কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুকে (৪৫) ‘গুলি করে হত্যার’ মামলা তদন্তে অপারগতা জানিয়ে সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নূরে আলম মিনা। চিঠিতে মামলাটির তদন্ত সিআইডি অথবা পিবিআইকে দিয়ে করার অনুরোধ করেছেন এসপি। ০৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-অপরাধ) বরাবরে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, যেহেতু অভিযোগ এসেছে জেলা পুলিশের একটা টিম তাকে (নুরু) তুলে নিয়ে খুন করেছে, এখন তদন্ত তো শুরু হবে সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আমরা কিভাবে তদন্ত করব ?
‘আবার তাদের পরিবার কোন মামলা করেনি। মামলার বাদি আমাদের একজন এস আই যিনি লাশের সুরতহাল করেছেন। এখন আমরা তদন্ত করলেও সেটা বিশ্বাসযোগ্য হবে না। এজন্য স্বপ্রণোদিত হয়ে সিআইডি অথবা পিবিআইকে তদন্তভার দিতে বলেছি। এসপি বলেন, ভিকটিমের পরিবার থানায় মামলা না করলেও আদালতে যেতে পারেন। তখন হয়ত আদালত তদন্তের বিষয়ে একটা নির্দেশনা দিতে পারেন।
গত ৩০ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া গ্রামের খেলাঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে নুরুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হাত-পা ও চোখ বাঁধা মরদেহের মাথায় গুলির চিহ্ন থাকার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। নুরুর বাড়ি রাউজান উপজেলার গুজরা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের কমলার দিঘীর পাড় এলাকায়। নুরু উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। ২৯ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে নুরুকে নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় বাসা থেকে নুরুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে বিএনপি।
রাউজান থানার নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এস আই জাবেদের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি সশস্ত্র টিম নুরুকে তুলে নিয়ে যায়, এমন অভিযোগ করেছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও রাউজানের সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তবে এই ঘটনায় নুরুর পরিবার মামলা করতে রাজি না হওয়ায় রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মো.কামাল মামলা দায়ের করেন।




