ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
হেফাজতে ইসলাম আবারো আলোচনায়। ৫ মে’র পর থেকে অনেকটা ঝিমিয়ে যাওয়া সংগঠনটি গত শনিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় অনুষ্ঠিত ওলামা সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এরই মধ্য দিয়ে সংগঠনটি আবারো মাঠের কর্মসূচিতে সক্রিয় হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
ওই সম্মেলন থেকে সচিবালয় ঘেরাও করার মতো কর্মসূচি দেয়ার হুমকির বিষয়টি প্রশাসনসহ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে সম্মেলনে গঠিত নীতিনির্ধারণী উপকমিটি থেকে দুই শীর্ষ নেতা মঈন উদ্দিন রুহী ও মুফতি ফয়জুল্লাহর নাম বাদ পড়ার খবরে সংগঠনটির ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তিও দেখা দিয়েছে।
হেফাজতের নেতারা বলছেন, ওলামা সম্মেলনে হেফাজত থেকে কাউকে বাদ দেয়া নিয়ে কোনো আলোচনা যেমন হয়নি, তেমনি কাউকে বাদও দেয়া হয়নি। আলেম- ওলামার ঐক্যকে আরো দৃঢ় করার লক্ষ্যেই সম্মেলনে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, কৌশলগত কারণে এ দুই নেতার নাম নবগঠিত নীতিনির্ধারণী কমিটিতে দৃশ্যত রাখা হয়নি। সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা বিশ্বাস ও পুনঃস্থাপন, রাসূল সা:-এর প্রতি কটূক্তিকারী নাস্তিকদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করে আইন পাসসহ ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলাম এই দ্বিতীয়বারের মতো দেশের শীর্ষ আলেমদের নিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচি ঘোষণা করল।
ওলামা সম্মেলন থেকে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৩ দফা দাবি আদায় ও কওমি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ থেকে সরকারকে বিরত রাখতে সংগঠনটি মঙ্গল এবং বুধবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে আবারো মাঠে নামছে। এ ছাড়া সারা দেশে কমিটি গঠন, শানে রেসালত সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি প্রদানেরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা-পরবর্তী এই ওলামা সম্মেলনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
সম্মেলনে সারা দেশ থেকে এক হাজারেরও বেশি শীর্ষ আলেম যোগ দিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। আর সম্মেলনে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ২০১ সদস্যবিশিষ্ট একটি মজলিসে শূরা কমিটি গঠন করা হয়। আর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণের জন্য ২৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।
উপকমিটিতে হেফাজতের শীর্ষ দুই নেতার নাম না থাকার খবর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈন উদ্দিন রুহী ও মুফতি ফয়জুল্লাহকে এই কমিটিতে রাখা হয়নি বলে খবর প্রকাশ হলে এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আসতে থাকে। মুফতি ফয়জুল্লাহ এই খবরকে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য অপপ্রচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রোববার কয়েকজন আলেম অপর কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য দায়ী করে বিবৃতি দিলে এ নিয়ে বিভ্রান্তি আরো বাড়ে। সরকার সমর্থিত দু’য়েকটি পত্রিকায় হেফাজতে ভাঙন দেখা দিয়েছে মর্মেও খবর প্রকাশিত হয়।
সূত্র জানিয়েছে, হেফাজতের মজলিসে আমেলা নামে যে উপকমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে সক্রিয়ভাবে অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে আছেন এমন নেতাদের নাম রাখা হয়নি কৌশলগত কারণে। ফলে এই তালিকায় মুফতি ইজহার, মাওলানা আব্দুল রব ইউসুফী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মঈন উদ্দিন রুহী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবসহ অনেকের নাম প্রকাশ্যে রাখা হয়নি। তবে তারা মজলিসে শূরা এবং মূল কমিটিতে রয়েছেন। এমনকি তাদের এই কমিটিতেও যেকোনো সময় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আল্লামা শফী কোনো প্রমাণ ছাড়া এই দুই নেতার সম্পর্কে কোনো অভিযোগ করার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করেছেন।
সূত্র মতে, ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের অবস্থানের সিদ্ধান্তের পেছনে এই দুই নেতার প্রভাব ছিল বলে সরকার মনে করে। এই কারণে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে হেফাজত থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেফাজতের ওপর চাপ রয়েছে।
এ ব্যাপারে হেফাজতের বক্তব্য জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ বলেন, হেফাজত থেকে কাউকে বাদ দেয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। কাউকে বাদ দেয়াও হয়নি। কিছু সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে সেগুলো সঠিক নয়। ওলামা সম্মেলনে গঠিত দু’টি কমিটিতে কারা কারা আছেন তার তালিকাও হেফাজতের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত খবরের ব্যাপারে আল্লামা শফী বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলেও তিনি জানান।




