মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজকের এই রায়ের ফলে সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল রইলো। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় দেয়। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন-বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাছান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হুসেইন হায়দার।
গতকাল প্রথম দিন প্রায় এক ঘণ্টা শুনানির পর এ মামলার কার্যক্রম সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। গত ৪ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ মামলাটি শুনানির জন্য ১৪ মে দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছিল। আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় পূর্নবিবেচনার (রিভিউ) করে মৃত্যুদণ্ডের আর্জি জানিয়ে ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষে আবেদন করা হয়। রায় পূর্নবিবেচনা চেয়ে ৩০ পৃষ্ঠার মূল আবেদনের সঙ্গে ৬৫৩ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সৈয়দ মামুন মাহবুব সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে এ রিভিউ আবেদন দাখিল করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আসামির সাজা বাড়ানোর জন্য প্রথম রায় রিভিউ’র আবেদন করে।
এর আগে জামায়াতের আরেক নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনালে দেওয়া যাবজ্জীবন রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছিল। আপিলে কাদের মোল্লার দন্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আপিলের রায়ের রিভিউ করেছিল আসামিপক্ষ। রিভিউতেও দণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ। পরে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। ৬১৪ পৃষ্ঠার এ রায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে সংক্ষদ্ধরা রিভিউ দায়েরের সূযোগ পেয়ে থাকেন। সে অনুযায়ি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীপক্ষ রায় রিভিউর আবেদন দাখিল করে। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি আপিলের রায় থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দায়ের করেন সাঈদী। মোট ৯০ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে খালাস পেতে ১৬টি যুক্তি দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ৩০ পৃষ্ঠার মূল আবেদনে মৃত্যুদণ্ড আর্জির পক্ষে পাঁচটি যুক্তি দেখানো হয়।




