ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
রাজধানীসহ দেশব্যাপী সকল ওষুধ ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৮দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকাল থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘট সন্ধ্যা ৬টায় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোগীদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তা লাঘব হচ্ছে। তবে আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ওষুধ ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লাইসেন্স স্থগিত করা কোম্পানির তালিকা প্রকাশ, আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তি ও জরিমানা মৌকুফ, সম্প্রতি অন্যায়ভাবে জব্দ করা ওষুধ ও জরিমানার টাকা ফেরত, জব্দ করা ওষুধ সমিতিকে দেয়া, অননুমোদিত ওষুধের নাম চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে লেখা বন্ধ, তল্লাশি অভিযানের সময় সমিতির প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ড্রাগ লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ৮শ’ টাকার বেশি জরিমানা না করা- এসব দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেয়। এ সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের হাসপাতালগুলোতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ৯টি মার্কেটে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ১০৩ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব। তাদের মধ্যে ২০ জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি ৮৩ জনকে সোয়া কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ২৮টি ওষুধের দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়।
ওই দিনই রাতে ৮২ জন ওষুধ ব্যবসায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রায় সোয়া কোটি টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান। রোববার রফিকুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবসায়ী দুই লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত ওষুধ ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে রোববার পুরান ঢাকার মিটফোর্ড রোডের ওষুধ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে প্রায় দিনভর বিক্ষোভ করেন।
এদিকে, শনিবার অভিযান পরিচালনাকারী র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন জানান, আইন ভঙ্গকারীদের জেল-জরিমানা দেয়া হয়েছে। কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়নি। শাস্তি পাওয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে কয়েকজনের ড্রাগ লাইসেন্স নেই, অনুমোদিত কোম্পানির বাইরে ওষুধ আমদানি করে কেউ আইন ভঙ্গ করেছেন।
এছাড়া নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি কেউ কেউ ওষুধ সংরক্ষণের জন্য ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেননি। ওষুধ আইন অনুযায়ী ওষুধের দোকানে টেস্টি স্যালাইন ও খাদ্য সম্পূরক বিক্রি করার নিয়ম না থাকলেও তারা তা করছিলেন। এসব কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ৮০টি মামলা হয়েছে।




