শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদটপশুধু ভালবাসা দিয়েই সম্পর্ক দীর্ঘায়িত করা যায় না

শুধু ভালবাসা দিয়েই সম্পর্ক দীর্ঘায়িত করা যায় না

বিনোদন ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, শুধু ভালবাসা দিয়েই সম্পর্ক দীর্ঘায়িত করা যায় না। প্রেম-ভালবাসার সাথে আরো কিছু বিষয়ের যত্ন-আত্তি করতে হয়। বিশেষ করে বিয়ের মতো পারিবারিক সম্পর্ক তৈরিতে এ ব্যাপারটি নিয়ে কিছু গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ ভালবেসেই হোক আর পরিবারের পছন্দ মতোই হোক, এ যুগের ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বন্ধনটা খুব দ্রুতই ছিঁড়ে যাচ্ছে। পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ হয়ে পড়ছে ক্ষণস্থায়ী। তাই মানুষের এই পবিত্র বন্ধনটিকে টিকিয়ে রাখার নানা কৌশল আর উপায় শেখানোর চেষ্টা করছেন এসব বিষয়ের জ্ঞানী-গুণী আর বিশেষজ্ঞরা।

ক্ষণস্থায়ী সংসারের তিক্ত অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে, তারা এর কারণ হিসেবে নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। কারো কাছে এর কারণ শুধুই মনের অমিল। কেউ ভাবেন অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতাই দায়ী। আবার অনেকের কাছেই পরজনে আসক্তি সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ। এ সবকিছু নিয়ে ব্যাপক বিচার বিবেচনার পর শেঁকড় সন্ধানের চেষ্টা করেছেন জ্ঞানীরা। সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে আপনাদের কিছু মূলমন্ত্র দিচ্ছেন তারা।

একসাথে পা ফেলুন এবং শিখুন: বিশেষজ্ঞরা বিয়ের শর্তে প্রেমের বিষয়টাকে বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। এতে করে একে অপরকে বোঝার অনেক সময় পান। একজনের পুরো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অপরেরটি মিলিয়ে দেখা যায় কোন জায়গাগুলোতে সমস্যা রয়েছে। অনেক দেশে ধর্ম এবং সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ না খেলেও ‘লিভ টুগেদার’ বিষয়টিকে সবচেয়ে আদর্শ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এতে যুগলেরা পরস্পরকে একেবারে কাঁচের মতো পরিস্কার করে দেখতে পায়। কপোত-কপোতিরা মনে রাখবেন, যে মানুষটিকে আপনি বেছে নিতে যাচ্ছেন বা ভালবাসছেন, তার সাথে আপনার বাকী জীবন কাটিয়ে দিতে হবে।

একই পোশাকে দুজন: মনের মিল ছাড়াও আপনাদের বাহ্যিক মিলটিও কিন্তু বেশ কাজের। যুগলদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে কাউন্সিলিং করেন এমন অধিকাংশের মতে, আপনারা যুগলবন্দী, একে অপরকে ছাড়া থাকতেই পারেন না। শুধু মনের দিক থেকেই নয়, আপনারা কাজের দিক থেকেও অনেক কিছু একসাথে করতে পারেন। সকালে হালকা ব্যায়ামের কাজটিও একসাথে করতে পারেন, একসাথে খাবার খেতে পারেন, কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে রঙ বা সাজসজ্জায় মিল রেখে পোশাক পরতে পারেন ইত্যাদি। তাহলে দেখবেন, একজন আরেকজনের চোখে রীতিমতো অপূর্ব সুন্দর হয়ে উঠছেন। আর মানুষ যখন আপনাদের এই মিল দেখে প্রশংসা করবেন, তখন দেখবেন কী ভালটাই না লাগে।

একসাথে অন্য কাজও করুন: পেশাগত কারণে দিনের বড় একটা সময় যাদের মাঝে বিচ্ছেদের ঘনঘটা থাকে, এ পরামর্শটি তাদের জন্যে ওষুধের মতো কাজ করবে। ছুটির দিনগুলোতে যে কাজই করুন না কেনো, একসাথে করুন। পার্কে ঘুরতে যান, একসাথে চর্কিতে উঠুন, দোলনায় চড়ুন হাতে হাত রেখে। প্রেমের সম্পর্ক পুরনো হয়ে থাকলে দুজনই বুঝবেন কে কী করতে বেশি পছন্দ করেন। এ বুদ্ধিটি যারা একসাথে ব্যবসা পরিচালনা করেন তাদের জন্যেও ভাল কাজ দেবে।

ব্যক্তিগত কাজেও সময় দিন: যুগলদের আবার বেশি বেশি একসাথে থাকাটাও তিক্তকর হতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে অন্য বন্ধুদেরও সময় দিন। অন্য কাজ থাকলে কিছু সময়ের জন্যে তাতে ডুবে যান। এতে করে আপনার একান্ত নিজের ভাললাগা, নিজস্ব স্বত্ত্বার সন্ধান পাবেন। যদিও প্রিয়জনের সাথেই আপনার শ্রেষ্ঠ সময় কাটে, তবুও নিজের কাছের বন্ধুদের সাহচার্য আপনার মধ্যে ভিন্নতা এনে দেবে।

বয়েস কোনো ব্যাপার নয়: কম বয়েসী উদ্যোমী মেয়ের প্রাণচাঞ্চল্যের সাথে একটু বেশি বয়েসী ধীরস্থির পুরুষের বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভাল কিছু এনে দিতে পারে। কাজেই প্রেম-ভালবাসা এবং বিয়ের বন্ধনে দুজনের বাধা পড়তে বয়েস কোনো ব্যাপার নয়। অনেকে অবশ্য বলেন যে, বয়েসের ব্যবধান বেশি হলে দুজনের মাঝে মনের মিল হয় না। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, মনের অমিল বলতে যা বোঝায় তা সব মানুষের মধ্যেই রয়েছে। একেক মানুষের চাওয়া পাওয়া আর পছন্দ একেক রকম হয়।

কিন্তু সাংসারিক জীবনে এসব অমিলের সাথে যদি বয়েসের ব্যবধান থাকে, তবে একজনের অবুঝ মন-মানসিকতার সাথে অপরজনের অভিজ্ঞ সিদ্ধান্ত এক হয়ে ভারসাম্য রক্ষা করবে। তাছাড়া আধুনিক যুগের ছেলে-মেয়েরা যথেষ্ট স্মার্ট এবং তারা বোঝেও যথেষ্ট ভাল। বয়েস সমান বা কাছাকাছি হলে বরং যে যে যার যার সিদ্ধান্ত নিয়ে অবুঝের মতো আচরণ করতে পারে। এতে দুজনের প্রেমের বাঁধনটা শক্ত হওয়া তো দূরের কথা ছিঁড়ে যেতে বেশি সময় নাও লাগতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ