রবিবার, মে ১৯, ২০২৪
প্রচ্ছদজাতীয়বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলেছে, ২০১২ সালে বাংলাদেশে ৩০টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা নির্যাতন ও অন্যান্য দুর্ব্যবহার করেন। কমপক্ষে ১০ জনকে গুম করা হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নারীরা বিভিন্ন রকম সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বাঙালি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা থেকে আদিবাসীদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। বুধবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ব মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর রিপোর্ট পেশ করে। ৩২৮ পৃষ্ঠার এ রিপোর্টে বাংলাদেশ অধ্যায়ে আরও বলা হয়, গত বছরে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১১১ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। অভিযোগ আছে, কর্মকর্তারা ঘটনার সময় তাদেরকে অফিস থেকে বের হতে দেন নি। ২০টি বৌদ্ধ মন্দির, মঠ, হিন্দুদের একটি মন্দির, বৌদ্ধদের অনেক বাড়িঘর, দোকানপাট সামপ্রদায়িক আক্রমণের সময় পুড়িয়ে দেয়া হয়। ওই রিপোর্টে পদ্মা সেতু দুর্নীতি, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ির চালককে অপহরণ, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামকে হত্যা সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, পদ্মা সেতু দুর্নীতির বিষয়ে সরকার যথেষ্ট সাড়া দেয় নি। ইলিয়াস আলী ১৭ই এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর সরকার তদন্ত করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল। কিন্তু বছর শেষ হয়ে গেলেও কোন তথ্য দেয় নি সরকার। এতে বলা হয়, জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ডিসেম্বরে বিরোধী দলগুলোর দিনব্যাপী হরতাল দিলে রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে কমপক্ষে ৪ জন নিহত হন। কয়েক ডজন হরতালকারী ও পুলিশ আহত হয়। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যেসব নেতার বিচার হচ্ছে তাদের মুক্তি দাবি করে জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দেয়ার আহ্বান জানায়। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত এমন লোকজন বিরোধী দলের সদস্যদের ওপর হামলা করে। তাদের প্রহার করে। ছুরিকাঘাত করে এক পথচারীকে হত্যা করে। জুনে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ বাতিল করে। তখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়। কারণ, সরকার দুর্নীতির অভিযোগে যথেষ্ট সাড়া দেয় নি। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশীদের হত্যা করায় সরকার ভারতের কাছে তার উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরে। সীমান্ত অতিক্রমের সময় এক ডজনেরও বেশি বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী। ওই রিপোর্টে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বলা হয়, কমপক্ষে ৩০ জন মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। পুলিশের দাবি, তারা নিহত হয়েছেন নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে। তবে পরিবারের দাবি, র‌্যাব অথবা পুলিশের সদস্য পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা তাদের গ্রেপ্তার করার পর হত্যা করা হয়েছে। এসব হত্যার জন্য কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয় নি। ১২ই সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলার এক কৃষক মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান (তোফা মোল্লা নামে বেশি পরিচিত)-কে র‌্যাব গুলি করে হত্যা করেছে। র‌্যাবের দাবি, তিনি ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তবে আতিয়ার রহমানের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আগের দিন রাতে র‌্যাব তাকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। তার মৃতদেহে তিনটি গুলির ক্ষত ছিল। এর মধ্যে দু’টি ছিল তার শরীরের পশ্চাৎদিকে। ওই রিপোর্টে নির্যাতন ও অন্যান্য দুর্ব্যবহার সম্পর্কে বলা হয়- পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য বাহিনী ব্যাপক হারে নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার চালিয়েছে। এক্ষেত্রে তারা দায়মুক্তি পেয়েছে। তারা যে পদ্ধতিতে এসব করেছে তার মধ্যে রয়েছে প্রহার, লাথি, সিলিং থেকে ঝুলিয়ে রাখা, খাদ্য গ্রহণ ও ঘুমের সময় ব্যাঘাত সৃষ্টি করা, বৈদ্যুতিক শক দেয়া। আটককৃতদের বেশির ভাগই অভিযোগ করেছে তারা অপরাধ স্বীকার করে না নেয়া পর্যন্ত তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশ ও র‌্যাব রেকর্ড বিকৃতি করে। এমনকি তারা গ্রেপ্তারের তারিখও ভুলভাবে তুলে ধরে। ওই রিপোর্টে বাংলাদেশে ২০১২ সালে গুমের ঘটনা জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়। বলা হয়, গত বছর বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঘটনার শিকার ব্যক্তির হদিসই মেলেনি। তাদের কারও কারও মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে অসংখ্য ক্ষতযুক্ত অবস্থায়। এসব ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে প্রহারের ফলে। ওই রিপোর্টে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা অংশে বলা হয়, নারীরা বিভিন্ন রকম সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এ ধারা অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে এসিড নিক্ষেপ, যৌতুক দাবি মিটাতে না পারায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া। স্থানীয় অবৈধ কমিটি দ্বারা ধর্মীয় অপরাধের জন্য তাদেরকে চাবুক মারা হয়, নারীরা গৃহে সহিংসতার শিকার হন, যৌন সন্ত্রাসের শিকার হন। কুষ্টিয়া জেলার আলেয়া বেগম ও তার মেয়েকে কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ৯ই সেপ্টেম্বর। অভিযোগ আছে, তাদেরকে কুষ্টিয়া জেলার খোকশা থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এর দু’দিন পরে তাদেরকে পাঠানো হয় কুষ্টিয়া শহরের একটি পুলিশ স্টেশনে। সেখানে তাদেরকে রাখা হয় একটি অন্ধকার কক্ষে। রাতে আলেয়ার কলেজপড়ুয়া ওই মেয়েকে তার মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে পুলিশ কর্মকর্তারা যৌন নির্যাতন চালায়। তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলে ১৮ই সেপ্টেম্বর তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়। আলেয়া বেগম ও তার মেয়ে মিডিয়ার কাছে এসব কথা বলেছেন। ফলে তাদেরকে ২৬শে সেপ্টেম্বর ফের আটক করে জেলে পাঠানো হয়। ওই রিপোর্টে আদিবাসীদের অধিকার অংশে বলা হয়, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র লড়াই অথবা সমপ্রতি ক্রমবর্ধমান বাঙালি বসতি স্থাপনকারীরা যেসব জমি দখল করেছে তা ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেছে আদিবাসী লোকজন। কিন্তু আগের বছরের মতো ২০১২ সালেও সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ দু’সমপ্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ও বাঙালিদের আক্রমণ থেকে স্থানীয় আদিবাসীদের রক্ষায় নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা ব্যর্থ হয়েছে। আদিবাসীদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি সংঘাত হয়েছে। এতে দু’পক্ষেই হতাহত হয়েছে। ২২শে সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটিতে আদিবাসী ও বাঙালি বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সহিংসতা বন্ধে ব্যর্থ হয়। ওই রিপোর্টে শ্রমিক অধিকার বিষয়ে বলা হয়, গার্মেন্ট শ্রমিকদের কম বেতন ও কর্মক্ষেত্রে নাজুক পরিবেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। তাদের একজনকে হত্যা করা হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন নেতা আমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হন ৪ঠা এপ্রিল। একদিন পরে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে। তার শরীরে নির্যাতনের প্রমাণ পায় পরিবারের সদস্যরা। তারা বিশ্বাস করেন, তাকে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অপহরণ করেছিল। এর আগেও শ্রমিক ইউনিয়ন করার কারণে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাকে গ্রেপ্তার করে প্রহার করেছিল। নভেম্বরে সাভারের পাশেই তাজরিন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ড হয়। এ সময় কারখানার কর্মকর্তারা গেট খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে সেখানে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কমপক্ষে ১১১ শ্রমিক নিহত হন। আহত হন অনেকে। সামপ্রদায়িক সহিংসতা সম্পর্কে রিপোর্টে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে আক্রমণ নতুন মাত্রা পায়। ফেসবুকে পবিত্র কোরানকে অবমাননাকর ছবি প্রকাশিত হওয়ার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে ২০টি বৌদ্ধ মন্দির, মঠ, হিন্দুদের একটি মন্দির ও বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনা ঘটে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে। মৃত্যুদণ্ড প্রসঙ্গে ওই রিপোর্টে বলা হয়, কমপক্ষে ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। এপ্রিলে একজনের ফাঁসি কার্যকর হয়।

এদিকে অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রধান আব্বাস ফায়েজ বিবিসিকে বলেন, যেটা দেখার বিষয় তাহলো একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তার মূলে রয়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়াবাড়ি। তাদের হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনেক উদাহরণ আমাদের হাতে রয়েছে। নির্যাতনের এবং নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এটাকেই আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে হত্যা ও নিখোঁজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এব্যাপারে আমরা যেটা বলতে চাই তা হলো র‌্যাব সহ নিরাপত্তা বাহিনীকে আইনের আওতায় কাজ করতে হবে। আইনের বাইরে তাদের যাওয়ার অধিকার নেই। হত্যার যারা শিকার হচ্ছেন তাদের পরিবারগুলো আমাদেরকে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন তাদের স্বজনকে ধরে নিয়ে গেছে। তারপর এক সময় আটককৃত ওই ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক সময় ব্যাখ্যা দেয়া হয় মৃত্যু হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ক্রসফায়ারে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো- যে ব্যক্তি আটক সে কি করে বাইরে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হলো এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে রিপোর্ট দিয়ে আসছে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে কিনা সে প্রসঙ্গে আব্বাস ফায়েজ বলেন, পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে কিনা তা বলা কঠিন। এ বছর, গত বছর বা তার আগের বছর কখনওই যা বদলায়নি তা হলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকেই বিচারের সামনে দাঁড় করানো হয় নি। গত বছর ৩০টি এ ধরনের ঘটনার কথা আমরা জানি। একটি ঘটনারও তদন্ত হয় নি। একজনেরও বিচার হয় নি। সরকার কি তাহলে এসব অভিযোগের গুরুত্বই দিচ্ছে না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমস্যা যে কোথায় আমরা বুঝতে পারছি না। কারণ আমরা যখন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলি তারা এসব অভিযোগ উড়িয়ে দেন না। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট। তারা বলেন, তারা তদন্ত করছেন। কিন্তু এসব তদন্তের কোন ফল দেখতে পাই না। এসব তদন্ত রিপোর্টে কি বেরুলো আমরা কখনওই দেখতে পাই না। বিবিসি তার কাছে জানতে চায় বাংলাদেশে স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন এক্ষেত্রে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারছে বলে অ্যামনেস্টি মনে করে এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান আব্বাস ফায়েজ। তিনি বলেন, এ সমস্যা নিরসনের একমাত্র দায় সরকারের। শুধুই সরকারের।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, হত্যা ও গুম নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাব বিভ্রান্তিকর। তবে প্রতিবেদনকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে। গতকাল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুনের যে তথ্য দিচ্ছে এতে হিসাবের বিভ্রান্তি আছে। তবে এই সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় কম।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায়ই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখে আইনের কোন ধরনের লঙ্ঘন মনে হয়নি বলে মন্তব্য করে। অথবা বলে, যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি কিংবা আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছুড়তে হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন বক্তব্য এক ধরনের দায়মুক্তি কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এক ধরনের প্রবণতা তাদের আছে যেন নিজেদেরকে অভিযুক্ত না করে থাকা যায়। এটা সমাধান করা অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে তদন্ত নিরপেক্ষ করতে আমরা কৌশলগত কিছু পরিবর্তন আনবো। যেনতেন কোন জবাবে আমরা আর সন্তুষ্ট হবো না। দায়মুক্তির মতো প্রশ্নগুলো যাতে না উঠে তেমন পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে চাই।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ