সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০২৪
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনঢিলেঢালা হরতালে স্বাভাবিক নগরজীবন

ঢিলেঢালা হরতালে স্বাভাবিক নগরজীবন

অন্যান্য হরতালের মতো গতকালের হরতালেও নগরীতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। সকালের দিকে সড়কে যান চলাচল কম থাকলেও দুপুরের পর জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসে। নগরীর কয়েকটি স্থানে মিছিল-সমাবেশ করলেও পিকেটিং নিয়ে কর্মীদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

তবে দলের নেতারা দাবি করেছেন, ‘পিকেটিং না হলেও নগরীতে স্বতস্ফূর্তভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে হরতারের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। রাস্তায় তেমন যানবাহন চলেনি।’

ঢাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল ও আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট গতকাল দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা এই হরতাল পালন করে।

হরতাল চলাকালে নগরীর কয়েকটি স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণ, ওয়াসার মোড়ে দু’টি সিএনজি অটোরিক্সা এবং টাইগারপাসে একটি বাসের কাঁচ ভাংচুরের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোথাও বড় ধরনের সহিংসতা হয়নি। হরতালের সমর্থনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল হরতাল শুরুর পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর ওয়াসার মোড়ে কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনির নেতৃত্বে মহিলা দলের একটি মিছিল বের হয়। এরপর কাজীর দেউড়ি থেকে বিএনপির একটি   মিছিলও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। এসময় সেখানে পরপর দু’টি ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটে। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা এসময় দু’টি চলন্ত অটোরিক্সায় ঢিল ছুঁড়ে সেগুলোর সামনের কাঁচ ভেঙ্গে দেয়। এরপর টাইগারপাসেও একটি চলন্ত যাত্রীবাহী মিনিবাসে ঢিল ছুঁড়ে পিকেটাররা। এতে এর সামনের কাঁচ ভেঙ্গে যায়।

এদিকে, ১৮ দলের হরতাল হলেও  বিএনপি ছাড়া জোটের অন্য দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। তবে হরতালের শেষ বিকালে নাসিমন ভবন এলাকায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের কিছুক্ষণের জন্য দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে গাড়ি চলাচল করেছে। সকাল থেকে নগরীর ইপিজেড মোড়, অলংকার মোড়, বাদামতলী, জিইসি মোড়, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, নিউমার্কেটসহ সর্বত্র সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টেম্পো, হিউম্যান হলার ও যাত্রীবাহী বাস চলেছে। সকাল ১০টার পর প্রাইভেট কার, জিপসহ ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ি চলাচল বাড়ে। তবে নগরী থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। ট্রেন ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠা-নামাও ছিল স্বাভাবিক। ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও লেনদেন চলেছে সীমিত আকারে। অফিস আদালতে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। নগরীর বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ-কর্ম স্বাভাবিক ছিল। তবে বেশির ভাগ এলাকায় দোকানপাট ও বিপণিবিতান ছিল বন্ধ। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি।

এদিকে, হরতাল প্রতিহত করতে  মাঠে সক্রিয় ছিল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা নগরীর বিভিন্ন স্থানে হরতাল বিরোধী মিছিল ও সমাবেশ করে। নগরীর আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা মিছিল-সমাবেশ করে হরতালের বিরুদ্ধে।

হরতালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি স্থানে ছিল পুলিশের সতর্ক পাহারা। পাশাপাশি বিজিবি ও র‌্যাবের টহলও ছিল।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ