প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের নামে কোনো কিছু হোক তা চান না মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘এক্ষেত্রে তিনি ঘোরতর আপত্তি দেন। এরপর বলেন, ‘চট্টগ্রামের সিটি মেয়র সহ অন্যরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ‘‘একটি জীবন রক্ষাকারী উপাদানের প্রকল্পের সঙ্গে আপনার নাম যাচ্ছে, এতে আপনি সম্মতি দিন’’-এমন অনুরোধের পর তিনি চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকল্পের নাম ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’ করাতে রাজি হন। রোববার চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীন রাঙ্গুনীয়ার পোমরায় নির্মিত পানি শোধনাগারটির ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’ নামকরন নিয়ে বলতে গিয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী। এদিন সকালে তিনি এই প্রকল্প পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী।
গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে এই প্রকল্প। আগামী মাসের যেকোন তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই প্রকল্প উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এই প্রকল্প থেকে দৈনিক ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে ওয়াসা।
শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’ প্রকল্পের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যদের মধ্যে সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী স্থানীয় সাংসদ হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার এস এম নজরুল ইসলাম, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ সহ বিভিন্ন পর্ষদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ। এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পানি জীবন দিতে পারে, পানি আবার জীবন হরণও করতে পারে। তাই কোনো প্রকার জীবানুমিশ্রিত পানি যাতে সরবরাহ করা না হয় সেদিক সতর্ক থাকতে হবে। এরকম হলে চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পানি দূষণযুক্ত রেখে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িত কেউ যাতে এক্ষেত্রে কোনো ধরণের গাফেলতি না করেন। তিনি এই প্রকল্প স্থাপনে সহযোগিতা করায় রাঙ্গুনিয়াবাসীকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, প্রকল্প হয়েছে রাঙ্গুনিয়ায় কিন্তু পানি পাচ্ছে শহরের মানুষ। বলতে গেলে রাঙ্গুনিয়াবাসীর বদন্যতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে রাঙ্গুনিয়ায়ও নগর সুবিধা গড়ে উঠলে এই প্রকল্প থেকে এই উপজেলার মানুষও পানি পাবে।
আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসের যে কোন তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে রাজি করিয়েছি। ফেব্রুয়ারি মাসের যেকোন একদিন এটির উদ্বোধন করবেন তিনি। নগরবাসীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে জাইকার অর্থায়নে ২০০৬ সালে এ প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। ২০১২ সালের মধ্যে এ প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় কাজ শুরু হয় ২০১০ সালে। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা জটিলতায় তিন দফা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে অবশেষে চলতি বছরের নভেম্বরে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করে ওয়াসা। ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নভেম্বর মাস থেকে চালু হওয়া এই প্রকল্পের পানি সরাসরি পানযোগ্য বলে দাবি করছে ওয়াসা। তাদের মতে কর্ণফুলী থেকে সংগৃহীত এসব অপরিশোধিত পানি কয়েক ধাপে পরিশোধনের পর হয়ে যাচ্ছে সরাসরি পানযোগ্য।




