চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
বর্তমানে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর, অনেক দিন ছিল একমাত্র সমুদ্রবন্দর। সম্প্রতি উদযাপিত হয়েছে প্রাচীনতম এ বন্দরের ১২৫ বছর। সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার খ্যাত এ বন্দর দিয়েই দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ হয়ে থাকে। বছরে ১৫ লাখ টিইইউএস কনটেইনার ও সাড়ে ৪ কোটি মেট্রিকটন কার্গো (পণ্য) হ্যান্ডলিং করছে বন্দর। অনুমোদিত জনবল রয়েছে ৮ হাজার ৬৫৬।
গুরুত্ব যত অনস্বীকার্য, অতীত যত গৌরবোজ্জ্বল এবং সোনালি ভবিষ্যতের হাতছানি যত বেশি হোক না কেন এ বন্দর পরিদর্শনে আসেননি কোনো অর্থমন্ত্রী। গতকাল প্রথম কোনো অর্থমন্ত্রী পরিদর্শন করেছেন বন্দরের কার্যক্রম! আর এ গৌরবের অধিকারী হলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ গতকাল দুপুরে বন্দর ভবনের তৃতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এ তথ্য জানান। এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন, কাস্টমসের কমিশনার মো. মাসুদ সাদিক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. মহিবুল হক, ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন নাজমুল আলম, পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, বন্দরসচিব সৈয়দ ফরহাদউদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বন্দর চেয়ারম্যান মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, ১২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম একজন অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করতে এসেছেন। এ জন্য তাকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা। আপনার বলিষ্ঠ পদক্ষেপে দেশের অর্থনীতি চাঙা হয়েছে, মন্দার কারণে যখন ইউরোপের অনেক উন্নত দেশও সমস্যায় পড়েছিল। অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল।’ তিনি বলেন, ‘বন্দর দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের বিশ্বাস আপনার এ উপস্থিতিতে আমরা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছি। বন্দরের ইফেকটিভিটি-প্রোডাকটিভিটি বাড়াতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে। বর্তমানে যে আরএমজি (তৈরী পোশাক) সেক্টর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তার সিংহভাগ কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত রপ্তানি পণ্য এ বন্দর দিয়েই হচ্ছে।’
মন্ত্রীকে স্লাইড প্রদর্শনীর মাধ্যমে বন্দরের ইতিহাস, ভিশন-মিশন, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি, কমলাপুর আইসিডি, কর্ণফুলী ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের অগ্রগতি, চলমান প্রকল্প, সিপিএ টাওয়ার, বে টার্মিনালসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিশ্বের উন্নত বন্দরগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক অবস্থান ইত্যাদি অবহিত করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) ক্যাপ্টেন এম শাহজাহান।
তিনি পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনালের স্বার্থে পুরানো কনটেইনার জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে প্রণোদনা হিসেবে কয়েক বছর শুল্কহার কমানোর জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্লোবাল বিশ্বে ইন্টারন্যাশনাল কমিটমেন্ট, আইএমও এবং আইএসপিএস কোডের শর্তাবলী কঠিনতর হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। উন্নত বিশ্বের পোর্টগুলো গ্রিনপোর্টে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা দরকার। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে বসতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘চট্টগ্রাম পোর্ট অনেক পুরানো। বহুদিন দেশের একমাত্র পোর্ট ছিল। বিশ্বের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরকেও চলতে হবে। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
পরে মন্ত্রী বন্দরের ৫ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে জেটিতে ‘এমসিসি ঢাকা’ জাহাজে কনটেইনার লোড-আনলোড এবং কার্গো হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন, কাস্টমসের কমিশনার মো. মাসুদ সাদিক, সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




