বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া আগামী সরকার গঠনের যতো স্বপ্নই বুনে চলুন না কেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।
গত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মহাজোট সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে যা কিছুই ঘটুক না কেন, এখন জনগণের কাছে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন শেখ হাসিনা। ঈদের পরে ‘আপোষহীন নেত্রী’ খেতাব পাওয়া খালেদা জিয়াকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু থেকে ফেরাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন তিনি।
ঈদের পর পরই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণা বৃদ্ধির বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সরকারি দলটি। একই সময়ে বিরোধী দলকে প্রতিহত করে ঠেকাতে চাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি। তাই সামনের কঠিন সময় দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে।
সম্প্রতি রাজধানীর বিলবোর্ডগুলোতে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্বলিত যে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে চলছে অনেক আলোচনা-সমালোচনা। তবে এটা কিন্তু নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, জনগণের কাছে নিজেকে পৌঁছে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন দেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী এ রাজনৈতিক দলের প্রধান। জনগণের কাছে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে আবারো ক্ষমতার মসনদে আসতে চান তিনি।
ঈদের পরে রাজনীতির মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই নামছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন, তার সরকারের বাস্তবায়ন করা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারণা ঠিকমতো পৌঁছেনি মানুষের কাছে। গত জুন ও জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের হেরে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে এ দুর্বলতাটিই দেখতে পেয়েছেন সরকার প্রধান। তাই বিশেষ টিম গঠন করে সরকারের সাফল্যের চিত্র ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে দলের নেতাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনকে টার্গেট করে এবং সামনের কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে দূরে ঠেলে দেওয়া নেতাদেরও ফের কাছে টানতে শুরু করেছেন শেখ হাসিনা। রমজানের শুরুতে মুগদা হাসপাতাল উদ্বোধন করতে গিয়ে এক বিশাল সমাবেশে অংশ নেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু করেন আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়া।
দলীয় সূত্র জানায়, ওয়ান ইলেভেনের পর প্রথমবারের মতো নেত্রী সুদৃষ্টি দেন এ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর দিকে।
ওয়ান ইলেভেনের পর ‘সংস্কারপন্থী’র লেবাস পাওয়া দলের অনেক সংগ্রামী নেতাদের দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। হাজার অনুরোধ সমালোচনাতেও মন গলেনি নেত্রীর। মুগদা হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভেদাভেদ ভুলে দলকে নতুন করে গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন হাসিনা। সূত্র জানিয়েছে, দলকে সুসংগঠিত করতে ঈদের পর প্রবীণ অনেক নেতাদের নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাবেন শেখ হাসিনা।
এছাড়াও রমজানে রাজনীতিতে এসে মায়ের কাজকে অনেকটুকু এগিয়ে দিয়েছেন পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, যিনি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করছেন। গত নির্বাচনে জনমানস হরণ করা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্লোগানসহ জয় এনে দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহার এবং আধুনিক প্রচার-প্রচারণার কৌশলের নেপথ্যের অন্যতম কারিগর বলে মনে করা হয় জয়কেই।
নিজ পুত্রকে রাজনীতির মাঠে কাছে পেয়ে তাই শেখ হাসিনার মনোবলও এখন অনেক চাঙ্গা। ঈদের আগ মুহূর্তে জয় ও তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ও নিজের অন্যতম নির্বাচনী এলাকায় ঘুরেও এসেছেন তিনি।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণার জন্য আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলো আলাদা আলাদা টিম করবে।
আওয়ামী লীগের টিম গঠিত হবে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে। টিমগুলোর দ্বায়িত্বে থাকবেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র ও দায়িত্বশীল নেতারা। তাদের সমন্বয়ে এসব টিম গঠন করা হবে। প্রচারণার ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এসব টিম পুরো দেশে কাজ করবে।
মসনদ ধরে রাখতে দলীয় এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপনেরও নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি, জামায়াত এবং হেফাজতের অপপ্রচারকে বেশ আমলে নিয়েছেন হাসিনা। বিএনপি-জামায়াতসহ হেফাজতের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামছে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপিও।
সৈয়দ আশরাফ জানান, ঈদের পর বিভিন্ন এলাকা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। এ সময় বিভিন্ন জনসভায় বিএনপি-জামায়াত, হেফাজতের বিভিন্ন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরবেন তিনি।
আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের পর পুরো মাস জুড়ে টানা কর্মসূচি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেও।




