সোমবার, মে ২০, ২০২৪
প্রচ্ছদখেলার সময়ম্যারাডোনাকে পিছনে ফেলে দিলেন লিওনেল মেসি

ম্যারাডোনাকে পিছনে ফেলে দিলেন লিওনেল মেসি

mesi-meradunaকিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে পিছনে ফেলে দিলেন লিওনেল মেসি। পঁচিশ বছর বয়সেই আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন বিশ্ব ফুটবলের সেরা তারকা। চোট কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর প্রথম একাদশে ফিরেই ম্যাজিক দেখালেন আর্জেন্টিনীয় সুপারস্টার। সেই সঙ্গে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় সমালোচনাকে। প্রস্তুতি ম্যাচে গুয়াতেমালার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করলেন মেসি।

আর সেই হ্যাটট্রিকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গোলসংখ্যায় মেসি পেরিয়ে গেলেন ম্যারাডোনাকে। আকাশি-সাদা জার্সিতে ৯১ ম্যাচে ৩৪ গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। ৮২ ম্যাচে ৩৫ গোল হয়ে গেল মেসির।
মেসি এখন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও। যৌথভাবে হারনান ক্রেসপোর সঙ্গে দুইয়ে আছেন তিনি। সামনে কেবল ‘বাতিগোল’। আর্জেন্টিনার হয়ে ৭৮ ম্যাচে ৫৬ গোল করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। মেসির বয়স মাত্র ২৫। সামনে পড়ে আছে লম্বা সময়। আর যেভাবে এখন জাতীয় দলের হয়েও ফুল ফোটাচ্ছেন, বাতিস্তুতাকেও পেরিয়ে যাবেন নিশ্চিত!
সত্যিই জাতীয় দলের হয়েও মেসি এখন অবিশ্বাস্য। সর্বশেষ নয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে এটি তাঁর তৃতীয় হ্যাটট্রিক। এই নয় ম্যাচে করেছেন ১৬ গোল! প্রতিপক্ষ হয়তো গুয়াতেমালার মতো দুর্বল দল ছিল, তার পরও হ্যাটট্রিক হ্যাটট্রিকই। আর মেসির এই ইনজুরি থেকে পুরোপুরি ফেরার রাতে আর্জেন্টিনাও প্রীতি ম্যাচটা জিতেছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে।
নিজেদের মাঠে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে পিছিয়ে গিয়েছিল গুয়াতেমালা। ১৫ মিনিটে গোলের শুরুটা মেসিই করেছিলেন। ৪০ মিনিটে দলের তৃতীয় গোলটিও করেছেন পেনাল্টি থেকে। মাঝখানে ৩৫ মিনিটে গোল করেন স্প্যানিশ ক্লাব সেল্টা ভিগোতে খেলা উইঙ্গার অগাস্তো ফার্নান্দেজ। দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ফেলেন দুই ম্যাচ পর প্রথম একাদশে ফেরা মেসি। ৬৮ মিনিটে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসার সময় গুয়াতেমালা সিটির গ্যালারি ভর্তি দর্শক দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাঁকে। দলের হারের চেয়েও মেসি-জাদু দেখার তৃপ্তি যে পেয়েছে তারা!
তবে এই আশার মধ্যেও একটা সতর্কবাণী শুনিয়েছেন আর্জেন্টিনার ফিটনেস কোচ ফার্নান্দো সিগনোরিনি। ক্লাবের হয়ে এখন এত এত ম্যাচ খেলতে হয়, ২০১৪ বিশ্বকাপে সতেজ-ফুরফুরে মেসিকে পাওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে সংশয় আছে তাঁর। স্প্যানিশ ক্রীড়াদৈনিক মার্কাকে সিগনোরিনি বলেছেন, ‘ষাট-সত্তরের দশকে খেলোয়াড়েরা বড়জোর বছরে ৮০-৯০টা ম্যাচ খেলত। এখন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়কে ১২০টির মতো ম্যাচ খেলতে হয় যদি আপনি বার্সেলোনা ও জাতীয় দলের ম্যাচগুলো হিসাবে নেন। তিন বছর ইনজুরিমুক্ত ছিল মেসি। কিন্তু গত আড়াই মাসে সে বেশ কবার চোটে পড়েছে। আধুনিক ফুটবলের যে চাহিদা, সেটি মিটিয়ে এক শটির বেশি ম্যাচ খেলার পর শতভাগ ফিট থাকা অসম্ভব।’
আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ পাঁচ গোলদাতা
খেলোয়াড় গোল ম্যাচ
গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ৫৬, ৭৮
হারনান ক্রেসপো ৩৫, ৬৪
লিওনেল মেসি ৩৫, ৮২
ডিয়েগো ম্যারাডোনা ৩৪, ৯১
লিওপোলদো লুকি ২৪, ২৫
আরও পড়ুন

সর্বশেষ