ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কওমী মাদ্রাসা নীতিমালা চূড়ান্ত করতে চায়। তিনি কওমী মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং সনদপত্র প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছ থেকে গঠনমূলক সুপারিশমালা কামনা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কওমী মাদ্রাসা নীতি প্রণয়ন করতে চাই। আমরা কাউকে কষ্ট দিতে বা এই নীতি নিয়ে কোনো অশান্তি সৃষ্টি করতে চাই না।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আলেম, ওলামা, মাশায়েখ এবং বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় সূচনা বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।ইসলামের প্রচার ও প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাসহ মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরো বেশী সময়োপযোগী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক এবং সময়োপযোগী করছি যাতে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা থেকে পাস করে বের হওয়ার পর সনদপত্র ও চাকরি পেতে পারে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং আলেমদের নিয়ে কওমী মাদ্রাসা কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর দল আবার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে সব জেলা ও উপজেলা সদরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ একটি কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণ করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পবিত্র ইসলাম ধর্মের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন করেন এবং মদ, জুয়া ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোড় দৌড় নিষিদ্ধ করেন। পাশাপাশি তিনি তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা এবং ঢাকায় কাকরাইল মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস রাজস্ব খাতের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে ট্রাস্ট গঠন করেছে। তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে ১ হাজার মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আগামীতে এ ধরনের আরো ভবন নির্মাণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণ তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। তাঁর সরকার সকল ধর্মের সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ উপনেতা সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, কাজী জাফরউল্লাহ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও ড. হাছান মাহমুদ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম. ড. আলাউদ্দিন আহমেদ ও ইকবাল সোবহান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।




