ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
বর্তমানের সংকট সমাধানে রাষ্ট্রপতি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ ছেড়ে দিবে বল জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত উপাচার্য।এখানে আমাকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি চাইলে অবশ্যই আমি সরে যাবো।
এদিকে জাবি’র উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ করে রেখেছেন ‘সাধারণ শিক্ষক ফোরাম’ ব্যানারের আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
বুধবার বেলা ১১টা থেকে নিজ কার্যালয়ে এখনো পর্যন্ত তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে শিক্ষকরা। এ ঘটনায় উদ্ভূত সংকট নিরসনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে বৃহস্পতিবার উপাচার্য চিঠি দিলেও এখনো পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আন্দোলনরত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের ডাকতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
এছাড়া গত দুদিন ধর্মঘট শেষে আবারো শনি, রবি ও সোমবার সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাকা দিয়েছেন আন্দোলনরত আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। একইসঙ্গে উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে বলে তারা জানিয়েছেন।
এ আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর গণতান্ত্রিক চেতনাবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।
গত বছরের ১ ও ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাড়িতে হামলার বিচার না হওয়া, শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার না হওয়াসহ ১২ দফা দাবিতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এই আন্দোলন শুরু হয়। ২৮ এপ্রিল থেকে তাঁরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন। এ দাবিতে ওই দিন থেকে টানা দুই সপ্তাহ ক্লাস বর্জন করা হয়। এরপর ১৮ জুন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবন অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২৩ জুলাই পর্যন্ত ওই অবরোধ চলার পর ২৪ জুলাই হাইকোর্টের একটি নির্দেশের পর তাঁরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধ প্রত্যাহার করেন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফ উদ্দিন এবং অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আমির হোসেনকে প্রশাসনিক কাজে বাধা না দিতে হাইকোর্ট থেকে বলা হয়। এর পর থেকে ওই তিন শিক্ষক আন্দোলন কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন না।
শিক্ষক ফোরামের সদস্যসচিব ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতা কামরুল আহসান বলেন, ‘উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। উপাচার্য যদি আমাদের অবস্থান মাড়িয়ে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে আমরা তাতে বাধা দেব না। তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।




