চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতা-কর্মীদের ডাকা ছাত্রধর্মঘটে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে মিছিল হয়েছে। পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেটে অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই খোলা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস, পরীক্ষা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। ধর্মঘট চলাকালে শাটল ট্রেনে হামলার ঘটনায় ট্রেনের চালক ও পুলিশের একজন সদস্য আহত হয়েছেন।
গত সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে বিক্ষোভ করে আসছেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতা-কর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রধর্মঘট আহ্বান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে শিক্ষকদের বহনকারী কোনো বাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরে যেতে পারেনি। সকাল পৌনে আটটার দিকে নগরের ঝাউতলা স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী শাটল ট্রেন আটকে দেন তাঁরা। পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা চালককে ট্রেন থেকে নামিয়ে আটকে রাখেন। ঘণ্টা খানেক পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ট্রেনটি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাত্রা করে। নগরের ফরেস্ট গেট এলাকায় ট্রেনটিকে আবার বাধা দেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরাও পাল্টা ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে পুলিশের সদস্য জাকির হোসাইন ও ট্রেনচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান আহত হন। পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ট্রেনের কাচ ভেঙে যায়। পরে আর শাটল ট্রেন চলেনি।
চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ঢাকায় ডেকে পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আন্দোলনকারী নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।




