পদ্মা সেতুর ৩৬ ও ৩৭নং পিলারের ওপর ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হয়েছে। ফলে সেতুর মূল কাঠামোর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হলো। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাজিরা পয়েন্টে ওই স্প্যানটি বসানো হয়। সেতু বিভাগের প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর ৩৬ ও ৩৭নং পিলারের ওপর ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হয়েছে। স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ আরও একধাপ এগিয়ে গেছে। দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৯০০ মিটার। সংযুক্ত হয় সেতুর দক্ষিণাংশ জাজিরার পাড়ের সঙ্গে। মঙ্গলবার সকালে শক্তিশালী ভাসমান ক্রেন দিয়ে মুন্সীগঞ্জের কুমারভোগের বিশেষায়িত জেটি থেকে স্প্যানটি জাজিরায় আনা হয়। ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেতুর ১ম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যান, ১০ মার্চ তৃতীয় স্প্যান, ১৩ এপ্রিল ৪র্থ স্প্যান ও ২৯ জুন ৫ম স্প্যান বসানো হয়। জাজিরা পূর্বনাওডোবা এলাকার নেছার মাদবর বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে আমাদের বাপ-দাদার জমি দিয়েছি। মনে করেছিলাম সেতু করার নামে আমাদের জমি নিয়ে গেল। পর পর ৬টি স্প্যান বসানোর খবর শুনে মনে হচ্ছে- এ সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়; এটি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এতে আমরা খুশি ও আনন্দিত। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। নাওডোবার মোসলেম মাদবর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেন।
সেতু কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, পদ্মা সেতুর মোট পিলার ৪২টি, এর মধ্যে ১৬টির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। ১৫টি পিলারের কাজ চলছে। মোট ২৬১টি পাইলের মধ্যে ১৯১টি পাইলের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৫টি পাইলের আংশিক কাজ শেষ। এ ছাড়া ১৭টি স্প্যান প্রস্তুত রয়েছে। প্রস্তুত করা হচ্ছে আরো ১৮টি স্প্যান।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। সেতুর ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর পাঁচটি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে জাজিরা প্রান্তে পৌনে এক কিলোমিটার কাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে।




