ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। গ্রেপ্তার এড়াতে ইতোমধ্যে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্বদানকারী নেতাদের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। ২৫ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ‘দা-কুড়াল’ এর হুমকির পর এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সাদেক হোসেন খোকার বাসায় দুই দফায় অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু তাকে বাসায় পায়নি।
এছাড়া সোমবার রাতে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুস সালামের বাসায়ও পুলিশ অভিযান চালায় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
তবে সাদেক হোসেন খোকার বাসায় পুলিশের অভিযানের পর ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতারা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। তাদের হদিস মেলছে না। ছাত্রদল সভাপতি আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। একই অবস্থা যুবদলের। যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরবকেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলেরও একই অবস্থা।
সোমবার বিকেলে সাদেক হোসেন খোকা মহানগর বিএনপির এক যৌথ সভায় বলেন, ‘২৫ তারিখের (অক্টোবর) সমাবেশে কোনো রকম আক্রমণ করা হলে পাল্টা আক্রমণ করা হবে। ওই জনসভায় আমরা কোনো প্রকার আক্রমণের শিকার হলে কিম্বা বিগত সময়ের মতো লগি-বৈঠায় মানুষ হত্যার চেষ্টা হলে প্রয়োজনে দলের নেতাকর্মীরা দা, কুড়াল, বল্লম, কাতরা, সরকি, টেঁটাসহ যার যা কিছু তা নিয়ে সারা বাংলাদেশে পাল্টা আক্রমণ করবে।’ সাদেক হোসেন খোকার ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই তার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধরপাকড় ও হয়রানি শুরুর অভিযোগও তোলা হয়েছে। সরকারের এই দমননীতি মোকাবিলা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন সফল করতে প্রধান বিরোধী দলের ঢাকা মহানগর কমিটি ও সহযোগী সংগঠনগুলো দফায় দফায় বৈঠক করছে। সেসব বৈঠকে নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। তাঁদের মাঝে গ্রেপ্তার আতঙ্কও বিরাজ করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে কোনো অভিযানের কথা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় জোটভুক্ত নেতাদের পুলিশি হয়রানির অভিযোগও তাঁরা অস্বীকার করেন। ঢাকা মহানহগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ঢালাওভাবে কোনো দলের নেতাদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালানি। তবে গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকার বাসায় তার খোঁজে পুলিশ গিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে দাবি করেন মনিরুল।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ২৪ অক্টোবরের পর এ সরকারের মেয়াদ শেষ। তাই নৈতিকভাবে তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। সরকারবিরোধী রণকৌশল ঠিক করতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন যুবদল, ছাত্রদলসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে। এসব বৈঠকে আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সূত্র মতে, ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, তা যথাযথভাবে সর্বোচ্চ সক্রিয়তার সঙ্গে পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন চেয়ারপারসন। এ কর্মসূচি সফল করতে সংগঠনগুলোকে নিজস্ব কৌশল অবলম্বনের নির্দেশও দেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে হওয়া ওই বৈঠকগুলোর পরপরই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। গত বুধবার সারা দিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানদের ডেকে আনা হয়। তাঁদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় ইউনিটের চৌকস (যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকবেন) ১০ জন করে কর্মী বাছাই করতে। তাঁরা দুটি দলে বিভক্ত থাকবেন। এই কর্মীবাহিনী পুরো রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করবে। এভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে রাজপথ দখলের রণকৌশল প্রণয়নে ব্যস্ত যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও।
দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের বাসাবাড়িতে সাদা পোশাকধারী পুলিশ তল্লাশি চালায়। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত আশঙ্কা করছি, সরকার অন্যায়ভাবে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালাবে। মশিউর রহমানের বাড়ি ছাড়াও রাজধানীর হাজারীবাগ থানা বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজের বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে সাদা পোশাকধারী পুলিশ।’ তিনি বলেন, ১৮ দলীয় জোটের শরিক ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আব্দুল মবিন চৌধুরীকেও গ্রেপ্তার করে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান নিয়মিত চলছে। এসব বিশেষ কোনো অভিযান নয়। এ মুহূর্তে রাজধানীতে কোনো বিশেষ দলের নেতাদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও নিতান্তই গুজব। নাশকতা, বিস্ফোরণ, ভাঙচুরসহ নানা ঘটনায় আগে দায়ের করা মামলার পলাতক আসামিদের খোঁজা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনীতি সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। শুধু রাজনৈতিক কারণে কাউকে পুলিশের হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন।




