ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
ঈদ যে খুশি বা আনন্দের এই বলার প্রয়োজন হয়না। সকল দুঃখ-কষ্ট, ভেদাভেদ ভুলে ঈদের আনন্দে সবাই মেতে উঠে যে যার মতো করে। ঈদের আনন্দে মাতোয়ারা থাকে উৎসবপ্রেমী গোটা দেশবাসী। কিন্তু আনন্দময় এই ঈদের ছোঁয়া লাগেনি নিখোঁজ বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি এম.ইলিয়াস আলীর পরিবারে।
নিরানন্দ ঈদ পালন করছে ইলিয়াস পরিবার। ইলিয়াসবিহীন এ নিয়ে চারটি ঈদ পালন করছে সাবেক এ সংসদ সদস্যের পরিবার। ঈদের দিন প্রতিটি ঘরে ঘরে যখন ঈদের আনন্দ উল্লাস চলছে তখন ইলিয়াসের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। চোখের জলে বুক ভাসছে ইলিয়াসের বৃদ্ধা মা-স্ত্রী ও সন্তানদের। কোন প্রবোদই যেন তাদের কান্না থামাতে পারছেনা।
জানা যায়, প্রতি বছর ঈদ এলে সাবেক সাংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলী মায়ের সাথে ঈদ করতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তার জন্মস্থান বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা গ্রামে আসতেন। নিজ হাতে পরিবারের সবার জন্য ঈদের জামা-কাপড় কিনে আনতেন। বাড়ীর পাশে নিজের গড়া রামধানা শাহী ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতেন তিনি।
ঈদের দিন কুশল বিনিময় করতে ছুটে আসতেন নির্বাচনী এলাকাসহ সিলেট অঞ্চলের দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাংখিরা। প্যান্ডেল বেঁধে গরু জবাই করে ধুমধাম করে খাওয়ানো হতো আগত অতিথিদের। ঈদের পুরোটা সময় এলাকাবাসী ও পরিবারের সাথে আনন্দঘন পরিবেশে কাটাতেন ইলিয়াস আলী।
কিন্তু গত দু’বছরে চারটি ঈদই কেটেছে এর ব্যতিক্রমভাবে। এসব কিছুই যেন অতীত হয়ে গেছে ইলিয়াস পরিবারের কাছে। আর এসব স্মৃতি তাড়া করছে পরিবারের সকল সদস্যদের। নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর পথের দিকে চেয়েই নিয়ম রক্ষার ঈদ করছেন ইলিয়াস পরিবার।
ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমাদের পরিবারে ঈদের আমেজ নেই। শুধু নিয়ম পালন করতে আর বয়োবৃদ্ধ শ্বাশুড়ির সাথে সময় কাটাতে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঈদে বাড়িতে এসেছি। এতদিন পেরিয়ে গেল আজও তাঁর (ইলিয়াস) কোন খবর পেলামনা আমরা। একে একে কেটে গেল চারটি ঈদ। এ অপেক্ষার শেষ কবে হবে তা একমাত্র আল্লাহ’ই জানেন।
লুনা বলেন, ‘আমার মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল বাবার জন্য ছটপট করছে। মাঝে মাঝে সে আমাকে বলে, মা বাবাকে যারা নিয়ে গেছে তারা কেন বাবাকে ফিরিয়ে দিয়ে যায়না? ওরা কি জানেনা বাবার জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে। ওরা ‘সরি’ বলে আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিলেই তো পারতো? তখন সাইয়ারার কথার কোন উত্তর আমি দিতে পারিনা’।
ঈদের দিন অশ্রুসিক্ত নয়নে, কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে এ কথাগুলো বলেন তিনি। এসময় তিনি জানান, ছেলের অপেক্ষায় চোখের চল ফেলতে ফেলতে ইলিয়াসের মা সূর্যবান বিবি আগের চেয়ে অনেক দূর্বল হয়ে পড়েছেন।
ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে আবরাব ইলিয়াস ঈদের জামাত আদায় করেন সিলেটের বিশ্বনাথস্থ নিজ গ্রাম রামধানায় বাবার তৈরী করা ঈদগাহে। বিগত তিনটি ঈদের মতো এবারও বাবার শূন্যতা বোধ করে আবরাব। আবরাব বলেন, ‘বাবার (ইলিয়াস) হাত ধরে প্রত্যেক বছর ঈদগাহে এসে ঈদের জামাত আদায় করা ছিল অনেক আনন্দের। কিন্তু বর্তমানে বাবা কোথায় আছেন, কি অবস্থায় আছেন তা আমরা কেউই জানিনা’।
ইলিয়াস আলী ফিরে আসার প্রত্যাশায় ঈদের দিন ঈদের জামায়াত শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয় রামধানা ঈদগাহসহ সিলেট বিভাগের অনেক ঈদগাহ ও মসজিদে। পাশাপাশি ইলিয়াস আলীর নামে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫ হাজার পশু কোরবানি দিয়েছেন ইলিয়াস অনুসারীরা। গত তিন ঈদের মতো এবারের ঈদেও ইলিয়াস পরিবারের কারও জন্য কেনা কেনা হয়নি নতুন কাপড়। তাই ঈদের দিনে ইলিয়াসের সন্তানসহ পরিবারের কেউই পড়েননি নতুন কাপড়।
ইলিয়াস আলীর পরিবারের মতো ঈদের আমেজ নেই তাঁর (ইলিয়াস) সাথে নিখোঁজ হওয়া গাড়ি চালক আনসার আলীর পরিবারে। সকাল থেকেই আনসারের মা নূরজাহান বেগম ও স্ত্রী মুক্তা বেগম চোখের জল ফেলে ফেলেই কাটাচ্ছেন। বাবা ঢাকা থেকে ঈদের নতুন কাপড় নিয়ে আসবেন আর তা কাপড় পড়ে করবে ঈদের আনন্দ সেই অপেক্ষায় রয়েছে আনসারের সাড়ে চার বছর বয়সী মেয়ে ‘চাঁদনী’। মা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আর কত দিন আমার পুয়ার লাগি অপেক্ষা করতাম অনব।
ইলিয়াস আলী জনসম্মুখে থাকাকালীন সময়ে প্রত্যেকটি ঈদে নেতাকর্মীদের পদচারনায় মূখরিত থাকতো রামধানার বাড়ি। এবারও ইলিয়াসের মা-স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মীয় স্বজনদের সাথে ঈদের কুশল বিনিময় করতে এসেছেন নেতাকর্মীরা।




