ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচের প্রতিবেদনকে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ‘ভিত্তিহীন এবং অসত্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শফিক আহমেদ বলেন, ‘হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ এখানে লবিস্টের ভূমিকা নিয়েছে। সংস্থাটি যে কথা বলেছে, সেটা একদম ভিত্তিহীন, অসত্য এবং আমি বলবো, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
শুক্রবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: আযম কনভিকশন বেইজড অন ফ্লড প্রোসিডিংস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিচারকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করে।
প্রতিবেদনে গোলাম আযমের বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ করা হয়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকরা রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে তদন্ত করেছেন, যেটা তাদের মতে যথার্থ ছিল না।
তবে শফিক আহমেদ এই গুরুতর অভিযোগকে ‘একেবারে কাল্পনিক, অমূলক এবং বিভ্রান্তিকর বলেন। তিনি বলেন, ‘বিচারকরা নিজস্ব কোনো তদন্ত করেননি। তারা কোনো দিন, তাদের বিচার কাজ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কোনো তদন্ত কাজ করে নাই, করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘কোন সুস্থ মস্তিষ্কের লোক এ’কথা বিশ্বাস করতে পারে না।’ বিচারকার্যে রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী তুরিন আফরোজ বলেছেন, বিচারকরা তাদের রায়ে কোথাও বলেননি যে, তারা রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে কোনো তদন্ত করেছেন। যেটা করা হয়েছে শুধুমাত্র নির্লজ্জভাবে আমাদের বিচার প্রক্রিয়াকে হেয় করার জন্য বলে তুরিন আফরোজ অভিযোগ করেছেন।
প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচের এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্র্যাড এ্যাডামস বলেন, তারা সব সময় ১৯৭১ সালে সংঘটিত বর্বরতার জবাবদিহিতা চেয়েছেন, যাতে নিহতদের পরিবার সুবিচার পায়। তিনি বলেন, ‘আমরা সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে, এই আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু সরকার কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি। সরকার যে ফলাফল চেয়েছিল তা পেয়েছে, কিন্তু তারা ন্যায়বিচার করতে পারেনি।’
আইনমন্ত্রী ন্যায় বিচারের প্রসঙ্গে বলেন, ‘স্বাধীন দেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা দেশের আইন অনুযায়ী বিচার করছে। যে অপরাধগুলোর বিচার হচ্ছে সেগুলো আন্তর্জাতিক আইনেও অপরাধ।’
তিনি বলেন, ‘তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে গোলাম আযমের কী কী অপরাধ ছিল, এবং সম্মানিত বিচারকরা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই রায় দিয়েছেন।’
হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ তাদের প্রতিবেদনে আরো অভিযোগ করে, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার মতো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিল না এবং রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে বিচারকদের যোগসাজশ ছিল।
এই প্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী সতর্ক করে দেন, ‘বিচার কাজ এখনো শেষ হয়ে যায়নি, যেহেতু আপিলের আবেদন করা হয়েছে। একটি বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা আইনের পরিপন্থী।’ তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল এটাকে আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করতে পারে।’




