কর্ণফুলী নদী কেন্দ্রিক শিল্পের বিপুল সম্ভাবনাময় চট্টগ্রাম- ১৩ আসন। আওয়ামী লীগ থেকে টানা দুই বার নির্বাচিত প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জান চৌধুরী, উন্নয়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন এ আসনে। বিএনপি মরিয়া আসনটি আবার দখলে নিতে। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তাদের আছে একাধিক প্রার্থী।
শাহ আনোয়ারা সেতুর দক্ষিণে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম ১৩ আসন। কর্ণফুলী ট্যানেলের সংযোগসহ দেশী-বিদেশি ভারি শিল্পের কারখানার অবস্থান এখানে। জাতীয় নির্বাচনে পাঁচবার দখলে ছিল এই আসন। আগামী নির্বাচনে দুইবার সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরি জাবেদ অনেকটা আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী।
জানা যায়, আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে চট্টগ্রাম ১৩ সংসদীয় আসন, এ আসনে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের ঘাটি ও কর্ণফুলী উপজেলাকে বলা হয় বিএনপির ঘাটি। বিগত নির্বাচনগুলো আওয়ামীলীগ প্রার্থী আনোয়ারায় এগিয়ে থাকলেও কর্ণফুলী উপজেলার ভোটে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসছে। তার ব্যাতিক্রম হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, সে বার আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। পরবর্তী আখতারুজ্জামান বাবু মৃত্যুবরণ করলে উপ-নির্বাচনে বাবুপুত্র সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ভূমি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে মন্ত্রী সভায় স্থান পেয়ে আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলাবাসী প্রথমবারের মতো মন্ত্রীর স্বাদ পায় । মন্ত্রী হয়ে আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, এছাড়াও কর্ণফুলীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি কর্ণফুলীকে উপজেলা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তাই কর্ণফুলী উপজেলায় বিএনপির ভোট অনেকটা কমে যাবে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
আওয়ামীলীগ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবেন বর্তমান সাংসদ সরকারের ভূমিপ্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তার জন্য প্রতি শুক্রবার আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জুমার নামাজ আদায় করছেন। স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারক সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাষ্ট্রির সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসাবেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
এছাড়াও এ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন আওয়ামীলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, রাষ্ট্রদূত আতাউর রহমান খান কায়সারের কন্যা কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ওয়াসিকা আয়েশা খান। এ লক্ষে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ক্যাম্প, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করছেন।
আনোয়ারা-কর্ণফুলী সংসদীয় আসনের বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চাইবে সাবেক সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজাম, মোস্তাফিজুর রহমান। দ্বি-ধারায় বিভক্ত আনোয়ারা-কর্ণফুলী বিএনপিতে চলছে হিসাবের লড়াই, বিগত কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দলের তৃণমূল নেতাদের দূরে রেখে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে সরোয়ার জামাল নিজামের। এছাড়াও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় নেতাদের কোন খবর রাখেনি বলেও অভিযোগ দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের। এছাড়া জনপ্রিয় বিএনপি নেতা জামাল উদ্দীন অপহরণ ইস্যুতে নাজুক অবস্থায় আছেন তিনি। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও নির্বাচনে জয়ী হতে প্রচুর কষ্ট হবে, কারণ এতদিন এ আসনে তার সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করার মতো শক্ত কোন প্রার্থী না থাকলেও এবার মাঠে নেমেছেন নিজামবিরোধী হিসাবে পরিচিত নেতারা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এডভোকেট কবীর চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি কাস্টম জালাল উদ্দীন আহমদ গ্রুপের সমর্থন নিয়ে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন তরুণ বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান। এ লক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি ও দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের একতাবদ্ধ করছেন তিনি। তৃণমূলের নেতাদের জন্য দশ হাজার সদস্য ফরম নিয়ে মাঠে নামছেন তিনি। তাকে সমর্থন জানাচ্ছেন প্রবীণ আইনজীবি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এডভোকেট কবীর চৌধুরী ও কাস্টম জালাল।
আওয়ামী লীগ নেতা বলছেন, গেলো দশ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হয়েছে তার ছোঁয়া চট্টগ্রাম ১৩ আসনেও লেগেছে। তাই জনগণ আবার আওয়ামী লীগকে নির্বাচত করবে। এদিকে চারবার বিএনপির দখলে ছিল আসনটি। এবার একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে রয়েছে দলটি। তিনবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য সরোয়ার জামান নিজামের পাশাপাশি আনোয়ারা উপজেলার সহসভাপতি মোশাররফ হোসেনসহ পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাশি।
চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মামুন বলেন, ‘বিএনপির আমলে এই এলাকায় কোন সন্ত্রাস ছিল না। বিএনপির আমলে বিএনপির কেউ দুর্নীতি করে নি। এই জন্য সাধারণ জনগণ সব সময় বিএনপির পক্ষে থাকে। আগামীতেও মানুষ বিএনপির পক্ষে থাকবে। যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উন্নয়নের দাবি স্থানীয় ভোটারদের। তারা বলছেন, যারা এই এলাকার উন্নয়ন করবে তাদেরকেই বেছে নিবে ভোটাররা। কর্ণফুলি অন্যান্য উপজেলার মত আরো শিল্পান্নয়ন হয় তবে আমাদের অর্থনীতি বাড়বে। এই আসনে ভোটার তিন লাখ নয় হাজার ছয়’শো সাতানব্বই। এর মধ্যে মহিলা এক লাখ ছয়চল্লিশ হাজার।




