জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শেখ কামাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০ এর জাতীয় পর্যায়ের সমাপনী অনুষ্ঠান।
২৬ জুন দুপুরে অনুষ্ঠিত এ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়াল প্লাটফর্মে যুক্ত হন জাতীয় সংসদের স্পিকার ডা. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এ জাতীয় উৎসাহব্যঞ্জক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমাদের তরুণদের মহতী উদ্যোগ ও সাহসী প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এ আয়োজনকে আমি স্বাগত জানাই।
কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তরুণদের এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতে দেশের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে তাদের বিশেষ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগাবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী তরুণ এবং তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরাই ছিলো করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রথম দিককার সৈনিক।
তারা ত্রানসামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে ফসল কেটেছে, জরুরি মেডিক্যাল সেবা প্রদানে সহযোগিতা করেছে। তাই তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি, পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে এরকম একটি উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বের যুবারা আর্তমানবতার সেবায় যে অবদান রেখেছেন তার স্বীকৃতি দিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘ঢাকা ওআইসি ইয়্যুথ ক্যাপিটাল ২০২০’-এর অধীনে প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘শেখ হাসিনা ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ করা হয়, যার মাধ্যমে আমরা তরুণদের ১০টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে একক ও দলীয়ভাবে মোট ১০০ জনকে পুরস্কার ও সম্মাননা দিবো।
তিনি আরও জানান, যোগ্য প্রার্থীরা যেন স্বীকৃতি পায় তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে ১৬ সদস্যের একটি জাতীয় বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় বাছাই কমিটি বাছাই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রায় তিন হাজার পাঁচশ প্রার্থীর মধ্য থেকে ১০০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবে, যেই ১০০ জনের মধ্য থেকে যোগ্যতম ১০ প্রার্থীকে চুড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এই চূড়ান্ত ১০ জন বিজয়ী শেখ হাসিনা ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০-এর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরাসরি অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবেন এবং তারা ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তাদের বিজয়ী ট্রফি গ্রহণ করবেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আক্তার হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রাশীদুল হাসান, যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আজাহারুল ইসলাম খান।
করোনাকালীন সংকটময় মুহূর্তে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ এবং বৈশ্বিক যুবাদের অনন্য মানবিক অবদানের স্বীকৃতি দিতে ‘ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০’-এর অধীনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ চালু করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।




