ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর শনিবার কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করতে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘ফেলানীর ঘটনা দুই দেশের জন্য লজ্জাজনক ও দু:খজনক ঘটনা। আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে যথাবিহিত প্রতিকার চেয়েছিলাম ফেলানী হত্যার। তারা ভারতীয় বিএসএফ’র আইন অনুযায়ী সীমান্তরক্ষীদের আদালতে তা উত্থাপন করেছিল। আদালত প্রাথমিক পর্যায়ে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, ফেলানীর ব্যাপারে আমরা যে সুবিচার আশা করেছিলাম, সে সুবিচার এখনও পাওয়া যায়নি’।
উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামে সমাহিত ফেলানীর বাড়ি থেকে ১৩ কি.মিটার দুরে নাগেশ্বরী থানা ভবন ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের সময় তিনি আরো বলেন, ফেলানী হত্যা মামলার রায় সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ এখনও পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত বিবরণ পেলে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
দুপুর সাড়ে ১২টায় নাগেশ্বরী পৌর মিলনায়তনে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সঞ্জয় কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এক সুধি সমাবেশে স্বরাস্ট্র মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরকে ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টসহ পূর্ণাঙ্গস্থল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবির প্রেক্ষিতে দুধকুমর নদীর উপর সেতু নির্মাণ এবং কচাকাটা পুলিশ থানাকে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক থানা প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি মোঃ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজার রহমান, পুলিশের ডিআইজি (হেডকোয়ার্টাও ফাইন্যান্স এন্ড বাজেট) আবুল কাশেম বিবিএম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল বাহার চৌধুরী পিপিএম, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা (সিআইপি), উপজেলা আওয়ামীগ সভাপতি মোজাম্মেল হক প্রধান প্রমূখ ।
মন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ সুশীল সমাজ তথা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য সে লক্ষ্যে জনগণের কল্যাণে, জনগণের নিরাপত্তায় ও জনগণের মঙ্গলের জন্য পুলিশকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে’। এর অংশ হিসেবে সরকার ৮১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশে ১০১টি নতুন থানা ভবণ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এরমধ্যে কুড়িগ্রামে ৪টি থানার নতুন ভবণ নির্মাণ করা হবে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে। বর্তমান সরকারের উন্নমুলক কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন, ‘কৃষি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে’। তিনি কুড়িগ্রামে ধরলা সেতু, পৌরসভা, স্থলবন্দর, বীজ হিমাগার, কচাকাটা থানা, বিভিন্ন কলেজে অনার্স ও মাষ্টার্স কোর্স চালুসহ উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কুড়িগ্রামের মঙ্গা দূরীকরণসহ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।




