রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনবাল্যবিবাহ নিরোধ আইন এর বিশেষ বিধান বাতিলের দাবীতে সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন এর বিশেষ বিধান বাতিলের দাবীতে সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

“প্রস্তাবিত  বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ১৮’র সাথে কোন শর্ত নয় ” বাল্য বিবাহ বন্ধে  বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’২০১৬ এর বিশেষ বিধান  বাতিলের দাবীতে  আজ বিকাল ৩:০০ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্ত্বরে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ও নারী নির্যাতন রোধে চট্টগ্রাম জেলা কমিটির উদ্যোগে  সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত সমাবেশ ও মানববন্ধনে জানানো হয় যে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬ ( খসড়া) ইতোমধ্যে মন্ত্রীপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এটি একটি নতুন আইন যা বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ কে প্রতিস্থাপন করবে। এই আইনের মাধ্যমে বাল্যবিয়ের শাস্তিতে কঠিনতর করা হয়েছে, বাল্যবিয়েতে যেকোনো পক্ষ অথবা উভয় পক্ষ এবং অভিভাবকরা যারা জেনেশুনে অপ্রাপ্ত বয়সী শিশুর বিয়ে দেবেন, তাদের শাস্তির অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদন্ডও সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা জরিমানা রাখা হয়েছে।বাংলাদেশের মেয়েশিশুর অধিকার রক্ষায় এ আইনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইনটিতে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখা হয়েছে ।  কিন্তু একই সঙ্গে  আইনটিতে একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে “বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে বিয়ে হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না”।এই বিশেষ বিধানের আওতায় কোনো অপ্রাপ্ত বয়সী মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়লে, তার সম্মান রক্ষার নামে তাকে বিয়ে দেওয়া যাবে। অপ্রাপ্ত বয়সী মেয়েদের বিয়েকে আইনের মাধ্যমে বৈধতার সুযোগ দেওয়া হলে তা হবে আইন করে শিশু ধর্ষণ এর সামিল। তাছাড়া এই বিধানের সুযোগ নিয়ে ধর্ষক ও নারী উত্তক্তকারী বিয়ের মাধ্যমে অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে।বাংলাদেশের বাল্যবিয়ের হার পৃথিবীর অষ্টম সর্বোচ্চ। এই বিশেষ বিধান একটি মেয়েকে ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটের’ দোহাই দিয়ে খুব কম বয়সে, এমনকি ১০ থেকে ১২ বছর বয়সে বাধ্য করতে পারে। যা বাল্যবিয়ের পরস্থিতি আরও নাজুক করবে।বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে প্রশংসনীয় অগ্রগতি করেছে, যা আমাদের বর্তমান সরকারের নারী ক্ষমতায়নে অটল প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এই অগ্রগতির কৃতিত্ব অনেকাংশে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার, যিনি উন্নয়নের যাত্রায় দৃশ্যমান শক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তিনিই পারেন এই আইনটি পরিবর্তন করতে, যা আগামী সংসদ অধিবেশনে পাশ হবে। তাই এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি  হস্তক্ষেপ কামনা করছি । নারী নির্যাতন রোধে চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আহবায়ক ও ইলমার প্রধান নির্বাহী  জেসমিন সুলতানা পারু’র সভাপতিত্বে মমতা পিপিএইচপি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যাবস্থাপক কামরুন নাহার পারভীন  এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মমতার পরিচালক সমন্বয় স্বপ্না তালুকদার ,কবি অভিক ওসমান, বিশিষ্ঠ পরিবেশবাদী সংগঠক অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের (বিবিএফ) এর প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়–য়া , আইএসডির প্রধান নির্বাহী ও ক্যাব, চট্টগ্রামের সভাপতি মোহাম্মদ নাজের হোসাইন, ,বি.এন.পি.এস এর  চট্টগ্রাম সমন্বয়কারী শরীফ চৌহান ,বনফুলের প্রধান নির্বাহী রিজিয়া বেগম, যুগান্তরের প্রধান নির্বাহী ইয়াসমিন পারভীন, , বিশিষ্ঠ লেখক ও প্রাবন্ধিক সাইদুল আরেফিন, পার্কের প্রধান নির্বাহী আলাউদ্দিন, ঘাসফুলের কো অর্ডিনেটর জোবাইদুর রশীদ, সিআরসিডির প্রধান নির্বাহী কাজী ইকবাল বাহার সাবেরী, , অপারেজেয় বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মাহাবুবুল আলম, ইপসার ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম, বিটার প্রতিনিধি মাহফুজা নাসরীনব্র্যাকের প্রতিনিধি নাঈমুল ইসলাম । চট্টগ্রাম জেলায় নারী নির্যাতন রোধে চ্টগ্রাম জেলা কমিটি(ঝঠঅড) এর সমন্বয়ে অনুষ্টিত এই সমাবেশ ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন মমতা, ইলমা, ইপসা , ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম (বিবিএফ), বিটা, ব্র্যাক, পার্ক, মাইশা, বনফুল, ঘাসফুল, ওডেব, আইএসডি, উৎস, দৃষ্টি, যুগান্তর ,ডি.এস.কে, এস.ও,এস শিশুপল্লী, যুগান্তর,জাগো ফাউন্ডেশান সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বৃন্দ অংশগ্রহন করেন .।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ