বিডি সময় প্রতিবেদক
সরকারের নানামুখী ‘ষড়যন্ত্র, জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের’ প্রতিবাদে সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। এরপরও সরকার এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরে না আসলে এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছে দলটি।রবিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এই কর্মসূচির কথা জানান।রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, দেশবাসী যখন পবিত্র রমযান মাসে এক পবিত্র পরিবেশে রোযা রাখছে, তখন সরকার তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড এবং দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে তাদের উপর চরম জুলুম করেছে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘আসন্ন ঈদের পরে তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় কার্যকর করার’ ঘোষণা দিয়ে কার্যত তার ইচ্ছা বাস্তবায়নে ঈদের পূর্বেই ফাঁসির রায় দিতে পরোক্ষভাবে আদালতকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আর পবিত্র রমযান মাসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সরকারের পরিকল্পনায় ও তাদের নির্দেশিত ছকে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে।জামায়াতের এ ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জনগণের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী ঈদের পর কোনো রায় কার্যকর করতে হলে ঈদের পূর্বেই কোনো না কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করতে হবে। দেশবাসী অবগত আছেন, আব্দুল কাদের মোল্লার মামলা মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে রায়ের অপেক্ষায় আছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটাতে হলে কাদের মোল্লার মামলার রায় অবশ্যই ঈদের আগে ঘোষাণা করতে হবে।তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী রায় কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে মূলত আদালতকে ঈদের পূর্বেই ফাঁসির রায় দেয়ার কথাই বুঝিয়েছেন। সরকারের এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র দেশবাসী কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। তাই দেশের জনগণ সরকারের এ ধরনের ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।বিবৃতিতে জামায়াতের এ শীর্ষনেতা অভিযোগ করে বলেন, রমজানের পবিত্রতা ও ধর্মীয় পরিবেশ বিঘ্নিত করে সরকার গণহত্যা, গণনির্যাতন ও গণগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। এই রমজান মাসেই সরকার জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ১০ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। এছাড়া গ্রেফতার করেছে প্রায় ৬ শতাধিক। আর পুলিশের গুলি ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক নেতা-কর্মী।রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকারের সকল জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন, গণগ্রেফতার, গণহত্যা ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ফাঁসির রায় কার্যকর করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আমি সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি।’ঘোষিত এ কর্মসূচি সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।সরকারকে হূঁশিয়ার করে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার বিক্ষোভ কর্মসূচির পরও রমজানের পবিত্রতা ও ধর্মীয় পরিবেশকে বিঘ্নিত করে জামায়াতের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করা হলে হরতালসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে আমরা বাধ্য হব।’




