মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৪

দয়াল নবী নূর

(১) প্রথমেই আমি সকলের প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই দীর্ঘ ৪/৫ দিন ধরে অনেকের সাথে বাহাস চলছে – এতো সহজ ভাবে বুঝাতে চেয়েছি যে দয়াল নবী নূর, অনেক প্রমান দিয়েছি তাতেও আপনাদের মনে নবীর মহব্বত জন্মাতে পারলাম না, বরই দঃখ জনক কথা। আমি তাই আবারো ২২ টি ক্রমিক নং দিয়ে একে একে দয়াল নবী যে সম্পূর্ন নুর তার প্রমান পেশ করলাম, এতে কোন সন্ধেহ নাই দয়াল নবী নূর – আমি হযরত জাবের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর বর্ণিত হাদীসটিতে তিনি বর্ননা করেন আমি নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে ল্য করে বল্লাম – ইয়া রাসুল-আল্লাহ্(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কোরবান হোক। আমাকে কি আপনি অবহিত করবেন যে, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন কোন বস্তু সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন? তদুত্তরে রাসূলে করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এরশাদ করেন – হে জাবির! সমসত্দ বস্তুর সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ্ তোমার নবীর নূরকে তাঁর আপন নূর হতে সৃষ্টি করেছেন (সুব্-হান আল্লাহ্)। আল্লাহ্র ইচ্ছায় ঐ নূর কুদরতে যেথায় সেথায় ভ্রমন করতেছিলো। ঐ সময় লওহ-কলম, বেহেসত্দ -দোজখ, ফেরেসত্দা, আসমান জমিন, চন্দ্র – সূযর্, জিন – ইনসান কিছুই ছিল না। দেখুন (মাওয়াহেবুল লাদুনি্নয়া, শরহে জুরকানী, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং -৮৯)। তিনি এইখানে “মিন নূরিহী” কথাটি বলেছেন, যার অর্থ আল্লাহর নূর হতে সৃষ্টি। এবং এই হাদীসটি সকলেই বলেছেন এটি সহী হাদিস। আর আপনাদের এই হাদীস শুনলে গাঁ জ্বলে।

(২) আমি (সূরা মরিয়মে আয়াত – ১৭) দ্বারা বুঝাতে চেয়েছি, অনেকে বলেছেন কি বুঝাতে চেয়েছেন? আমি বুঝাতে চেয়েছি – যে মূখ্য আলেমরা বাশার শব্দের অর্থ বলতে বার বার বুঝাতে চেয়েছে এর অর্থ মাটির তৈরী মানুষ। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা কুরআনে হয়রত জিব্রাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেও বাশার বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে এরশাদ করেন (সূরা মরিয়মে আয়াত – ১৭) আমি আমার রুহ (হযরত জিব্রাইল আঃ) কে তাঁর (হযরত মরিয়ম) প্রতি প্রেরণ করেছি, অতঃপর সে (জিব্রাঈল আঃ) তাঁর সামনে একজন পূনাঙ্গ সুঠোম “বাশার” বা মানুষ এর আকৃতিতে আত্ম প্রকাশ করেছেন। এখন শয়তানী দল নবীর দুঃশমনেরা বলুন “বাশার” শব্দের দ্বারা যদি মাটির মানুষ বুঝায় তাহলে কি হযরত জিব্রাইল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন? না নূরের তৈরী ফেরেশতা হয়েও বাশার বা মানবরুপে এসেছিলেন? সুতরাং মূর্খদের বলি দয়াল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও নূরের তৈরী বাশার বা মানুষ আকৃতি নিয়ে দুনিয়ায় এসেছেন। যেমনটি আল্লাহ্ হযরত (জিব্রাঈল আঃ) কে পাঠিয়েছিলেন। তাই বাশার শব্দের অর্থ হলো মানুষের আকৃতি/মানুষ/চামড়া ইত্যাদি।

(৩) আমি আরো সহজভাবে বুঝানোর জন্য বলেছিলাম – হযরত হাওয়া (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদম সনত্দান নন এবং কোন বীর্য দ্বারা সৃষ্টি নয়। তিনি হযরত আদম(আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাম পাজরের হাড় দ্বারা সৃষ্টি। (দেখুন তাফসীরে জালালাইন শরীফ) কিন্তু তিনিও মানুষ ছিলেন। হযরত ঈছা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কোন বীর্য দ্বারা সৃষ্টি নন কারণ তাঁর পিতা নেই। তিনি আল্লাহর রুহ যা হযরত জিব্রাইল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফুকদিয়ে হযরত মরিয়ম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর মধ্যে দান করেছিলেন। তা দ্বারা সৃষ্টি কিন্তু তিনিও মানুষ ছিলেন। তদ্রুপ নবী করীম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমসত্দ মাখলুক এমনকি হযরত আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সৃষ্টির হাজার হাজার বছর পূর্বে যখন মাটি পানি কিছুই ছিলনা তখন আল্লাহৰ নূর দ্বারা সৃষ্টি।

(৪) তাফসীরে রুহুল বয়ানে সুরা তাওবার আয়াত নং – ১২৮ এ অল্লাহ্ বলেন ” তোমাদের নিকট এক মহান রাসূলের আগমন হয়েছে” এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কোথা হতে আসলেন – সে সম্পর্কে হযরত আবু হোরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নিন্মোক্ত হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে।

(৫) হাদীসটি হলো ঃ একদিন নবী করীম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কথা প্রসঙ্গে হযরত জিব্রাইল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে তাঁর বয়স সম্পর্কে এভাবে জিজ্ঞাস করলেন – হে জিব্রাইল তোমার বয়স কত? তদুত্তরে হযরত জিব্রাইল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বল্লেন – আমি শুধু এটুকু জানি যে, নূরের চতুর্থ হিজাবে একটি উজ্জ্বল তারকা ৭০ হাজার বৎসর পর পর একবার ইদিত হত। (অর্থাৎ সত্তর হাজার বৎসর উদিত অবস্থায় এবং সত্তর হাজার বৎসর অসত্দমিত অবস্থায় ঐ তারকাটি বিরাজমান ছিল)। আমি ঐ তারকাটিকে ৭২ হাজার বার উদিত অবস্থায় দেখেছি। তখন নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)বল্লেন – খোদার শপথ, আমিই ছিলাম ঐ তারকা”। এতে হযরত জিব্রাইল তখন বুঝতে পারলো দয়াল নবীর বয়স তার চেয়েও বেশী। (সুবহান-আল্লাহ্)। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ৩য় খন্ড ৫৪৩ পৃঃ সূরা তওবা এবং সীরাতে হলবিয়া ১ম খন্ড ৩০ পৃষ্ঠা)।

হযরত কা’ব আহবার (তাবেয়ী) বলেনঃ ” যখন আল্লাহ পাক হযরত মোহাম্মদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে দেহকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা কররেন, তখন তিনি জিব্রাইল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এমন একটি খামির নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ করেন – যা ছিল পৃথিবীর ” কলব, আলো ও নূর” (মাটি নয়)।

(৬) এখানে সবচেয়ে আশ্চর্য ঘটনা হলো কা’ব আহবার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পূর্বে একজন বড় ইহুদী পন্ডিত ছিলেন” রাসূলের(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে তিনি মুসলমান হননি। সুতরাং সাহাবী নন। তিনি হযরত ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর খেলাফতকালে মুসরমান হয়ে তাবেয়ীনদের মধ্যে গন্য হন। তাই তার হাদীসখানা তাঁর নিজস্ব ভাস্য এবং হাদীসটি যদি আমরা ৩য় পর্যায়ে রাখি যে হাদীসটি দুর্বল – কিন্তু তদুপরি ” আশ্চর্য হলেও সত্য হযরত কা’ব আহবার উল্লেখিত হাদীসটি অনেকভাবে সত্য প্রমানিত হয়েছে। আর আজ আপনারা নামধারী মুসলমান হয়ে সাহাবাদেও হাদীসকে অস্বীকার করেন, ওলীদের কথা অস্বকিার করেন. . . যা নির্বোধদের কাজ.. . ..আল্লাহ ” তি্বনাত” শব্দটি ব্যবহার করেছেন যার অর্থ মাটি নয় বরং খামির। এই খামিরের ব্যাখ্যা করা হয়েছে যারকানী শরীফে এর অর্থ হলো – উক্ত খামির ছিল পৃথিবীর কলব, আলো ও নূর। তথা নূরে মোহাম্মদী। সতরাং জিব্রাইল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংগৃহতি খামিরটি মাটি ছিলো না – বরং রওযার মাটিতে রতি নূরে মোহাম্মদী খামিরা (যারকানী)।

(৭) দয়াল নবীর নূরের দেহ মোবারকের ঃ ৯ টি দলীল পেশ করলাম ঃ-

১/ যারকানী শরীফের ৪র্থ খন্ড ২২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে ঃ

“সূর্য চন্দ্রেও আলোতে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা। কেননা তিনি ছিলেন আপাদমসত্দক নূর”। (যারকানী)

২/ ইমাম কাযী আয়ায (রহঃ) শিফা শরীফের ১ম খন্ড ২৪২ পৃষ্ঠায় লিখেনঃ

নূরের দলীল হিসাবে ছায়াহীন দেহের যে রেওয়ায়াতটি পেশ করা হয়, তা হচ্ছে ” দিনের সূর্যের আলো কিংবা রাত্রের চাঁদের আলো কোনটিতেই হুযুরের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা” কারণ তিনি ছিলেন আপাদমসত্দক নূর। (শিফা শরীফ)

(৮) ৩ – ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী (রহঃ) আন-নে’মাতুল কোবরা গ্রন্থের ৪১ পৃষ্ঠায় হাদীস লিখেনঃ
হাদীসটি হলোঃ হযরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত তিনি বলেন, আমি রাত্রে বাতির আলোতে বসে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাপড় মোবারক সেলাই করছিলাম। এমন সময় প্রদীপটি (কোন কারনে) নিভে গের এবং আমি সুঁচটি হারিয়ে ফেললাম। এর পরপরই নবী করিম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্ধকারে আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁর চেহারা মোবারকের নূরের জ্যেতিতে আমার হারানো সঁইটি খুঁজে পেলাম। (সোবহানাল্লাহ্)। মা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন নূরের চেহারা আর বর্তমানে আমাদের দেশের শয়তানের দলেরা বলে মাটির চেহারা (নাউযুবিল্লাহ্)।

(৯) ৪ – মাওলানা আব্দুল আউয়াল জৌনপুরী সাহেব তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন – “নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মায়ের গর্ভেই যে নূর ছিলেন – এর দলীল হচ্ছে যাকারিয়ার বর্ণিত হাদীস” – নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)নয় মাস মাতৃগর্ভে ছিলেন, এ সময়ে বিবি আমেনা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কোন ব্যথা বেদনা অনুভব করেননি বা কোন রোগে আক্রানত্দ হননি এবং গর্ভবতী অন্যান্য মহিলাদের মত কোন আলামতও তাঁর ছিলনা। হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর দেহ যে মাতৃগর্ভে নূর ছিল।

(১০) ৫ – মিশকাত শরীফে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এরশাদ করেছেন –

” আমার জন্মের প্রাক্কালে তন্দ্রাবস্থায় আম্মাজান দেখেছিলেন ু এশটি নূও তাঁর গর্ভ হতে বের হয়ে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ পর্যনত্দ আলোকিত করেছে”। ” আমি আমার মায়ের দেখা সেই নূর” (মিশকাত শরীফ)

(১১) ৬ – ইমামে আহ্লে সুন্নাত শাহ্ আহমদ রেযা খান বেরলভী (রহঃ) হাদায়েকে “বখ্শিশ” গ্রন্থের ২য় খন্ড ৭ পৃষ্ঠায় ছন্দে লিখেন ঃ

” হে প্রিয় রাসূল ! আপনিতো আল্লাহর নূরের প্রতিচ্ছবি বা ছায়া। আপনার প্রতিটি অঙ্গই এক একটি নূরের টুকরা। নূরের যেমন ছায়া হয়না, তদ্রুপ ছায়ারও প্রতিচ্ছায়া নেই। কেননা আপিনি নূর এবং আল্লাহ্র নূরের ছায়া।

(১২) ৭ – মকতুবাতে ইমামে রাব্বনী ৩য় জিলদ মকতুব নং ১০০ তে হযরত মোজাদ্দেদ আলফেসানী (রহঃ) লিখেছেন – (অনুবাদ) ” হযরত রাসুল করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সৃষ্টি কোন মানুষের সৃষ্টির মত নয়। বরং নশ্বর জগতের কোন বস্তুই হযরত নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। কারণ, আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে স্বীয় নূর দ্বারা সৃষ্টি করেছেন”।

(১৩) ৮ – আশ্রাফ আলী থানবী তার নমরুতত্বীব গ্রন্থের ৫ পৃষ্ঠায় হাদীসটি লিখেছেন – “হে জাবের ! আল্লাহ তায়ালা আপন নূরের ফয়েয বা জ্যোতি হতে তোমার নবীর নূও সৃষ্টি করেছেন” (নশরুত ত্বীব ৫ পৃষ্ঠা) যা আমি আগেও বর্ননা করেছি।

(১৪) ৯ – তাফসীরে সাভী ছুরায়ে মায়েদার “কাদ্ব-যাকুম মিনাল্লানহ্ নূর” এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন – “আল্লাহ্পাক তাঁকে নূর বলে আখ্যায়িত করার কারণ হচ্ছে তিনি সকল দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান নূর সমূহের মূল উৎস”।

(১৫) অতএব, উপরোক্ত যে ৯ টি প্রমান দিলাম যারা এই হাদীসগুলোকে বর্ননা করেছেন তাদের বিরোধীতা করা কারো প েসম্ভব না কারণ, তাদের পায়ের ধুলোর সমানও না আমরা।

আর সর্বশেষে বলতে চাই দয়াল নবীর শানে যারা এই জঘন্য পোষ্টটি তৈরী করেছেন এবং এই পোষ্টটিকে লাইক কওে যারা এর প েসাফাই গেয়েছেন তাঁদের উপর আল্লাহ্র অবশ্যই আযাব আসবে। কারণ আল্লাহ উনার বন্ধুর বিরুদ্ধে বেয়াদবী সহ্য করেন না ঃ-

(১৬) কারণ ঃ আল্লাহ্ যিনি আমাদের খালেক তিনি উনার বন্ধুর মতব্বতে দুরুদ পাঠ করছেন এবং ফেরেসত্দারাও নবীর শানে দুরুদ পাঠ করছেন। আল্লাহ্ বলেছেন তাজিমের সহিত আমার বন্ধু শানে দুরুদ পাঠ করো। আল্লাহ উনার বন্ধুর মহব্বতে – বাক্কা নগরীকে মুহাম্মদ নামের সাথে মিল রেখে নাম রেখেছেন মক্কা নগরী ঠিক এমনি ভাবে নাম রেখেছেন মদীনা . . . যিনি উনার বন্ধুর মহব্বতে দিনের প্রথম নামায শুরু করেছেন ২ রাকাত সুন্নত নামায দিয়ে (সোব্হান- আল্লাহ্)। সারা দুনিয়া কেয়ামতে ধ্বংশ হয়ে যাবে তখন নবীর জিকির করার জন্য কোন উম্মত থাকবেনা কোন মাখলুক থাকবেনা সব বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু আমার/আপনার দয়াল নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জিকির বন্ধ হবে না। তখন স্বংয় অল্লাহ্ নবীর জিকির করতে থাকবেন। এটা আমার কথা না এটা স্বংয় অল্লাহ্র কথা – যে আমার বন্ধুর জিকির বন্ধ হবে না।

(১৭) আল্লাহ্ যখন কোরআন নাজিল করেছেন – আমার রাসূল যেখানে গেছে সেখানেই কোরআনের আয়াত চলে গেছে কোন নির্দিষ্ট স্থান ছিলো না যেমন হযরত মূসা নবীর জন্য তূর পাহার নির্দিষ্ট ছিলো, আমার নবীকে যখন-ই কোন আয়াত আল্লাহ্ বলতে বলেছেন তখনই অল্লাহ্ বলেছেন হে নবী আপনি বলুন, এখানে অল্লাহ্ বলতে পারতেন হে নবী অপনি বলুন অল্লাহ্ বলছে, কিন্তু অল্লাহ্ তার বন্ধুর শান বুলন্দ রাখার জন্য উচ্চ মর্যাদার আসনে রাখার জন্য তা বলেননি। যেই নবীর শানে কোন দোয়া/মোনাজাতে দুরুদ না পড়লে সেই দোয়া আল্লাহ্ কবুল করবেন না। যে নবীর শানে নামাযে নবীকে সালাম না দিলে নামাযও কবুল হবে না। যে নবীর মিল্লাতে একজন মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে নামানো হয় তখন নবী মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর মিল্লাতে আমরা কবরে নামাই। সেই জালিম মূখ্যের দল এটাওকি বুঝে না যে নবী যদি জিন্দাই না হয় তাহলে আমরা কেন উনার মিল্লাতে কবরে মৃত ব্যক্তিকে নামাই।

(১৮) দয়াল নবীর প্রতি তাই মহব্বতে আরেকটি নামে ডাকা হয় সেটা হলো ( নূরে মুজাস্বম) সম্পূর্ন নূরের তৈরী। (সুবহান-অল্লাহ্)

(১৯) যে নুর শব-ই-মেরাজে অল্লাহৰ সাথে দীদার করেছিলেন … যাকে বলা হয় (কাবা কাওসাইন) যেখানে দয়াল নবীর নূরের সাথে আল্লাহ্র নূরের দীদার হয়েছিলো।

(২০) যে নূরের মতা এতা প্রখর – যার জন্য হযরত জীবরাইল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেরাজে রাত্রিতে নবীর নুরের কাছে পরাজিত। মিরাজের রাত্রিতে – হযরত জিব্রাইল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিন্তু সিদ্রাতুল মোনত্দাহা থেকেই আল্লাহ তায়ালার যাবতীয় নির্দেশ গ্রহণ করতেন। মেরাজের রাত্রিতে সিদ্রাতুল মোনত্দাহা পৌছে হযরত জিব্রাইল(আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কাছ থেকে বিদায় নিলেন এবং বল্লেন ইয়া রাসূল আল্লাহ্ ” সিদ্রাতুল মোনত্দাহা থেকে এক আঙ্গুল ু অন্য রেওয়ায়তে চুল পরিমান অগ্রসর হলে আমার নূরের পাখা তাজাল্লীতে জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যাবে”। সোব্হান-আল্লাহ্ – অতঃপর আমার নূরের নবী উনার নূরের মতায় একাই আল্লাহ্র সাথে দীদার করেছেন যে জায়গাটির নাম “কাবা কাওসাইন”।

(২১) যে নবীর জুতা মোবারক নিয়ে লা মাকানের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন – আর সমসত্দ সৃষ্টি জগৎ দয়াল নবীর কদমের তলে রয়ে গেলো . . . এতে আল্লাহ সকল নবী রাসূল ও সকল মাখলুক-কে দেখিয়ে দিয়েছেন যে আমার বন্ধুর কদমের নিচে সমসত্দ জগৎ। তার মর্যাদার কাছে কেহ সমত্থল্য নয়।

(২১) হযরত ওসমান (জ্জীল্লুল নূরাইন) দয়াল নবীর দুই কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন, একজন কন্যার মৃত্যুর পর আর তাই তো হযরত ওসমানকে বলা হয় (দ্বীল্লুল নূরাইন) বাংলায় শব্দটি সঠিক হচ্ছে না এটা উচ্চরন হতে পারে (জ্জীল্লুল নূরাইন) অর্থাৎ দুই নূরের অধীকারী। (সুবহান-অল্লাহ্) এতে বুঝা যায় নবী তো নূরই নবীর আওলাদরাও নূর।

(২২) সারা দিন নবীর শান লিখতে থাকবো আমি মোঃ জরিফ কেয়ামত হয়ে যাবে তবুও নবীর শান মোজেজা লিখা শেষ হবে না। তাই নূর নবীর শানে যারা বেয়াদবী মূলক কথা বলে তাদের জন্য আল্লাহ্র তরফ থেকে কঠিন শাসত্দি ও আজাব বর্সিত হইবে। এতে কোন সন্দেহ নাই। . . . . আমীন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ