ডিজিটাল বাংলাদেশের কনসেপ্ট থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নাগরিক সেবার সুবিধার্থে নগরভবনে কল সেন্টার ও মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি ২৬ অক্টোবর ২০১৭ খ্রি. বৃহষ্পতিবার, দুপুরে, চসিক এর কল সেন্টার ও মোবাইল অ্যাপ কল করে ও কেক কেটে শুভ উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সুধি সমাবেশে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের সাথে সংযুক্ত একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ। ২০০৮ সনে ১২ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের কনসেপ্ট জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। বাংলাদেশ দূর্ণীতিমুক্ত এবং হয়রানিমুক্ত দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। ধীরে ধীরে আইসিটি পলিসি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ। কানেকটিভিটি ইন্টারনেট এর মাধ্যমে দেশে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সহ ২ শত ধরনের সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলায়, উপজেলায় ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযোজন দেয়া হচ্ছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ই-মেইল ইউটিলিটি সার্ভিস দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৭ টি স্কুল ও কলেজে শেখ রাসেল স্কুল ল্যাব চালু হয়েছে। এ জেলায় ৮০ টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। দেশে ৫২৭২ টি ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২১ সনের মধ্যে ঘরে বসে হাতের মুঠোয় সেবা পৌছে দেয়া হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সকল সেবামূলক সার্ভিস আইসিটি ডিভিশন থেকে সহযোগিতা দেয়া হবে। ২০২১ সনের মধ্যে ক্যাশ লেনদেন থাকবে না। সকল লেনদেন অনলাইনে সম্পন্ন হবে। পেপারলেস হবে অফিসিয়্যাল কার্যক্রম। মন্ত্রী পলক বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ডিজিটাল স্মার্ট সিটিতে উন্নয়নে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেবে। প্রসঙ্গক্রমে মন্ত্রী বলেন, দেশের ২৮ টি হাইটেক পার্ক নির্মিত হবে। ডিজিটাল বিজনেস ইকোনমিকেল হাব হবে চট্টগ্রামে। এছাড়াও বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে সিলিকন ভ্যালী সিসটার সিটিতে উন্নিত করা হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হবে দেশের রোলমডেল। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। মন্ত্রী পলক বলেন, চট্টগ্রামের মেয়র যা চাইবেন তাই আইসিটি মন্ত্রণালয় সহযোগিতা দেবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন । সভাপতির বক্তব্যে মেয়র তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্নদিক তুলে ধরে বলেন, নাগরিক সেবা ডোর টু ডোর পৌছে দেয়ার লক্ষে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা হবে। চট্টগ্রামকে অর্থনীতির হাব হিসেবে গড়ে তুলে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া হবে। তিনি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, জনগনের সক্রিয় অংশগ্রহণছাড়া কাংখিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি তার আগামী ২ অর্থবছরের সেবার পরিধি ও পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, নগরীর কাঁচা রাস্তা পাকা হবে, বাণিজ্যিক রাজধানীর আদলে পরিবেশ বান্ধব স্বাস্থ্য সম্মত নগর গড়ে তোলা হবে। সেবাধমী প্রতিষ্ঠান গুলোকে বাণিজ্যিক রাজধানীর আদলে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। পুরো নগরীতে এলইডির আলোতে আলোকিত করা হবে। আয়ের উৎস সমূহকে গতিশীল করা হবে। রাজস্বখাত সহ সকল সেবাধর্মী খাতকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। সর্বোপরি জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন অনুযায়ী চট্টগ্রামকে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। কল সেন্টার ও মোবাইল আ্যাপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড.মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী সহ চসিক এর কাউন্সিলর,কর্মকর্তা এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



