বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনএখন থেকে চট্টগ্রামে আরও বেশি পরিমাণে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হবে

এখন থেকে চট্টগ্রামে আরও বেশি পরিমাণে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হবে

এখন থেকে চট্টগ্রামে আরও বেশি পরিমাণে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হবে। টেস্টের পরিমাণ বাড়াতে চট্টগ্রামে এর মধ্যেই নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া করোনা আতঙ্কে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হওয়া ঠেকাতেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এক্ষেত্রে সেবা প্রার্থীদের সচেতনতার প্রতি মনোযোগ দেয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা।

গত ৯ দিন ধরে চট্টগ্রামে মোট ৮৯ জনের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ৭ দিনে ৬-৭টি করে পরীক্ষা করা হলেও বৃহস্পতিবার মোট ১৪ জনের পরীক্ষা হয়েছে বিআইটিআইডির ল্যাবে। শুক্রবার এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ জনে। এর মধ্যে প্রথমবারের মত চট্টগ্রামে একজনের মধ্যে করোনার সংক্রমণও মিলেছে পরীক্ষায়। পরিবহন সমস্যা ও স্যাম্পল কালেকশনে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ইচ্ছা থাকলেও বেশি করে নমুনা সংগ্রহ করা যাচ্ছিল না এখানে। তবে এখন থেকে টেস্টের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগও।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও করোনা বিষয়ক সেলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বিডিসময়২৪.কম কে বলেন, করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল ও পরিবহনের সংকট ছিল এতদিন। বিআইটিআইডির টেকনেশিয়ানরা শুধু এই নমুনা সংগ্রহ করে নিতে পারতেন। কিন্তু এবারে জেনারেল হাসপাতালের একটি টিমকে নমুনা সংগ্রহের ব্যাপারে ট্রেনিং নিতে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। তারা শনিবার থেকে চট্টগ্রামে কাজ শুরু করতে পারবে।

‘করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাল মিডিয়ায় ঢুকিয়ে আনতে হয়। এতদিন বিআইটিআইডি থেকে লোক এসে এসব নমুনা নিয়ে যেত। কিন্তু এটাতো বেশ কঠিন আর এই প্রক্রিয়ায় খুব বেশি নমুনা সংগ্রহের সুযোগ ছিল না। ধরুন সকাল ১১ টায় একটা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে গেলেন তারা। ১ টায় আরেকটা রোগীর খবর পাওয়া গেল। ৩ টায় আরও দুজন। এভাবে একটা টিম সীতাকুণ্ড থেকে কতবার আসা যাওয়া করবেন আর তারা কতদিকে যাবেন? এছাড়া পরিবহন সংকটও তো আছে। ভাইরাল মিডিয়া না থাকায় উপজেলাগুলো চাইলেও নমুনা পাঠাতে পারছে না’— করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের জটিলতা ব্যাখ্যা করে বললেন ডা. মিনহাজুর রহমান।

শনিবার থেকে জেনারেল হাসপাতালের টিমটাও নমুনা সংগ্রহ করবে। দিনে দুই বেলা সেসব নমুনা বিআইটিআইডিতে নিয়ে যাওয়া হবে। ফলে নমুনা সংগ্রহ করা যাবে বেশি। টেস্টও হবে বেশি। আমাদের এখন কিটের সমস্যাও নাই। লোকবলও বাড়ছে।

এদিকে করোনা টেস্টে একটিমাত্র ছাড়া বাকি সব ফলাফল নেগেটিভ আসা মানেই করোনামুক্ত ভেবে বসে থাকার সুযোগ নেই বলেও দাবি তার। একটি ছাড়া বাকি ৮৮টি টেস্টে কোন করোনা সংক্রমিত রোগী না মেলার বিষয়টি কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেগেটিভ পাওয়া মানে আমরাও বলছি না এটা করোনা ছিল না। কারণ যেহেতু একটা মহামারী চলছে আমি একবার টেস্ট করেছি পাইনি… আমি সেকেন্ড টাইম টেস্ট করাবো। আরও নিচের লেভেলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবো।

এখন আমরা নাক আর গলার একটু ভেতর থেকে শ্লেষ আনি। দরকার হলে আরও ভেতর থেকে শ্লেষ নেওয়ার চেষ্টা করবো। তবে এই সময়টা এখনো আসে নাই। তাছাড়া এটা একটু কষ্টসাধ্য বলে রোগীরাও হয়তো করতে চাইবে না।

করোনা আতঙ্কে রোগীদের সেবা না পাওয়ার হয়রানি থামাতে এর মধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ডাঃ মিনহাজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় আমরা ফ্লু কর্নার চালু করেছি। এগুলো আগে থেকেই ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে এগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। জ্বর, সর্দিকাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট এই চারটি লক্ষণ নিয়ে যারা আসবেন তারা ওই ফ্লু কর্নারে যাবেন। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর যদি ডাক্তাররা মনে করেন রোগী সেকেন্ড স্টেজে আছেন, তবে তাকে বিআইটিআইডি অথবা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেবেন।

চট্টগ্রামে এই চারটি লক্ষণের রোগীকে সরাসরি জেনারেল হাসপাতালে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল অন্য রোগীদের স্বার্থে এই ৪ উপসর্গের রোগীকে ভর্তি নেবে না। অন্য যেকোন রোগীকে ভর্তি করাতে বাধ্য তারা। এক্ষেত্রে নগরের এই ৪ উপসর্গের রোগীরা সরাসরি জেনারেল হাসপাতালে চলে যাবেন। সেখানে এই চার উপসর্গের যেকোন রোগীকে ভর্তি করানো হবে। আর ভর্তি করানোর পর তাদের প্রথম কাজটা হবে নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো। পরীক্ষায় করোনা পাওয়া গেলে তাকে আইসোলেশনে পাঠানো হবে। না হলে ছেড়ে দেওয়া হবে।

এক্ষেত্রে যদি রোগীরা এই নির্দেশনা সচেতনভাবে মেনে চলেন তাহলে উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সেই কেবল ৭০ শতাংশ রোগী সেবা পেয়ে যাবেন এবং সেবা পাওয়ায় হয়রানির সংখ্যা একেবারেই কমে যাবে বলে আশাবাদ তার।

কেমন হবে জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা এই প্রশ্নের জবাবে এই চিকিৎসক নেতা আরও বলেন, জেনারেল হাসপাতালে করোনার প্রতিটা ইউনিটে ৫ জনের একটা টিম কাজ করবেন। টিমে একজন ডাক্তার, ২ জন নার্স ও ২ জন ওয়ার্ডবয় থাকবে। এরা টানা এক সপ্তাহ কাজ করবে। এক সপ্তাহ তারা হাসপাতালে থাকবেন। এক সপ্তাহ পর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে চলে যাবেন তারা, এরপর আবার একসাথে ফিরে আসবেন। এভাবেই রোস্টার করে টিম বানিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে এখানে। এখানে বর্তমানে ১৫০ জন ডাক্তার আছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা পর্যায় থেকেও ডাক্তারদের প্রেষণে আনা হবে এখানে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ