সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০২৪
প্রচ্ছদদেশজুড়েজনি হত্যা: ৫ মাস পরও কোন আসামী গ্রেফতার নেই, মামলা সিআইডিতে

জনি হত্যা: ৫ মাস পরও কোন আসামী গ্রেফতার নেই, মামলা সিআইডিতে

Jonyদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আবদুল মালের চৌধুরী জনি হত্যা মামলা অবশেষে সিআইডি’তে পাঠানো হয়েছে। বাদীর অভিযোগ রাজনৈতিক চাপে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে পুলিশ বলেছে, আসামীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কারো চাপ ছিলনা। বরং গ্রেপ্তার করতে রাজনৈতিকভাবে বেশী চাপ ছিল। গতকাল সোমবার মামলার নথি সিআইডি’র সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে কোতেয়ালি থানার পুলিশের উপ পরিদর্শক  মো. কামরুজ্জামান।
ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে চিহ্নিত দলীয় সন্ত্রাসীরা দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আবদুল মালেক জনিকে বেদড়ক পিটিয়ে আহত করে। মুমুর্ষ জনি গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।  এ ব্যাপারে জনির ছোট ভাই আবদুল মাজেদ চৌধুরী বাদি হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামীরা হলেন, জেলা ছাত্রলীগের  কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য আবু শাহাদত মো. সায়েম (৩০),দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক ফরহাদুল আলম (২৮), মহিউদ্দিন মহি (২৯), আবু জাহেদ (২৬), মো. শামীম (২৭), মনির উদ্দিন (৩২),  লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা কফিল উদ্দিন (২৬), মো. দোবান প্রকাশ নোমান (২৪) জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মো. ফারুক (৪২)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু শাহাদত মো. সায়েম, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আ ন ম ফরহাদুল আলম, মহিউদ্দিন মহি ও আবু জাহেদকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
মামলার বাদী নিহত জনির ছোট ভাই আবদুল মাজেদ চৌধুরী জানান, গত মাসের শুরুর দিকে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করি। কারণ ঘটনার চারমাস পার হবার পরও পুলিশ একজন আসামীও ধরতে পারেনি। আসামী  গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশের তৎপরতা সন্তোষজনক ছিলনা। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সরাসরি দেখা করে আবেদন করি।
জনি হত্যা মামলার কোন আসামী গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামানা জানান, জনি হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশের আন্তরিকতার অভাব ছিলনা। আসামী ধরার ব্যাপারে সরকারীভাবেও চাপ ছিল। তিনি বললেন, এ মামলার আসামীরা সবাই নগরীর বাইরের। তাদের চিহ্নিত করা  বেশ কঠিন ছিল। তারপরও একাধিকবার  গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। তারা পলাতক ছিল। সিআইডি’তে মামলাটি হস্তান্তরের চিঠি পাবার পরও আসামীদের গ্রে্প্তার করতে ঢাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।
গত ৮মে নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে দেয়া সিআইডি’র পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়।  সিআইডি’র চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে বলা হয়েছে উপরোক্ত বিষয়ের মামলাটি সিআইডি তফশীলভুক্ত বিধায় তদন্তভার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের  ভূতাপেক্ষ অনুমোদন সাপেক্ষে অত্র দপ্তরের নিয়ন্ত্রনে নেয়া হল।
জনি হত্যার মামলার নয়া তদন্তকারী কর্মকর্তা  সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক  মো. সাইফুল ইসলাম ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার বিকেল ৪টায় মামলার নথি আমার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নথির সবকিছু এখনো পড়ে দেখা হয়নি। দ্রুত তদন্তের কাজ শুরু করবো।
অভিযোগে পাওয়া গেছে, মামলা তুলে নিতে ও মামলা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে আসামিরা জনির এক নিকটাত্মীয়কে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এই অভিযোগে নিহত জনির আত্মীয় সাধনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোন্দকার মোহাম্মদ ছমিউল্লাহ নগরী চান্দগাঁও থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৬ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে জনি হত্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।
মামলার এজাহারে জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারি আন্দরকিল্লাস্থ দলীয় কার্যালয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু আগ মুহূর্তে হামলার শিকার হন জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আবদুল মালেক জনি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। ৪দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে ৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ছাত্রলীগনেতা জনি। মামলার বাদী অভিযোগ করে বলেছেন, হত্যাকারীরা রাজনৈতিক আশ্রয় ও আশির্বাদে থাকায় পুলিশ কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ