শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনসন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এসব খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিভাগীয়...

সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এসব খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিভাগীয় কমিশনার

সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এসব খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়ে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, ‘আমাদের সন্তানেরাই আমাদের ভবিষ্যত। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে গিয়ে কিংবা কৌতুহলী হয়ে তারা অনেকে মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনছে। এ জন্য অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। ২৬ জুন নগরের মোটেল সৈকতে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযানের কারণে মাদকের রাঘব-বোয়ালরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। অনেকে বিদেশে পালিয়ে গেছে। কিন্তু তারা থেমে নেই। মাদক কারবারি চালু রাখতে বিদেশে বসেই নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তবে তাদের সবার তালিকা সরকারের কাছে রয়েছে। সময়মতো সবার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণমাধ্যমের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, গেলো দেড় মাসে মাদক বিরোধী অভিযানে ১৫ হাজার মামলা হয়েছে। মাদক কারবারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০ হাজার ১১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৫৮ জন মাদক কারবারি ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে বর্তমান সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে কতোটা আন্তরিক। তবে আমাদের সীমান্তে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। সীমান্তেই মাদক আটকে দেওয়া গেলে তা আর দেশব্যাপী ছড়াতো না।

মাদক করবারিরা স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ খারাপ সময়ে আছে উল্লেখ করে আবদুল মান্নান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে মাদক কারবারির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে আইন প্রণয়ণের কাজ চলছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে আরও কার্যকর করতে তাদের সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করার চিন্তা ভাবনা চলছে। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে নিজেদেরকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে।

সভায় সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মাসুদ-উল-হাসান বলেন, বাংলাদেশে মাদক উৎপাদন না হলেও প্রতিবেশি ভারত, মায়ানমার, পাকিস্তান, আফগানিস্তানে প্রচুর পরিমাণ মাদক উৎপাদন হয়। ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে এসব দেশ থেকে প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্তেই সবার আগে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী মাদকের ছড়াছড়ি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মাদক বিরোধী অভিযানে ‘চরম ড্রোজ’ দেওয়া হচ্ছে। তবে মাদকের চাহিদা থাকলে মাদক আসবেই। মাদকবিরোধী অভিযান কোনো কাজে আসবে না। এজন্যে মাদক সেবীদের পুণর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। মাদকের ডিমান্ড কমাতে হবে। ডিমান্ড কমাতে পারলে সাপ্লাই বন্ধ হবেই।

জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্ত্তী, অপর্ণা চরণ সিটি করপোরেশন স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ঈসমাঈল, চট্টগ্রাম জেলা্ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান অ্যান্ড মিনি ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান এবং মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফেরা মো. কামরুল্লাহ।

সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাবিবুর রহমান. অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাশহুদুল কবীর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর চট্টগ্রাম মেট্রোর উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে নগরের নিউ মার্কেট এলাকায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে একটি র‌্যালী নিউ মার্কেট এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে মোটেল সৈকতে এসে শেষ হয়। এতে নগরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ