পাহাড়-স্থাপনা অক্ষুণ্ন রেখেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে বড় ফ্লাইওভার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টাইগারপাস থেকে লালখানবাজার অংশ নির্মিত হবে পাহাড় ও স্থাপনা অক্ষুণ্ন রেখেই। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক জটিলতার অবসান হলেও দীর্ঘদিন ধরে টাইগারপাস থেকে লালখানবাজার অংশ নির্মাণে জটিলতা কাটছিল না। অবশেষে টাইগারপাস অংশের জটিলতারও অবসান ঘটছে। গত ৮ জুন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট চার সংস্থার সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া পাঁচটি প্রস্তাবনা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে পাহাড় ও স্থাপনা অক্ষুণ্ন রেখে একটি প্রস্তাবনাকে বাছাই করেছে সিডিএ। ওই প্রস্তাবনা অনুযায়ী নির্মিত হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এর ফলে এই প্রকল্পের সব জটিলতার অবসান হয়েছে বলে দাবি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।

নতুন এলাইনমেন্ট অনুযায়ী দেওয়ানহাট থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত বিদ্যমান রেলওয়ে ওভারব্রিজের পশ্চিম পাশ দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আসবে। টাইগারপাস থেকে লালখানবাজার জংশনের আগে ২ লেনের এক্সিট র‌্যাম্প (নামার পথ) থাকবে। যা বিদ্যমান রাস্তার মাঝখানে মিলিত হবে। লালখানবাজার জংশনের আগে (পূর্ব পাশ) বিমানবন্দরমুখী এন্ট্রি র‌্যাম্প (উঠার পথ) থাকবে। অন্যদিকে জিইসি জংশনে পেনিনসুলা হোটেলের পরে বিমানবন্দরমুখী একটি র‌্যাম্প আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের সাথে সংযুক্ত হবে। এছাড়া টাইগারপাস জংশনে পলোগ্রাউন্ড রোড হতে বিমানবন্দরমুখী একটি এন্ট্রি র‌্যাম্প এবং আমবাগান রোডে রেলওয়ে পুলিশ সুপার অফিসের সামনে একটি এক্সিট র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে আগত ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের জন্য টাইগারপাসের আগে পাহাড় অক্ষুণ্ন রেখে বিমানবন্দরমুখী একটি এন্ট্রি র‌্যাম্প সংযোগের সিদ্ধান্ত হয়।

লালখানবাজার হতে শাহ্ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হবে ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ৪ লেন ফ্লাইওভার। কেইপিজেড, সিইপিজেড সল্টগোলা, নিমতলা, আগ্রাবাদ, টাইগারপাসসহ সর্বমোট ১৩টি র‌্যাম্পের মাধ্যমে মূল ফ্লাইওভারে যানবাহন উঠা-নামার ব্যবস্থা থাকবে। জানতে চাইলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, টাইগারপাস থেকে লালখানবাজার এলাকায় এন্ট্রি র‌্যাম্প ও এক্সিট র‌্যাম্প নির্মাণ নিয়ে বেশকিছু জটিলতা ছিল। অবশেষে এসব জটিলতার অবসান হয়েছে। এখন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে আর কোন জটিলতা থাকবে না।

সম্প্রতি সিডিএ’র সম্মেলন কক্ষে ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের লালখান বাজার হতে টাইপাস পর্যন্ত স্টার্টিং পয়েন্টের এলাইনমেন্ট চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৮ জুন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) পরিকল্পনা বিভাগ, প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা বিচ পর্যন্ত চার অংশে ভাগ করা হয়েছে। লালখান বাজার থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত প্রথম অংশ। বারিক বিল্ডিং থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত দ্বিতীয় অংশ। সিমেন্ট ক্রসিং থেকে কাটগড় পর্যন্ত তৃতীয় অংশ এবং কাটগড় থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত চতুর্থ অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে।  বর্তমানে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৫০ শতাংশ। ৩৭৯টি পিলারের মধ্যে ২৩০টি পিলার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য বিমানবন্দর কেন্দ্রিক যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৯ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন।

About bdsomoy