আশার কথা, ২০১৮ সালে হজ গমনেচ্ছুদের যাতে এধরনের ভোগান্তিতে আর না পড়তে হয়, সেজন্য আগেভাগেই নড়েচড়ে বসেছেন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ। সোমবার (১৩ নভেম্বর) ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। তবে তাদের এই পদক্ষেপ কতটুকু ফলপ্রসূ হবে সেটাই এখন দেখবার বিষয়।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালের হজযাত্রীদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে নানা জটিলতায় পড়তে হয়। এমনকি পুলিশের পক্ষ থেকে জীবিত ব্যক্তিকেও মৃত দেখিয়ে রিপোর্ট দেয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। আর এসকল কারণেই ২০১৮ সালের হজযাত্রীদের যাতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের দরকার না হয়, এমন পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
হজযাত্রীদের বাংলাদেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ইমিগ্রেশনের কাজ সারতে হয়। আবার সৌদি আরবের জেদ্দা এয়ারপোর্টে নেমেও করতে হয় ইমিগ্রেশন। এতে ডাবল ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। তবে বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন করার পর সৌদি আরবে আবার নতুন করে যেন ইমিগ্রেশন না করা লাগে তেমনটাই চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। এছাড়া চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হজে যাওয়ার জন্য প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এছাড়া এই নিবন্ধন যাতে করে সারাবছর ধরেই করা যায় তেমন পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এবিষয়ে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, ২০১৮ সালে হাজিদের যাতে বাংলাদেশ থেকে ইমিগ্রেশন কমপ্লিট করা যায়, তাদের যাতে কোনো প্রকার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স না লাগে এবং এসবের পাশাপাশি আগে থেকেই পুরো টাকা নিয়ে নেওয়াসহ বেশ কিছু প্রস্তাব দুই এক দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স না থাকলে কোনো প্রকার অপরাধ সংঘটিত হবে কিনা’– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন আমি মালায়েশিয়া গেলে বা ওমরা হজে গেলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স লাগছে না। আমি যদি অপরাধ করি তাহলে তো মালায়েশিয়াতেও গিয়েও করতে পারি। তাহলে হাজিদের ক্ষেত্রে কেন এমন হবে!
এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। ১৪ নভেম্বর সকাল ১১টায় আন্ত: মন্ত্রণালয় বৈঠকেও এবিষয়ে বিস্তর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন।
তিনি বলেন, আগামীকাল আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে ২০১৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার (অব্যবস্থাপনা) মূল্যায়ন এবং ২০১৮ সালের হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম সুষ্ঠু সুন্দর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গতবছরের প্রতারণাকারী দালাল ও এজেন্সিগুলো বিরুদ্ধে কি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন?’– জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়টি নিয়ে খুব হাই পাওয়ারের (উচ্চ ক্ষমতার) একটি দল তদন্ত করছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে। আমরা এই অপরাধীদের গুরু, মাঝারি ও লঘু এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।




