পরে কারাগার থেকে বেরিয়ে ফটকে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, জেলকোডের ৬১৭ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়া ডিভিশন পাবেন। গত তিন দিন আমরা ডিভিশনের আদেশ দিতে পারিনি (কারা কর্তৃপক্ষকে), কিন্তু আইন অনুযায়ী জেল সুপার নিজেই ডিভিশন দিতে পারতেন। তিনি কেন এটা দেননি, সেটা আমরা জানি না।
বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘আমরা কোর্টে আবেদন করার পর আজকে কোর্ট ডিভিশনের অর্ডার দিয়েছেন। ইতোমধ্যে আদালত তার প্রসেস সার্ভারের মাধ্যমে অর্ডার কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমরাও ডিআইজি প্রিজনের সঙ্গে দেখা করে অর্ডার পৌঁছে দিয়েছি। এখন খালেদা জিয়া জেলকোডের বিধান অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীর বন্দি হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং তার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পরই সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে নেওয়া হয় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তার আইনজীবীরা। সাক্ষাৎ শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। তাকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে। তিনি অসুস্থ হিসেবে তার সঙ্গে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যে গৃহকর্মী ফাতেমাকে রাখার কথা, তাকেও থাকতে দেওয়া হচ্ছে না।
এই প্রেক্ষিতে খালেদার ডিভিশন চেয়ে রোববার সকালে আইনজীবী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ভুঁইয়া ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের শুনানি শেষে সংশিষ্ট আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান কারা কর্তৃপক্ষকে ডিভিশন দেওয়ার আদেশ দেন। সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে একা চলাফেরা করতে পারেন না, এজন্য আমরা তার সহযোগী রাখার আবেদন করেছিলাম। আদালত জেলকোড অনুযায়ী সে আদেশও দিয়েছেন। এখন ফাতেমাও থাকবেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। তবে ফাতেমা এখন কোথায় বা কখন থেকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকবেন, এমন প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি সানাউল্লাহ মিয়া।




