আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদ বলেছেন, রাঙ্গামাটিতে বিএনপি নেতাদের ওপর আওয়ামীলীগ হামলা করেনি। পুলিশ প্রশাসন তাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তা তারা যে রুট পরিবর্তন করে সেটা তারা প্রশাসনকে জানাননি। তারা রাঙ্গা মাটি থেকে ২০/২৫ কিলোমিটার দূরে কাপ্তাই রোড হয়ে যাওয়া শুরু করলেন এবং রাঙ্গামাটি উপজেলা ইছাখালীতে যাওয়ার পর তাদের গাড়ির ধাক্কায় দুজন পথচারী আহত হয়। এর পরে যখন সেখানে জটলা তৈরি হয়, বাকবিত-া হয়। তখন জনতার উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুতিও নেয়। তখনই ওই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
বুধবার সংসদে তিনি আরও বলেন, বিএনপি যে সন্ত্রাসী সংগঠন এ কথা আমাদের বলার দরকার নাই। কানাডার একটি স্থানীয় কোর্ট প্রথমে রায় দিয়েছে যে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা বাসে গাড়িতে, মানুষের ওপর আগুন বোমা নিক্ষেপ কওে, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে। এর পরে বিএনপি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ওই আপিলেও ফেডারেল কোর্টে একই রায় বহাল রাখে। আজকে বিশ্বসামাজ স্বীকৃতি দিয়েছে যে, বিএনপি হচ্ছে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তিনি বলেন, যেভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, সমসাময়িক বিশ্বে এভাবে রাজনীতির নামে কোথাও হত্যা করা হয়নি।
এই সময় তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের কথা উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভূমিধস বন্যা হওয়ার প্রায় ১ সপ্তাহ পরে ওখানে যাচ্ছিলেন। তারা ঢাকায় বসে বসে বিবৃতি দিচ্ছিলেন। অথচ এই ঘটনার পর আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী লাশ উদ্ধার থেকে শুরু করে লাশ দাফন পর্যন্ত ছিলেন। পাশাপশি তারা ওইখানে মানুষদের সহায়তা থেকে শুরু করে সকল সহযোগিতায় আমাদের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই ছিলেন।
তিনি বলেন, বিএনপির ঢাকার নেতারাতো দূরের কথা চট্টগ্রামের স্থানীয় নেতারও ওখানে যায়নি। এমতাবস্থায় আমরা যখন বললাম, যে ঢাকায় বসে না থেকে ওই এলাকায় যান। তখন ১ সপ্তাহ পরে বিএনপির ফখরুল ইসলাম আমার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ে থেকে যাচ্ছিলেন। অথচ তাদের যাওয়ার কথা ছিল রাঙ্গামাটি রাস্তা দিয়ে । তারা প্রশাসনের কাছে সেটাই জানিয়েছিল।
হাছান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমি সাথে সাথে এই ঘটনাকে অপ্রীতিকর ও নিন্দনীয় বলেছি। আমাদের দলে সাধারণ সম্পাদকও একই কথা বলেছেন। কিন্তু ঘটনার পরপরই তারা যদি প্রশাসনকে জানাতেন তাহলে পুলিশ প্রশাসের নিরপত্তা সেখানে থাকতো। এর পরে এই ঘটনা জানার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে গিয়েছে এবং তাদেরকে পর্যাপ্ত নিরপত্তা দিয়ে রাঙ্গামাটি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তা তারা রাঙ্গামাটি না গিয়ে চট্টগ্রামে ফিরে যায়। ফেরত গিয়ে এই ঘটনা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসীর রাজনীতি করি না। সন্ত্রাস আশ্রয়ী রাজনীতি করে বিএনপি। বেগম জিয়া ও ফখরুল ইসলামের নের্তৃত্বে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। ২১ হামলার গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। যে ঘটনা আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতা শহীদ হয়। শুধু তাই নয় আহসউল্লাহ মাস্টারকে দিনে দুুপুরে গুলি করে কারা হত্যা করেছিল। সেই হত্যাকা-ের বিচার হয়েছে, রায় হয়েছে। বিএনপির নেতারা সেটি করেছে। শুধু তাই নয় ১৯৯৬ সালের সরকারে অর্থমন্ত্রীকে কারা হত্যা করেছিল ? সেই হত্যা মামলার আসামী হচ্ছে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী। সন্ত্রাস আশ্রয়ী রাজনীতি তারা করে। তাই আমি বিএনপিকে বলবো যে, আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। সন্ত্রাসের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন।




