নারীদের ভোট ছাড়া আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, নারীদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের বেশি ভোট আসে। এজন্যই প্রধানমন্ত্রী নারীদের বেশি পছন্দ করেন। রবিবার সন্ধ্যায় নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে ১২তম ইন্টারন্যাশনাল উইম্যান এসএমই এক্সপো-২০১৮ উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, আপনাদের বিরাট সম্ভাবনা আছে। সে সম্ভাবনাটা ব্যবহার করে আরোও এগিয়ে আসেন। আপনারা ব্যবসা করছেন ভালো কথা। তবে পলিটিক্সেও নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশই নারী। কিন্তু সংসদে তাদের আসন মাত্র ৫০টি। মাত্র ৫০ নয়, তাদের আসন ১ শ ৫০ হতে হবে। এটা শুধু কথার কথা নয়। আপনাদের কাছে ৫১ শতাংশ ভোট রয়েছে। কিভাবে নারীদের পলিটিক্সে এগিয়ে আসতে হবে তার উদাহরণ আমাদের এমপি নিজেই (সংসদ সদস্য সাবিহা নাহার বেগম)। তিনি জানেন কিভাবে নারীদের এগিয়ে যেতে হয়। নির্বাচনের সময় এসে গেছে। আপনার রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের ভোট দিয়ে আপনারা এগিয়ে যাবেন। এ ভোট দিয়ে দাবি আদায় করতে পারেন। যেদিন আপনারা এ দাবি আদায় করবেন, সেদিন দেখবেন সকল বন্ধ জানালা একসাথে খুলে যাবে। এরমধ্যে কোন সন্দেহ নেই। আমি এটা অন্তর থেকে বিশ্বাস করি। যখন আপনারা সংসদে যাবেন, তখন আপনারা দেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। যত বাঁধাই আসুক না কেন। সকল বাঁধা নিমিশেই ভেঙে ফেলা সম্ভব। পৃথিবীর সবস্থানে নারীদের গ্লাস সিলিং দিয়ে আটকে রাখা হয়। তাদের উপরে যেতে দেওয়া হয় না উল্লেখ করে গওহর রিজভী বলেন, এই গ্লাস সিলিং ভাঙার পথ বিজনেস ও পলিটিক্স। কাজেই এ দুই পথে নারীদের দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশের নারীরা সাউথ এশিয়াতে সবার আগে অবস্থান করছে। এটা সত্যিই গর্বের ব্যাপার। কিন্তু আমরা এখানে থেমে যেতে চাইনা। আমাদেরকে আরোও অনেক পথ এগিয়ে যেতে হবে। দেশে অর্ধেকেরও বেশি নারী থাকা পরও মাত্র ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা। এটা ভালো হলেও তা যথেষ্ট নয়। তা সমপরিমাণে পৌঁছাতে হবে।
মেলার আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ৩৬ বছর দেশের বাইরে ছিলাম। ২০০৯ সালে যখন ঢাকায় ফিরি তখন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। হারানো অবস্থায় একটা অনুষ্ঠানে মনোয়ারার সাথে আমার পরিচয় হয়। তার সাথে পরিচয় হওয়ার পর সে এসব সর্ম্পকে আমাকে অবহিত করেন। ২০০১ সালে প্রায় ৫ বছর দিল্লিতে ছিলাম। তখন যে এওয়ার্ড পেয়েছি তা আজও বুকের কাছে রাখি। আরো অনেক জায়গায় এওয়ার্ড পেলেও এ এওয়ার্ডটা আমার জন্য বিশেষ পাওয়া।
উইম্যান চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ড. মনোয়ারা হাকিম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্য সাবিহা নাহার বেগম এমপি, চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব-আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সাদ মোহাম্মদ আল-মুহাইরি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যানের উপাচার্য প্রফেসর নির্মলা রাও এবং লায়ন কামরুন মালেক। স্বগত বক্তব্য রাখেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট, মেলা কমিটির চেয়ারপার্সন ডা. মুনাল মাহবুব।
সাবিহা নাহার বেগম এমপি বলেন, আমরা নারী, আমরা পারি, আমরা করি। আর সেটা প্রমাণ করেছে উইম্যান চেম্বার। উইম্যান চেম্বারের সকল প্রতিনিধির নেতৃত্বেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করবো এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।
মাহবুবুল আলম বলেন, নারীরা ব্যবসা করবে তা সমাজ পছন্দ করতো না। প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়ন নীতির কারণেই আজ নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। নারীরা এগিয়ে আসলে দেশ এগিয়ে যাবে। আর ঘরে বসে থাকা যাবে না। আগামী দশ বছর দেশের উজ্জ্বল সময়। তাই পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সরকারকে সহযোগিতা না করলে দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম ব্যবসার জন্য অন্যতম স্থান। তাই এ অঞ্চলের ইকোনমিক জোনকে কাজে লাগাতে হবে।
অনুষ্ঠানে ১২টি ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে এবং মাটির ব্যাংক ভেঙে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ড. গওহর রিজভী। এর আগে সফল নারী উদ্যোক্তা ফাতেমা বেগম, নাসরিন সরওয়ার মেঘলা ও মুশতারী মোরশেদ স্মৃতি, নূর নাহার বেগম ও সাজেদা বেগমকে সম্মাননা জানানো হয়।
পরে আর্ন্তজাতিক এওয়ার্ডজয়ী ড. মনোয়ারা হাকিম আলী, কামরুন মালেক, আবিদা সুলতানা, আয়শা আকতার ডালিয়া, ডা. মুনাল মাহবুব, মানতাসা আহমেদ, সৈয়দা জিন্নাত আরা নিপুন, সুলতানা নূরজাহান রোজী, জেসমিন আক্তার, সাবরিনা একরাম সিরাজী, শারমিন হোসাইন, গুলশানা আলী, নাফিজা শারমিন, রুহী মোস্তফা, আয়শা ফরহাদ চৌধুরী, রেবেকা নাসরিন, রোজিনা আক্তার লিপিকে উত্তরীয় ও মেডেল পরিয়ে দেন অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আগত দর্শকদের মুগ্ধ করতে পুরো অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে ছাতা, পাখা, পুষ্পনৃত্য পরিবেশন করে মারমা ও বম শিল্পীরা। এবারের মেলায় ছোট-বড় প্রায় সাড়ে তিন’শ স্টল এবং দশটি প্যাভেলিয়ন অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ইরান, ভারত, চায়না, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তানের উদ্যোক্তাগণ মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলা প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত চলবে। মেলার প্রবেশ মূল্য রাখা হয়েছে ১৫ টাকা।




