সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনগ্রামীণ ব্যাংক ভাঙা যাবে না, এটি আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির প্রতিষ্ঠান নয়...

গ্রামীণ ব্যাংক ভাঙা যাবে না, এটি আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির প্রতিষ্ঠান নয় – ড. মুহাম্মদ ইউনূস

younus ctgগ্রামীণ ব্যাংক ভাঙা যাবে না, এটি আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির প্রতিষ্ঠান নয়। বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, সরকার এখন বলছে গ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে দেবে। একটি কাগজে স্বাক্ষর করলেই গ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে ফেলতে পারে। কিন্তু দেশের মানুষ জেগে উঠলে তা পারবে না। মানুষ প্রতিরোধ করলে সরকার চাইলেও তা ভাঙতে পারবে না।

ড. ইউনুস বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক আইন নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন ছিল না। এ ব্যাংক নোবেল জয়ী একটি প্রতিষ্ঠান। যে আইন দ্বারা নোবেল জয় করা হয়েছে সে আইন আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেয়া যাবে না।

কমিশনের সুপারিশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, গ্রামীণ ব্যাংককে যদি ধ্বংস করতে চায় তাইলে টুকরো টুকরো করা যাবে। এটি সরকারি করলেও ধ্বংস করা হবে।

তিনি আর বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জামায়াতের কোনো প্রতিষ্ঠান নয়।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ শেয়ারের মালিক গ্রাহক এবং বাকি ৩ শতাংশের মালিক সরকার। অথচ সরকার এখন ৫১ শতাংশ শেয়ার নিতে চাইছে। এটা কোনো আইন হতে পারে না, এটা এক ধরনের ছিনতাই।

তিনি বলেন, অনেকে না বুঝে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সমালোচনা করেন। গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার অন্য ব্যাংকের চেয়ে বেশি বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তাও তিনি অস্বীকার করেন।

বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনুস বলেন, এতে ক্ষতি হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের অবস্থান মাঝামাঝিতে। অনেকে এ বন্দর ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু আমাদের বন্দর প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ছোট।

নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ‘নোবেলজয়ী ইউনূস সুহৃদ, চট্টগ্রাম’ আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ‘দিক নির্দেশনামূলক’ বক্তব্য দেন তিনি।  মিলনায়তনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উপদেশ ও পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন ইউনূস।

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেনের সঞ্চালনায় প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মু. সিকান্দার খান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তা করে আমরা নিজেদের হেনস্তা করছি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই অধ্যাপক নিজেকে মহাজোট সরকারের সমর্থক দাবি করে বলেন, ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে তিনি মহাজোট সরকারের বিরোধী।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল পাওয়ায় ইউনূসের জন্য এ সংবর্ধনার আয়োজন করেছে  ‘নোবেলজয়ী ইউনূস সুহৃদ, চট্টগ্রাম’।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আলমগীর মো. সিরাজউদ্দিন, ডা. ফজলুল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ন মাহমুদ চৌধুরীও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ