বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদটপরাত যত গভীর হয় ততই জেগে ওঠেন তারা

রাত যত গভীর হয় ততই জেগে ওঠেন তারা

কাউকে রাস্তায় নামিয়েছে করোনা, আবার কেউ রাস্তায় আছেন বছরের পর বছর ধরে। তাদের পায়েই সচল থাকছে নির্ঘুম ঢাকার নৈশ অর্থনীতি। রাতের পর রাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলেও বদলাতে পারেননি জীবনের রং, বরং স্থায়ীভাবেই তাদের গায়ে সেঁটে গেছে দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবীর তকমা। মধ্যরাতে বুড়িগঙ্গায় যাত্রীর অপেক্ষায় মাঝি আফসার আলীর গলায় বড্ড বেদনার সুর। গোটা পাঁচেক নৌকা অস্থায়ী ঘাটে ভিড়িয়ে তাদের অজানা অপেক্ষা, আদৌ কি পাবেন যাত্রীর দেখা? এক মাঝি জানান, আগেই রাতে অনেক যাত্রী পেতাম। এখন পাওয়া যায় না। এছাড়াও এখানে ঘাট ছিল; সেটাও এখনও বন্ধ হয়ে গেছে।

রাত যতো গভীর হয়, বাদামতলীর ফলের আড়তগুলো ততোই জেগে উঠতে থাকে। বেড়ে যায় খালাসী আর শ্রমিকদের ব্যস্ততা। খুব ছোটবেলা থেকেই, এখানে ফলের ঝুড়ি আর সংসারের ঘানি একই সঙ্গে টেনে চলেছেন তোফাজ্জল মিয়া। বিক্রমপুরের অরুণ, করোনায় কাজ হারিয়ে এখন দুধ বিক্রি করছেন সদরঘাটে। জীবনের রং রুপে পরিবর্তনের কথা বলতেই এসব মানুষ ঝাপসা দেখেন চারপাশ। একজন জানান, আমরা গরিব মানুষ। কোনদিন ২০০ টাকা আবার কোনদিন ৩০০ টাকা আয় করি। যে টাকা আয় করি সেটা দিয়ে চলে না ঋণ করে চলতে হয়।

১২ বছর ধরে পথের ধারে সেদ্ধ ডিম বেঁচে ৫ জনের সংসার চালান তুহিন সরদার। অপেক্ষায় আছেন কবে তার সন্তান আয়ের যোগ্য হবে। আবার বেবিট্যাক্সির মাধ্যমে ৩০ বছর আগে রাস্তায় নেমেছিলেন আব্দুস সামাদ। সেখান থেকে বাস ট্রাক হয়ে এখন তার ঠাঁই সিএনজিতে, ভাগ্য বদলায়নি একটুও। তিনি জানান, যা কামাই তাই খরচ হয়ে যায়। আগে আয় কম ছিল; খরচও কম ছিল। এখন আয় করি বেশি খরচও বেশি। ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। দশ বছরে ১৬০ শতাংশ বেড়ে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৬৪ ডলার। সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা থেকে ২০ বছর পর বাজেট এখন সাড়ে ৫ লাখ কোটিরও বেশি। অথচ আজও আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের তাল মেলাতে গিয়ে হাপিয়ে উঠছেন লাখ লাখ শ্রমজীবী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ