গত ০৮ মার্চ চট্টগ্রামের পঞ্চম মহানগর হাকিম আল ইমরান পুলিশের দাখিল করা প্রতিবেদন গ্রহণ করে মানহানির অভিযোগে ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলা দুটি খারিজের আদেশ দেন। পুলিশ প্রতিবেদনে সাংসদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদির আইনজীবী মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় রিভিশন আদালত গ্রহণ করায় পরবর্তীতে মানহানির মামলার জন্যও একই পদক্ষেপ নেবেন বাদী।
২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রামে একটি কর্মসূচি উপলক্ষে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সরকার দলীয় সাংসদ এম এ লতিফের লাগানো ব্যানার-ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করার অভিযোগ উঠে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রবল সমালোচনার মুখে সাংসদ সংবাদ সম্মেলন করে ছবি বিকৃত করার দায় চাপান গ্রাফিক ডিজাইনারের ওপর। এ ঘটনায় ক্ষমা চান ডিজাইনার। এই ঘটনায় লতিফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, তথ্যপ্রযুক্তি ও মানহানির অভিযোগ চারটি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে ৪ ফেব্রুয়ারি মানহানি এবং ৯ ফেব্রুয়ারি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলা দুটি দায়ের করেন সাইফুদ্দিন রবি।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলা তদন্ত শেষে গত বছরের ২১ মার্চ পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিন প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃত ছবি প্রচার কিংবা প্রকাশিত হওয়ার কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর ২৪ এপ্রিল বাদী আদালতে নারাজি দিয়ে সিআইডি কিংবা র্যাবকে দিয়ে তদন্তের আবেদন করেন। আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত সিআইডির পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্তের আদেশ দিয়েছিলেন।
৪ ফেব্রুয়ারি একইদিনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুর রহিম জিল্লু একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে ছবি বিকৃতির সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দাখিল করে। বাদী এই প্রতিবেদনের উপর আদালতে নারাজি দাখিল করেছেন। এদিকে ওই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি সাংসদ লতিফের বিরুদ্ধে ছবি বিকৃত করার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে আরেকটি মামলা করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কে এম বেলায়েত হোসেন। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনও আদালতে দাখিল করা হয়নি।




