শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনঅপসারণ হয়নি নগরীর অলিগলির বর্জ্য, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

অপসারণ হয়নি নগরীর অলিগলির বর্জ্য, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

বিকেল ৫টার মধ্যেই চট্টগ্রাম নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিলেও কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এসময়ের মধ্যে নগরীর মূল সড়কের ডাস্টবিন এবং আশপাশে পড়ে থাকা বর্জ্য প্রায় অপসারণ কর‍া গেলেও বিভিন্ন অলিগলিতে বর্জ্য বুধবার সন্ধ্যার পরও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর ফলে নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া নগরীর অনেক এলাকায় সময়মত পরিচ্ছন্ন কর্মী না পৌঁছানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সিটি মেয়র এম মনজুর আলম সহ চসিকের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো.সাইফুদ্দিন সাকী  বলেন, ‘নগরীর প্রধান সড়কের ডাস্টবিনে এখন কোন বর্জ্য নেই। কিন্তু অলিগলির বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। কিছু অলিগলির বর্জ্য পাওয়া গেছে বিকেলে। সেগুলো অপসারণ করা যায়নি। তবে রাতের মধ্যেই পুরো নগরীকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে।’ তবে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী  বলেন, ‘অলিগলির বর্জ্য ৯০ ভাগ অপসারণ করা হয়েছে। রাতের মধ্যে বাকি বর্জ্য অপসারণ হবে।’

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে কোরবানির পশু জবাই শুরু হয়। দু’ঘণ্টার মধ্যে প্রায় সব এলাকায় পশু জবাই শেষ হয়ে যায়। সিটি কর্পোরেশন সকাল ৯টা থেকে বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করে সকাল সাড়ে ১০টায়।

কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাড়ে ১০টায় কাজ শুরু করলেও সব ওয়ার্ডে একই সময়ে শ্রমিক পাঠানো হয়নি। এর ফলে কোন কোন ওয়ার্ডে সাড়ে ১০টায় কাজ শুরু হলেও অনেক ওয়ার্ডে কাজ শুরু হয়েছে এক ঘণ্টা, দু’ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় পর।

কাউন্সিলররা জানান, অন্যান্য বছর শ্রমিকদের ভাগ করে প্রত্যেক ওয়ার্ডে একই সময়ে নামানো হত। কিন্তু এ বছর কোন ওয়ার্ডে একসঙ্গে বেশি শ্রমিক নামানো হয়েছে আবার কোন কোন ওয়ার্ডে একই সময়ে কোন শ্রমিকই বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

বিষয়টি স্বীকার করে প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী  বলেন, ‘সব ওয়ার্ডে তো একসঙ্গে শ্রমিক দিতে পারিনি। কোথাও কোথাও ঘণ্টা দু’য়েক দেরি হয়েছে।’

সন্ধ্যায় নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মূল সড়ক এবং ডাস্টবিনের বর্জ্যগুলো দ্রুততার সাথে সরিয়ে নেয়া হলেও রক্ত তেমনভাবে পরিস্কার করা হয়নি। আসকার দিঘীর পাড় এলাকায় রামকৃঞ্চ মিশন, শতদল ক্ল‍াবের সামনে ডাস্টবিনে নাড়িভুড়ি, রক্তের সঙ্গে ছিল গরুর বিষ্ঠাও। এর ফলে সন্ধ্যা থেকে সেখানে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া নগরীর বাকলিয়া, হালিশহর, দেওয়ান বাজার, মোমিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে সন্ধ্যার পরও আবর্জনার অবশিষ্টাংশ, কাটা লেজ, মাথার খুলির একাংশ, রক্ত, ছিঁড়া চামড়া পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

নগরীর চকবাজার ওয়ার্ডের কাপাসগোলা এলাকার বাসিন্দা সালেহ পার্থ বাংলানিউজের কাছে অভিযোগ করেন, এলাকায় পশুর রক্ত অপসারণে কোন কাজ হয়নি। দুপুর থেকে কয়েক দফা ওয়ার্ড অফিসে যোগাযোগ করা হলেও কোন পরিচ্ছন্ন কর্মী সেখানে যায়নি। ছিটানো হয়নি ব্লিচিং পাউডার।

একই অবস্থা বাদুরতলা, মাইটপাড়া, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের এলাকা, বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডসহ আরও কয়েকটি এলাকায়ও। পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের খাজা রোড ও মহল্লার বিভিন্ন ঘুপচি পথে এখনও রয়ে গেছে বর্জ্য। বিকেলের পর এসব বর্জ্যে পচন ধরলে দুর্গন্ধ ছড়ানো শুরু হয়।

সিটি কর্পোরেশনের অধীনে গ্রাম হিসেবে পরিচিত পাহাড়তলী ও পাঁচলাইশের বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনে না নিয়ে খোলা জায়গায় ফেলায় সেগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে যেসব ওয়ার্ড সিটি মেয়র এম মনজুর আলম পরিদর্শনে গেছেন সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে দুপুরের মধ্যে পরিস্কার করা হয় বলে জানা গেছে।

চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো.সাইফুদ্দিন জানান, বুধবার বিকেলে সিটি মেয়র এম মনজুর আলম নগরীর বাগমনিরাম, লালখান বাজার, শুলকবহর, দক্ষিণ বাকলিয়া, উত্তর-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে গিয়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এছাড়া হালিশহরের আনন্দবাজার এবং বায়েজিদের আরেফিন নগরে ডাম্পিং স্টেশনও পরিদর্শন করেন মেয়র।

এসময় মেয়র বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে বর্জ্য থাকার অভিযোগ পান। অভিযোগ শুনে তিনি তাৎণিকভাবে এসব বর্জ্য দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন। চসিক সূত্রে জানা গেছে, বর্জ্য অপসারণের জন্য এবার দেড়’শ ট্রাক নামানো হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে এবং একটি ভিজিল্যান্স টিমও গঠন করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য ট্রাকের পাশাপশি রাখা হয়েছে পানির গাড়ি। পশু জবাইয়ের স্থানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে ১’শ কেজি করে ব্লিচিং পাউডার বিতরণ করা হয়েছে।

স‍ূত্র জানায়, বর্জ্য অপসারণে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডকে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। নগরীর ১১ ওয়ার্ড নিয়ে উত্তর, ১০টি নিয়ে দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম জোনে ১০টি করে মোট ৪১ ওয়ার্ডকে ভাগ করে দামপাড়ায় খোলা হয়েছে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম। চারটি জোনে বিবিরহাট, গোসাইলডাঙ্গা, দেওয়ান বাজার ও সরাইপাড়া ওয়ার্ড কার্যালয়ে ৪টি সাব কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিটি জোনে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির জন্য একজনকে আহবায়ক করে কমিটি করা হয়েছে। উত্তর জোনের আহবায়ক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম, দক্ষিণ জোনের আহবায়ক কাউন্সিলর আবদুল বারেক, পূর্ব জোনের আহবায়ক কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং পশ্চিম জোনের আহবায়ক কাউন্সিলর মোরশেদ আক্তার চৌধুরী।

বর্জ্য অপসারন সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের নাম্বার ৬৩৩৬৪৯, ৬৩০৭৩৯, ০১৭১২-২৫২৬১৫, ০১৮৪২-১৯৯১৯৯।

উত্তর জোনের অধীনে ১১টি ওয়ার্ড- ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী, ২নং জালালাবাদ, ৩নং পাঁচলাইশ, ৪নং চান্দগাঁও, ৫নং মোহরা, ৬নং পূর্ব ষোলশহর, ৭নং পশ্চিম শোলকবহর, ৮নং শোলকবহর, ১৫নং বাগমনিরাম, ১৬নং চকবাজার ও ২১নং জামালখান ওয়ার্ড।

দক্ষিণ জোনে ১০টি ওয়ার্ড- ২৩নং উত্তর পাঠানটুলী, ২৭নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ, ২৮নং পাঠানটুলী, ২৯নং পশ্চিম মাদারবাড়ি, ৩৬নং গোসাইলডাঙ্গা, ৩৭নং হালিশহর মুনির নগর, ৩৮নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯নং দক্ষিণ হালিশহর, ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ও ৪১নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড।

পূর্ব জোনে ১০টি ওয়ার্ড- ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া, ১৮নং পূর্ব বাকলিয়া, ১৯নং দক্ষিণ বাকলিয়া, ২০নং দেওয়ান বাজার, ৩০নং পূর্ব মাদারবাড়ি, ৩১নং আলকরণ, ৩২নং আন্দরকিল্লা, ৩৩নং ফিরিঙ্গী বাজার, ৩৪নং পাথরঘাটা ও ৩৫নং বক্সিরহাট ওয়ার্ড।

পশ্চিম জোনে ১০টি ওয়ার্ড- ৯নং উত্তর পাহাড়তলী, ১০নং উত্তর কাট্টলী, ১১নং দক্ষিণ কাট্টলী, ১২নং সরাইপাড়া, ১৩নং পাহাড়তলী, ১৪নং লালখান বাজার, ২২নং এনায়েত বাজার, ২৪নং উত্তর আগ্রাবাদ, ২৫নং রামপুর ও ২৬নং উত্তর হালিশহর ওয়ার্ড।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ