শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনউত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আনোয়ারার রাজনীতি

উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আনোয়ারার রাজনীতি

আনোয়ারায় আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর চৌধুরী হত্যা চেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামি জামিনে মুক্তির পর কর্মসূচিকে ঘিরে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। সোমবার দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৭ জনকে আটক করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আসামি স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল আজিজ ও দক্ষিণ জেলা তাঁতীলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গতকাল এলাকায় আসেন। সকালে তাদের অনুসারীরা বারখাইন ইউনিয়নের সরকার হাট এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করে। তারা মামলা প্রত্যাহার ও অভিযুক্তদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে দুপুর ১২টার দিকে একটি মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হামলার শিকার আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর চৌধুরীর বাড়ির সামনে পৌঁছলে মিছিল থেকে অশ্লীল ভাষায় স্লোগান দেয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে মিছিল থেকে ফাঁকা গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ উঠে। গুলিতে পুরাতন ফেরিঘাট সংলগ্ন গরু বাজার এলাকায় গরু ব্যবসায়ী শওকত (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। আহতকে আনোয়ারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তৈলারদ্বীপ বটতল এলাকায় কয়েক ঘন্টা দোকানপাট বন্ধ থাকে। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। ঘটনার পরপরই আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহাবুব মিল্কীর নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারসহ ৭ জনকে আটক করে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানালেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতদের নাম জানাতে পারেনি। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহাবুব মিল্কী বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় নিজ বাসার সামনে সস্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের এডহক কমিটির সদস্য এস.এম আলমগীর চৌধুরী। ঘটনার পরদিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় আলমগীর চৌধুরীর ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ এ ঘটনায় নেজাম উদ্দিন ও মুরাদ খাঁন নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পাঁচলাইশ থানা সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীক্ষারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জড়িদের নাম প্রকাশ করলে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ারার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ গ্রামের ইউপি সদস্য আবদুল আজিজ ও তরুণলীগ নেতা জসিম উদ্দিনকে এ মামলায় আসামি করে। পরে আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এলাকায় মিছিল করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় দা-কিরিচ ও একটি দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও মিছিল বের করেছিল। সে মিছিলে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করেছে। তারা আমাকে ফাঁসানোর জন্য আমার অফিসের পেছনে দা-ছোরা রেখে গেলে পুলিশ তা উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ