সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪
প্রচ্ছদদেশজুড়েবরগুনায় ৫ মাসে নির্যাতনের শিকার ৮৭ নারী

বরগুনায় ৫ মাসে নির্যাতনের শিকার ৮৭ নারী

barguna-women-torture_____pবরগুনায় পাঁচ মাসে ৮৭ জন নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, এরমধ্যে ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে। যৌতুক আর পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা। লজ্জা আর অপমানের ভয়ে বছরের পর বছর নীরবে নির্যাতন সহ্য করছেন অনেকে। তবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্যমতে ক্রমশ কমে আসছে নারী নির্যাতনের ঘটনা।

আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বরগুনার পাতাকাটা ইউনিয়নের পূর্ব কেওড়াবুনিয়া গ্রামের শারমিন জাহান সুমার সঙ্গে করমজাপাড়া গ্রামের নান্টু মোল্লার বিয়ে হয় ৩ বছর আগে। যৌতুকের দাবিতে বিয়ের পরই শুরু হয় নির্যাতন। সবশেষ ২৯ মে মারধরের পর মাথার চুল কেটে জোর করে তালাক নামায় সই নিয়ে সুমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়।

সুমা জানায়, ‘ভয় দেখিয়েছে, হুমকি দিয়েছে। কাঁচি নিয়ে এসে বলেছে চুল কাটতে না দিলে আমাকে মেরে ফেলবে।’ পরে মামলা করায় সুমার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয় নান্টু।

পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বদরখালী গ্রামের ছবিরানী। তিনি জানান, ‘আমার ঘরের দরজা আটকে নাক-মুখ বেধে রেখেছে, এরপর মারধন করেছে।’

কেবল শারমিন জাহান বা ছবিরানী নয়, ৫ মাসে বরগুনার কমপক্ষে ৮৭ নারী পারিবারিক কলহের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে। তবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্যমতে আগের তুলনায় নারী নির্যাতন কমেছে।

বরগুনা জেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্তকর্তা নাসরিন জাহান বলেন, ‘আগের তুলনায় নারীরা এখন বেশ ভালো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। নির্যাতনের হারও অনেকাংশে কমেছে।’

পুলিশ প্রশাসন বলছে, আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা আর সামাজিক সচেতনতা নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করতে পারে। নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ।

তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের জনগণের সচেতনতা, পাশাপাশি আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা ও কঠোরতার কারণেই নারী নির্যাতনের বিষয়গুলো ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।’

পুলিশের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১২ সালে পারিবারিক নির্যাতন, ধর্ষণ, এসিড সন্ত্রাসসহ বরগুনার ২১৮ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ