণ, স্মার্ট সিটি প্রকল্প, নগর ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চসিক প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা মো সামসুদ্দোহা, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রধান প্রকৌশলী লে কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান নগর পরিকল্পনা বিদ রেজাউল করিম চৌধুরী, সংরক্ষিত কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেমসহ গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:

About bdsomoy