চলতি হজ্ব মৌসুমে চট্টগ্রাম থেকে বিমানের প্রথম সরাসরি হজ্ব-ফ্লাইট অদ্য ২২ জুলাই ২০১৮ উদ্বোধন করা হয়। বিমানের নিজস্ব ক্রয়কৃত উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর দ্বারা পরিচালিত বিজি ৩০৩৩ ডেডিকেটেড হজ্ব-ফ্লাইটটি ৪০৫ জন হজ্ব-যাত্রী নিয়ে বিকাল ৩:৩০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে মদিনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ.এম. মোসাদ্দিক আহমেদ এ উপলক্ষে হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এবং উদ্বোধনী ফ্লাইটের সম্মানিত হজ্ব যাত্রীদের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাত ও কুশল বিনিময় করেন। উক্ত হজ্ব-ফ্লাইট ছাড়ার পূর্বে হজ্ব-যাত্রীদের নিরাপদ, নির্বিঘ যাত্রা ও সুষ্ঠু হজ্ব-ফ্লাইট পরিচালনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ, চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক- সজল কান্তি বড়ুয়া, ষ্টেশন ব্যবস্থাপক- গোলাম নাসের আজমী, ব্যবস্থাপক জনসংযোগ তাছমিন আকতার, চট্টগ্রাম আটাব সভাপতি- মোঃ আবু জাফর, হাব চট্টগ্রাম সভাপতি- মোঃ শাহ আলম ও বিমান সি.বি.এ. চট্টগ্রাম ষ্টেশনের সভাপতি এফ.এম. দিদারুল আলম চৌধুরী।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তাঁর বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে এ বছর ০৯টি ডেডিকেটেড হজ্ব-ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি মদিনায় মোট ০৪টি ও চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দায় সরাসরি ০৫টি হজ্ব-ফ্লাইট। এছাড়াও চট্টগ্রাম-জেদ্দা ১৪টি শিডিউল ফ্লাইটে হজ্ব-যাত্রী পরিবহন করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে যে সকল হজ্ব-যাত্রী হজ্ব-পালনে পবিত্র ভূমিতে যাবেন, তাঁদের হজ্ব-যাত্রা নির্বিঘœ ও আরামদায়ক করে তুলতে বিমান ব্যবস্থাপনা প্রতি বছরই এই সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
গত বছর চট্টগ্রাম থেকে ডেডিকেটে হজ¦ ফ্লাইটের সংখ্যা ছিল ১৫টি এবার এটি করা হয়েছে ০৯টি। চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা রুটে সিডিউল ফ্লাইট বৃদ্ধির কারণে ডেডিকেটেড হজ¦-ফ্লাইটের সংখ্যা কমানো হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা রুটে ফ্লাইট ফ্রিকুয়েন্সী ইতিমধ্যে সপ্তাহে ০২টি থেকে বৃদ্ধি করে ০৩টি করেছে। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম থেকে ১২ হাজার ৫১৫ জন হজ্ব-যাত্রী পরিবহন করা হলেও এ বছর রেজিষ্ট্রাড হাজী ৯ হাজার ৮৮৭ জন। উক্ত রেজিষ্ট্রার্ড হাজীগণের মধ্যে কিছু সংখ্যক ঢাকা হতে যাবেন এবং কিছু সংখ্যা সৌদি এয়ারলাইন্সএ গমন করবেন।
বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ১,২৭,১৯৮ জন হজ্ব-যাত্রী পবিত্র হজ্বব্রত পালনে সৌদি আরব যাবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট হজ্ব-যাত্রীর অর্ধেক অর্থাৎ ৬৩,৫৯৯ জন হজ্ব-যাত্রী ১৫৫টি ডেডিকেটেড এবং ৩২টি শিডিউল সব মিলিয়ে ১৮৭টি ফ্লাইটে পরিবহন করবে। বিমানের হজ্ব-যাত্রীর মধ্যে ৭,১৯৮ জন সরকারী ব্যবস্থাপনায় এবং ৫৬,৪০১ জন বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় হজ্বে যাবেন। এসব হজ্ব-যাত্রীদের পরিবহনের জন্য বিমানের ০৩টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর এবং লীজের ০১টি বোয়িং উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজ্ব-যাত্রীরা পবিত্র ভূমিতে যাবেন। পবিত্র হজ্বের গুরুত্ব ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি সর্বাঙ্গ-সুন্দর হজ্জ কার্যক্রম পরিচালনায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। হজ্ব-ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-জেদ্দা উভয় স্থানেই বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।
মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ শাকিল মেরাজ সংবাদ সম্মেলনে জানান, আজ ২২ জুলাই ২০১৮ সকাল ০৮:০০ ঘটিকা পর্যন্ত বিমানের ০৮টি সিডিউল ও ৪৩টি ডেডিকেটেড ফ্লাইটসহ সর্বমোট ৫১টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ৩৯১ জন এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্স-এ ১৯ হাজার ৬৮১ জন অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে মোট ৪০ হাজার ৭২ জন হজ্ব-যাত্রী ইতিমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এ বছর সৌদি সরকার নির্ধারিত বরাদ্দকৃত স্লটের বাইরে অতিরিক্ত কোন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি প্রদান করবে না বলে অবহিত করেছে। তিনি আরো জানান, আগামী ২৯ জুলাই’ ১৮ হতে ১০ আগষ্ট’ ১৮ সময়কাল পর্যন্ত বিমানের বিভিন্ন ফ্লাইটে এখনও প্রায় ৮০০০ টিকেট অবিক্রিত রয়েছে। যেহেতু সৌদি কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এ বছর তারা বিমানকে অতিরিক্তি ০১টি স্লটও প্রদান করবে না, সে কারণে যাত্রীর অভাবে কোন ফ্লাইটের লোড বিল্ড আপ না হলে বা আসন খালী গেলে উক্ত ফ্লাইটের হজ্ব-যাত্রীদের হজ্ব-যাত্রা বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এ প্রেক্ষিতে বিমানের পক্ষ থেকে সকল হজ্ব এজেন্সীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হজ্ব- যাত্রীদের অনুকূলে টিকেট সংগ্রহের অনুরোধ করা হয়, যাতে ফ্লাইট বাতিলের মত কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি না হয়। এ বছর হজ্ব-ফ্লাইট শুরুর প্রায় ০২ মাস আগেই বিমান হজ্বের টিকেট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ সরকার এ বছর বাড়ী ভাড়া ও ভিসা সংগ্রহের আগেই হাজী সাহেবানদের টিকেট সংগ্রহ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ০৯ লক্ষ ৯৭ হাজার ৬৪৮জন হাজী হজ্ব-পালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর সেবা গ্রহণ করেছেন।




