ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগে কখনো এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচন নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের কোনো আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আদৌ নির্বাচন হবে কি-না, হলে কখন কার অধীনে হবে তা-ও জনগণ জানে না। শনিবার বিকাল ৫টায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে জেলা জাতীয় পার্টির এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, গত ২৩ বছরে দেশে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি। অস্ত্র ও টাকার কারণে ভালো মানুষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন না। এর জন্য নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন করতে হবে। ব্যক্তি নয় দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে দল সংসদে আসন পাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশে আগের মতো উন্নয়ন হবে। দেশে শান্তি ফিরে আসবে।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, আওয়ামী-লীগই আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করে ক্ষমতায় এসেছিল, এখন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছে। এটা আওয়ামী লীগের দ্বিমুখী পলিসি। ঝিনাইদহ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ড. এম হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে জনসভায় দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কেন্দ্রীয় নেতা আহসান হাবিব লিংকন, সুনিল শুভ রায়, মেজর খালেদ আক্তার, শরিফুল ইসলাম সরু, শফিকুল ইসলাম মধু, মনিকা আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
প্রায় আধ ঘণ্টার বক্তৃতায় এরশাদ বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগ পর ঝিনাইদহে আসলাম। এতদিন ঝিনাইদহে জাতীয় পার্টিতে নেতৃত্ব সংকট চলছিল। তবে ড.এম হারুন অর রশিদ জাতীয় পার্টির হাল ধরায় সেই শূন্যতা পূর্ণ হয়েছে।’
এরশাদ তার দলের প্রার্থী ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে ড. এম হারুন অর রশিদের নাম ঘোষণা করে লাঙল মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানান। এছাড়া হারুনকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা দেন। এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে প্রথমে পদ্মা সেতু তৈরি করা হবে।
আওয়ামী-লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। সারা দেশে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি চরমে পৌঁছেছে। মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা মহাজোটে আছি নামে মাত্র। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দলীয়করণ করেছে। ঘুষ ছাড়া কেউ চাকরি পায়নি। পুলিশে ৩ লাখ ও শিক্ষক নিয়োগে ১০ লাখ টাকা করে ঘুষ দিতে হয়েছে। এই অবস্থায় দেশ চলতে পারে না। দেশে পরিবর্তন আনতে পারে একমাত্র জাতীয় পার্টির সরকার।
এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির শাসন ছিল উন্নয়নের। যমুনা সেতু আমি করেছিলাম। সে সময় তো দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি। জাতীয় পর্টি ক্ষমতা ছাড়ার পর বাংলাদেশ পাঁচ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
শেয়ারবাজার কেলেংকারি নিয়ে তিনি বলেন, ৩০ লাখ লোককে পথে বসিয়ে যারা শেয়ারবাজারের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিল, তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। তিনি বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন। এরশাদ বলেন, একটি লজ্জার কথা যে, রেলের কালো বিড়াল এখনো জনগণের বেতনে নিস্কর্মা মন্ত্রী, বিশ্বের কোথাও এমন নেই।
তিনি বলেন, শাহবাগে একজন বললো ঘরে ঘরে পতাকা তুলতে, আর অমনি আমরা তার নির্দেশ মানলাম। এক ব্লগার নিহত হলে প্রধানমন্ত্রী তার বাড়ি যান। তাকে শহীদ উপাধি দেয়া হয়। কিন্তু শহীদ হওয়া সহজ নয়।
এরশাদ বলেন, ‘শাহবাগের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের আমিই প্রথম প্রতিবাদ করেছিলাম। ইসলামের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলবে আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করব।’ জনসভায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে জেলার ৬ উপজেলা থেকে দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী জনসভায় উপস্থিত হয়। উল্লেখ্য, জনসভায় মঞ্চে উঠে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের হাতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।




