মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৪
প্রচ্ছদজাতীয়খালেদা জিয়ার দুই ছেলে, প্রয়াত ভাই, বিএনপির সাবেক দুই মন্ত্রীসহ কয়েকজন নেতার...

খালেদা জিয়ার দুই ছেলে, প্রয়াত ভাই, বিএনপির সাবেক দুই মন্ত্রীসহ কয়েকজন নেতার ১৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ঋণ বকেয়া রয়েছে-প্রধানমন্ত্রী

pm sanshadরাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ১৫ হাজার ১১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা বকেয়া থাকার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর তথ্যে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার দুই ছেলে, প্রয়াত ভাই, বিএনপির সাবেক দুই মন্ত্রীসহ কয়েকজন নেতার ১৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ঋণ বকেয়া রয়েছে।

এসবের মধ্যে ৩২১ কোটি ৫২ লাখ টাকা মন্দ পর্যায়ে খেলাপি ঋণ। এই ঋণ সব খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয় ও বিএনপির নেতাদের। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া ও খেলাপি ঋণেরও হিসাব রয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য লিখিত আকারে উপস্থাপন করেন, যা টেবিলে উত্থাপিত হয়। বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ড্যান্ডি ডায়িং লি., খাম্বা লি., গিয়াসউদ্দিন আল মামুনসহ কয়েকজন বিএনপি নেতার ১৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৯৮০ কোটি দুই লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ বকেয়া রয়েছে, যার বিরাট একটি অংশ হলো কু-ঋণ বা মন্দ ঋণ।’
শেখ হাসিনার তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকে ড্যান্ডি ডায়িংয়ের বকেয়া ৪০ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যার পুরোটাই মন্দ পর্যায়ের খেলাপি ঋণ। ড্যান্ডি ডায়িংয়ের পরিচালকেরা হলেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, ভাই প্রয়াত সাইদ এস্কান্দর, খালেদা জিয়ার সন্তানদের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, মোজাফফর আহমেদ ও নাসরীন আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের প্রতিষ্ঠান প্রিকাস্ট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের কাছে এবি ব্যাংকের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যার পুরোটাই মন্দ পর্যায়ের খেলাপি ঋণ। মামুনের আরেক প্রতিষ্ঠান খাম্বা লিমিটেডের কাছে জনতা ব্যাংকের বকেয়া ২৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, এর পুরোটাই মন্দ পর্যায়ে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত।
গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ওয়ান স্পিনিং মিলের কাছে প্রাইম ব্যাংকের বকেয়া আট কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬৫ লাখ টাকা বকেয়া আর আট কোটি ২ লাখ টাকা মন্দ ঋণ। ওয়ান স্পিনিং মিলের কাছ সোনালী ব্যাংকের বকেয়া ঋণ ৫৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর পুরোটাই মন্দ ঋণ। ওয়ান ডেনিম লিমিটেডের জনতা, এশিয়া, ডাচ-বাংলা, ইবিএল, সাউথইস্ট এবং সিটি ব্যাংকের কাছে বকেয়া ১৭০ কোটি ৪০ লাখ। এর পুরোটাই মন্দ ঋণ।
সাংসদ নিলোফার চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যে ঋণ নিয়েছে, তার বকেয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেতাদের ব্যাংক ঋণের বকেয়া ও খেলাপির তথ্য প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরকারি ব্যাংকগুলোর (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী) বকেয়া বাবদ ১৫ হাজার ১১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার হিসাব দেন। এর মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাংকগুলোর মোট ২৮৩ কোটি তিন লাখ টাকা বকেয়া ঋণের ২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা শ্রেণীকৃত। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কাছে মোট বকেয়া এক হাজার ৫৩৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার মধ্যে ৩৫২ কোটি ৩১ লাখ টাকা শ্রেণীকৃত। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের কাছে ১৬৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা বকেয়ার মধ্যে ১৫৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা শ্রেণীকৃত। বিডি কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের কাছে মোট দুই হাজার ৬০০ কোটি ১৯ লাখ টাকা বকেয়ার ৮৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা শ্রেণীকৃত ঋণ রয়েছে।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ