সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০২৪
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনদশ ট্রাক অস্ত্র মামলা: মনিরুজ্জামানের জেরা অব্যাহত

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা: মনিরুজ্জামানের জেরা অব্যাহত

ulfaচাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় অধিকতর তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির চট্টগ্রাম জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.মনিরুজ্জামান চৌধুরীকে জেরা অব্যাহত রেখেছেন আসামীপক্ষের আইনজীবী। চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমানের আদালতে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।
মঙ্গলবার মনিরুজ্জামানকে পঞ্চম দিনের মত জেরা করেন আসামি সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক ও হাফিজুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার জেরার শুরুতে আইনজীবী তদন্তকারী কর্মকর্তা মো.মনিরুজ্জামানের কাছে সম্পূরক অভিযোগপত্রে উল্লিখিত আসামীদের মধ্যে কতজনকে সিআইডি কার্যালয়ে আর কতজনকে কার্যালয়ের বাইরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সে বিষয়ে জানতে চান। এছাড়া সাক্ষীদের মধ্যে কতজনকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল তা-ও জানতে চান। তদন্তকারী কর্মকর্তা ২৫ থেকে ৩০ জন হতে পারে বলে উত্তর দিলে আইনজীবী তাদের নাম জানতে চান। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা একে একে সবার নাম উল্লেখ করেন।
জেরার এক পর্যায়ে আইনজীবী সাজেশন দেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্যাতনের মাধ্যমে আসামী হাফিজুর রহমানের কাছ থেকে জবানবন্দি আদায় করেছেন। জবাবে মনিরুজ্জামান বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান।

মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার কার্যক্রম শুরুর পর এক ঘণ্টার মধ্যাহ্ন বিরতি ছাড়া বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলে জেরা। এরপর অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমানের জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আদালত এ মামলার কার্যক্রম বুধবার পর্যন্ত মূলতবি করেন।
ল্লেখ্য ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানটি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইনে ও চোরাচালানের অভিযোগে দু’টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় ঘাট শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ প্রায় অর্ধশত আসামী করা হয়।
মামলা দু’টির সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপক্ষের তৎকালীন কৌসুলী মহানগর পিপি আহসানুল হক হেনার আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন আদালত।

প্রায় সাড়ে তিন বছর অধিকতর তদন্তের পর ২০১১ সালের ২৬ জুন নতুনভাবে আরও ১১ আসামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের তৎকালীন এএসপি মো.মনিরুজ্জামান।

এরপর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিচার। সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে এ মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক শিল্পসচিব ড. শোয়েব আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুক, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএইফআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম, এনএসআই’র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুর রহমান চৌধুরী, ডিজিএফআই’র সাবেক ডিটাচমেন্ট কমান্ডার কর্নেল (অব) একেএম রেজাউর রহমান, এনএসআই’র সাবেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী এবং সাবেক সিএমপি কমিশনার এস এম সাব্বির আলী, সিএমপি’র বন্দর জোনের তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ হেল বাকী, সাবেক ডিআইজি (এসবি) শামসুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি (সিআইডি) ফররুখ আহমেদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদুর রহমান, সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন, সার্জেন্ট আলাউদ্দিন, গ্রীণওয়েজ ট্রান্সপোর্টের মালিক হাবিবুর রহমান, ম্যানেজার তসলিম মল্লিক, ট্রাক ভাড়া করার মধ্যস্থতাকারী শেখ আহমদ, হাবিলদার গোলাম রসুল, কর্ণফুলী থানার সাবেক ওসি আহাদুর রহমান এবং সিইউএফএলদর সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মবিন হোসেন খান, বিচারক ওসমান গণি, মো.মাহাবুবুর রহমান, আবু হান্নান ও মুনতাসির আহমেদ, সাবেক মহানগর হাকিম কিরণ চন্দ্র রায়, সিইউএফএল’র উপ ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) গোলাম মোস্তফা, বন্দর ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল কে এম মহিউদ্দিন, সিইউএফএল’র সাবেক এমডি আব্দুস সালাম খান, সেনাবাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ তাইয়েবুর রহমানসহ ২৯ জন ইতোমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার পঞ্চম তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এ মামলার ৩০ তম সাক্ষী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ