ডেমোক্র্যাটদের ব্যাপক উত্থানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনজীবী হাসিব ফাতমী সহ চারজন প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আসনে জয়ী হয়েছেন।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাঝেও, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদরা নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেকটিকাট এবং নর্থ ক্যারোলাইনাতে রাজ্য-পর্যায়ের আসনে জয়লাভ করায় প্রবাসীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
৩ নভেম্বর, মঙ্গলবারের নির্বাচনে চারজন বিজয়ীর মধ্যে তিনজন ডেমোক্র্যাট এবং একজন রিপাবলিকান হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
পিরোজপুরের বাসিন্দা আবুল খান রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে নিউ হ্যাম্পশায়ার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা ডেমোক্র্যাট শেখ রহমান জর্জিয়ার সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ৫ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুরের বাসিন্দা ডেমোক্র্যাট মাসুদুর রহমান কানেকটিকাট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ৪ থেকে বিপুল ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনা সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ১৮ আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনজীবী হাসিব ফাতমী। প্রকাশিত বেসরকারি ফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ৫৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান ক্রিস স্টক পেয়েছেন ৪২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন লিবার্টারিয়ান প্রার্থী ব্র্যাড হেসেলও। গত মে মাসে শূন্য আসনে নিয়োগ পেয়ে স্টেট সিনেটে দায়িত্ব নিয়েছিলেন হাসিব। এবার সরাসরি নির্বাচনে জিতে পূর্ণ মেয়াদে সেই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন তিনি।
পুরো গ্র্যানভিল কাউন্টি এবং ওয়েক কাউন্টির উত্তরাংশ নিয়ে গঠিত আসনটিতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাত্র ১২৮ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন ডেমোক্র্যাট টেরেন্স এভারিট। এবার রিপাবলিকান ক্রিস স্টকের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ভোট পেয়ে আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে রাখলেন হাসিব।
৩৮ বছর বয়সী হাসিবের পরিবারের শিকড় বাংলাদেশের নোয়াখালীতে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ বদরুল এহসান ফাতমী এবং মা সাইদা ফাতমী স্নিগ্ধা। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তাঁরা। ১৯৮৮ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামে জন্ম হয় হাসিবের।
হাসিবের মা ওয়েক কাউন্টির সরকারি বিদ্যালয়ে কিন্ডারগার্টেনের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। হাসিবও পড়েছেন সেখানকার সরকারি বিদ্যালয়ে। পরে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট চ্যাপেল হিলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০০৯ সালে স্নাতক শেষ করে যান নিউইয়র্কের ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ২০১২ সালে আইন ডিগ্রি অর্জন করেন। নিজের জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার ভূমিকার কথা তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।
প্রবাসীরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদদের স্থানীয় সাফল্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।




