নজিরবিহীন নিরাপত্তায় উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে আটটায় চট্টগ্র্রামের মিডিয়াপাড়া খ্যাত জামালখানের ঐতিহ্যবাহী খাস্তগীর স্কুলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীবিহীন এ নির্বাচনে স্বাধীনতা চিকিৎসক (স্বাচিপ) পরিষদভুক্ত চিকিৎসকদের দুটি পৃথক প্যানেল নগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতারা আশীর্বাদ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কেন্দ্রের প্রধান ফটকের ভেতরে দুই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান ও ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী ভোটারদের স্বাগত জানাচ্ছেন।
ভোটকেন্দ্রের বাইরে জামালখানের এমএ হাশেম চত্বর থেকে শুরু করে পুরো এলাকা ডিজিটাল রাতারাতি ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। দূরদূরান্ত থেকে প্রাইভেট কার, জিপ নিয়ে নবীন-প্রবীণ চিকিৎসকরা ভোট দিতে আসছেন। করমর্দন, কোলাকুলি আর শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন তারা। হলুদ আর নীল ক্যাপ, টিশার্ট পরে দুই পরিষদের সমর্থকরা ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ হাতে গুঁজে দিচ্ছেন প্রার্থীর ছবিসহ লিফলেট। কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সতর্ক অবস্থায় আছেন কয়েকশ র্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডা. শাকেরা ভোট দিতে আসেন নবজাতককে কোলে নিয়ে। তার মুখে হাসি। দুই প্যানেলের সমর্থক ও কর্মীরা ঘিরে ধরেন তাকে। জায়গা করে দেন লাইনের অগ্রভাগে।
ডা. শাকেরা জানান, ছোট্ট বাবুটা কোলে নিয়ে সাতসকালে চলে এসেছি যাতে আমার ভোট আমি দিতে পারি। সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। অনেক স্যারদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সহপাঠী, সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমি খুব খুশি। ভোটাররা জানিয়েছেন, বিএমএর চট্টগ্রাম শাখার ইতিহাসে প্রথম কার্যালয়ের বাইরে কোনো বড় পরিসরে ভোট গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, একজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন এবং ডজনখানেক ক্লোজসার্কিট (সিসি) ক্যামেরা থাকায় তারা স্বস্তিবোধ করছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন মজুমদার জানান, নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে এবার খাস্তগীর স্কুলে বিএমএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো মূল্যে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ ও ফল প্রকাশ করা হবে। তিনি জানান, ৪ হাজার ৪৯২ জনের নাম আছে ভোটার তালিকায়। সে হিসেবে ৩২টি কক্ষে (স্টেশন) পর্যাপ্ত বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ৯৬ জন পোলিং অফিসার ও ৬৪ জন এজেন্ট ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করছেন।
ডা. মুজিব-ডা. ফয়সাল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডা. মো. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী বলেন, ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই শত শত ভোটার কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। দূরদূরান্ত থেকে ভোটাররা আসছেন। প্রাণবন্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। তিনি জানান, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। একজন ভোটার কেন্দ্রীয় বিএমএ কার্যনির্বাহী কমিটির ৪৩টি, কাউন্সিলর পদে ৪৪টি আর বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির ২৩টি পদে মিলে মোট ১১০টি ভোট দেবেন। ভোটার তালিকায় মৃত্যুজনিত এবং বদলিজনিত কারণে ৪৫জন কম ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ডা. নাসির-ডা. মিনহাজ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমানকে সকাল সাড়ে আটটা থেকে খাস্তগীর স্কুলের ভেতরে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে দেখা গেছে।
তিনি বলেন, নজিরবিহীন নিরাপত্তায় এবার ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের বিজয়। চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য আমাদের ফলপ্রকাশ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকতে হবে। এখনো পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।




