চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
চট্টগ্রামের বইতে শুরু করেছে সংসদ নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বড় দুই দলের টানাটানি থাকলেও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ভোট প্রার্থনা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী মাঠে তত বেশি তৎপর হয়ে উঠছেন নেতাকর্মীরা।
নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক নাকি দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা থাকলেও মাঠে নেমে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তারা সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের নজরকাড়ার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা নির্বাচনী মিশন নিয়ে চট্টগ্রাম ঘুরে গেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার ও কেন্দ্র থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা সমন্বয়কারি ও কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবুল খায়ের ভুঁইয়া এমপি।
তবে নির্বাচনী তৎপরতার ক্ষেত্রে বিএনপির চাইতে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ।
বিরোধী দলের বড় কোন আন্দোলন কর্মসূচি না থাকায় আওয়ামী লীগ প্রচার নিয়ে অনেকটাই নির্ভার। একারনে দলটির নেতারা ভোট চাইতে শুরু করেছেন। অপরদিকে কখন কেন্দ্র থেকে আন্দোলনের ডাক আসে এমন প্রতীক্ষায় থাকতে হচ্ছে বিএনপি নেতাদের। দলের নেতাকর্মীরা সরাসরি ভোটযুদ্ধে না নামলেও সভা সমাবেশে সরকারের সমালোচনা করে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছেন।
গত ২৯ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় স্থানিয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এখানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ১৩ টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভা কার্যত পরিণত হয় নির্বাচনী জনসভায়। শেখ হাসিনা এখানে তার বক্তব্যে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেন, শান্তি চাইলে নৌকায় ভোট দিতে হবে। জনসভায় তিনি জনতার কাছে ভোট চেয়ে বলেন, ‘গতবারের মতো আমাদের আরেকবার সুযোগ দিন।’
প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দিক নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা যেখান থেকে যাকে প্রার্থী দেবো তাদের পক্ষে কাজ করতে হবে।’
ওই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রসঙ্গে আরো বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়িই নির্বাচন হবে। জনগণ স্বাধীনভাবে নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। ’
দলীয় সভানেত্রীর এই জনসভার পর চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এখন আগের চেয়ে আরো উজ্জীবিত। তারা পুরোপুরি নির্বাচনমুখি।
এদিকে মাঠে আছে বিএনপিও। তবে তাদের মুখে ভোট চাওয়ার চাইতে আন্দোলনের সুরই বেশি। ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে নগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধের জের ধরে এ মুহুর্তে নগর বিএনপির কার্যক্রমে ভাটা পড়লেও কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে অনেকটাই গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি। গত ২৭ আগস্ট নগরীর মুসলিম হলে উত্তর জেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বর্তমান সরকারের সব দুর্নীতির বিচার হবে।’
রাজনৈতিক বিবেচনায় যেসব মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে, সেগুলো আবার বিচারের আওতায় আনা হবে। আর এজন্য তিনি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
এমকে আনোয়ার বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন না করলে জনগন ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের পতন ঘটাবে। এ কর্মী সভায় উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরীসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দীর্ঘদিন কোন্দলে ডুবে থাকা দক্ষিণ জেলা বিএনপি নির্বাচন ও আন্দোলন সামনে রেখে গত শুক্রবার নগরীর একটি ক্লাবে নির্বাহী কমিটির সভা করেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খান।
এ সভায় দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবুল খায়ের ভুঁইয়া বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে সারা দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। এরপর শুরু হবে ফাইনাল খেলা। একদলীয় ফ্যাসিবাদ কায়েমের স্বপ্ন তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে নস্যাৎ করে দেয়া হবে।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি বলেন, ‘দক্ষিণ জেলা বিএনপির সকল নেতাকর্মী সকল ভেদাভেদ ভুলে এক পরিবারের সন্তানের মত দলকে সংগঠিত করে আগামীতে তীব্র আন্দোলনের প্রস্ততি নিচ্ছে যাতে আসন্ন নির্বাচনে জেলার ৬টি আসনই বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেয়া যায়।’
প্রসঙ্গত, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ১১টিতেই বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা। বিএনপি তিনটি, জামায়াত একটি ও এলডিপি একটি আসনে জয়ী হয়।




