সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্তত দেড় শতাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা এসেছেন পটিয়ায়

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্তত দেড় শতাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা এসেছেন পটিয়ায়

করোনাভাইরাসের ‘হটস্পট’ নারায়ণগঞ্জ জেলা যখন লকডাউন ঘোষিত হল, সেটি উপেক্ষা করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্তত দেড় শতাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা চলে এসেছেন চট্টগ্রামের পটিয়ায় তাদের নিজ বাড়িতে। এদের অনেকের এলাকায় আসার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও অভিযোগ রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই সেই নিয়ম মানেননি। এমন অভিযোগে অনেককে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানা করা হলেও তাতে তেমন কাজ হয়নি। সর্বশেষ পটিয়ার হাইদগাঁওয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬ বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায়ও ঢাকার নবাবপুর থেকে ফেরা একজন ব্যাংক কর্মকর্তার নাম এসেছে আলোচনায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্তত দেড় শতাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মস্থল ছেড়ে পটিয়ার নিজ বাড়িতে চলে এসেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংকসহ আরও বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা।

এদিকে পটিয়ায় হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে অবাধে ঘোরাফেরা করছে এমন কয়েকজন ব্যাংকারের নাম জানা গেছে অনুসন্ধানে। এদের মধ্যে রয়েছেন পটিয়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের শেয়ানপাড়া, দক্ষিণ কেলিশহর, ৮নং ওয়ার্ড গোবিন্দারখীল, ফইল্লাতলী, কুসুমপুরা ইউনিয়ন, নালন্দা, খরনা, আনন্দর পাড়া, ১ নং ওয়াড কাগজিপাড়া, ৯নং ওয়ার্ড চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা জাহান উপমা বলেন, নারায়ণগঞ্জ লকডাউনের পর থেকে সপ্তাহের ব্যবধানে দেড়শতাধিক ব্যাংকার পটিয়ায় এসেছেন। তাদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলা হলেও তারা নিয়ম না মেনে বাইরে ঘোরাঘুরি করছে বলে অভিযোগ পাচ্ছি। সেজন্য কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এমনকি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরও বলা হয়েছে নিজ এলাকায় অন্য কেউ আসলে তাদের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে। কিন্তু কিছু মানুষের অসাবধানতার ফল পেয়েছে ৬ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুটি।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুরের শিবচরে প্রথম দেশের প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী পাওয়া যায়। এর প্রোক্ষণে নারায়ণগঞ্জ থেকে সারা দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এই করোনা ভাইরাসের পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর মাধ্যম ধরা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জকে। নারায়ণগঞ্জে অতিরিক্ত সংখ্যায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর পরই প্রশাসন পুরো এলাকাটি লকডাউন করে দিলেও ততোদিনে এই করোনা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে।

আইইডিসিআর রিপোর্ট অনুয়ায়ী দেশের সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জেই ১০৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পাওয়া গেছে। সংক্রমণে মারা গেছে ৯ জন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ