আগামী সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে বলে আশা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। ‘মাগুরা স্টাইলে’ নির্বাচন আর হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। ১৩ মার্চ চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য আমরা অলরেডি কাজ শুরু করে দিয়েছি। সব দল অংশগ্রহণের ক্ষেত্র তৈরি করছি।‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে, সেরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট যারা আছে তাদের তৎপর রাখা যাতে কোন রকমের কারচুপি না হয়। ভোট দিয়ে এসে যাতে নিরাপদে ফিরে যেতে পারে, এই পরিবেশ তৈরির কাজ করছি। ‘দায়িত্ব নেয়ার পর এখন পর্যন্ত আমরা সুন্দরভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছি। সামনে যে নির্বাচন পরিচালনা করার পরিকল্পনা সেগুলোও আশা করি ভালভাবে হবে। আশা করি আমাদের কার্যক্রম ভাল হবে। আর যদি ভাল হয়, তাহলে আমার বিশ্বাস যে সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা রাখবে। ’ বলেন সিইসি
মাগুরার মতো বিতর্কিত নির্বাচন হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই ব্যতিক্রম হবে। সেটা ছিল একটা পরিস্থিতি। সব পরিস্থিতি তো সবসময় একরকম থাকে না। আমাদের সময়ে নির্বাচন পরিস্থিতি তেমন হবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ সব দল অংশগ্রহণ করলে নির্বাচন পরিস্থিতি আর তেমন হবে না। ১৯৯৪ সালে মাগুরায় উপনির্বাচন নিয়ে ব্যাপক কারচুপি হলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে তা তত্তাবধায়ক সরকারের আন্দোলনে রূপ নেয়। এদিকে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী নামবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। ‘কুমিল্লায় সেনাবাহিনী থাকার আপাতত প্রয়োজন নেই। যদি আমাদের কাছে প্রয়োজন মনে হয় তাহলে সেনাবাহিনী আসবে। এজন্য তাদের (সেনাবাহিনী) প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
‘নির্বাচনে যারা কাজ করবেন তাদের সঙ্গে মিটিং করেছি। তারা আশ্বস্ত করেছেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। নিরাপদে যাতে সবাই ভোট দিতে পারেন এবং ভোট দিয়ে ফিরে যেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করব। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সাথে যেসব ইস্যু নিয়ে আমাদের আলোচনা দরকার, সেগুলো নিয়ে কথা বলতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে কিভাবে রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ হবে, এসব বিষয় নিয়ে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব। আর রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ যদি থাকে, তারা যদি আমাদের দেয় আমরা ওয়েলকাম জানাব। সার্কিট হাউজে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের চট্টগ্রাম পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিইসি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি পর্যায়ক্রমে ১০ কোটি ১৭ লাখ স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে বলে জানান। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সামশুল আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম এবং উপ-পরিচালক আব্দুল বাতেন। এসময় চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।




