ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
নির্বাচন সামনে রেখে মহাজোট অটুট রাখতে মহাজোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারবিরোধী সমালোচনাকে সহজভাবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। তাই সরকারের বিরুদ্ধে এরশাদ সমপ্রতি প্রকাশ্যে সমালোচনায় ব্যস্ত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কোনো অভিযোগ নেই, বরং এটাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই দেখছে দলটি। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, জাতীয় পার্টিকে চাঙ্গা রাখতেই এরশাদের মুখে সরকারের সমালোচনা। আর তা করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে জোট-মহাজোট নিয়ে বৈঠক করা হবে। দীর্ঘদিনের জমাটবাঁধা রাগ-অভিমান থাকলে তা শেষ হয়ে যাবে। নির্বাচনী কলাকৌশল নির্ধারণ করা হবে ওই বৈঠকে। মহাজোটে থেকেও নির্বাচন পদ্ধতি, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, সংবিধান সংশোধন নিয়ে এরশাদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের কড়া সমালোচনা করে যাচ্ছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।
গত বুধবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন অনিশ্চয়তার দেশ। চারদিকে কেবলই অনিশ্চয়তা। নির্বাচন হবে কি না, হলে কিভাবে হবে, কোন দল অংশ নেবে, কারা নেবে- এ রকম হাজারো অনিশ্চয়তা। এর আগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশ আজ আস্তিক আর নাস্তিক- এই দুই ভাগে বিভক্ত। মুসলমানের দেশে নাস্তিকতার কোনো জায়গা নেই। আমি আস্তিকদের পক্ষে, মুসলমানের পক্ষে। কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, রায়ের পরে আইন পরিবর্তনের নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। ফাঁসি দিতে চান, দেন। তবে আইন মেনে দেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি মহাজোট ছাড়ারও ঘোষণা দেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, এরশাদ একটি দলের প্রধান। সামনে নির্বাচন। এসব বিবেচনায় দলের প্রয়োজনে তাঁকে সরকারের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সমালোচনা করতে হয়। তিনি সেটাই করছেন। অন্য একটি সূত্র দাবি করে, এরশাদের মুখে সরকারের সমালোচনা রাজনৈতিক মাঠের একটি খেলা। যতই সমালোচনা করুক এরশাদ মহাজোটেই আছেন, থাকবেন।
সূত্র জানায়, নির্বাচন সামনে রেখে এরশাদের সরকারবিরোধী কড়া সমালোচনাও সহ্য করে যাবে আওয়ামী লীগ। কারণ এরশাদের জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় রংপুর ও কুমিল্লা জেলার নেতারা জাতীয় পার্টিকে কম আসন ছাড় দেওয়ার দাবি করলে শেখ হাসিনা তাঁদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমরা জোটগতভাবেই নির্বাচন করব।’
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, এরশাদ সরকারের ছোটখাটো ভুলত্রুটি নিয়ে কথা বলতেই পারেন। এটা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তাঁরও তো একটি দল আছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জোটগতভাবেই নির্বাচন করবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, এরশাদ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলেন। এটা তাঁর রাজনৈতিক কৌশল। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ উদ্বিগ্ন নয়। মহাজোট আছে, থাকবে।
জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমরা মহাজোটের শরিক, এটা সত্যি। তবে সরকারের ভুলত্রুটি থাকলে তা নিয়ে কথা বলা যাবে না, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা কি আছে? এসব সমালোচনায় টানাপড়েন সৃষ্টি হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আছি। আর দু-এক মাস বাকি, টানাপড়েনের সুযোগ নাই। যেভাবে আছি আগামীতেও একইভাবে থাকব।




